কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকার যুবক ও যুবতীদের স্বাবলম্বী করার জন্য নানা প্রকল্প গ্রহণ করেছে। তবে স্বাবলম্বী ও আত্মনির্ভরশীল হওয়ার জন্য যুবক ও যুবতীদের মানসিক প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে। তবেই তারা লক্ষ্যে পৌঁছে যাবে। সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা মন্ত্রী টিঙ্কু রায় আজ মেলারমাঠস্থিত পশ্চিম জেলা সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা পরিদর্শকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ২৫ জন যুবক ও যুবতীর মধ্যে সেলাই মেশিন বিতরণ করে একথা বলেন। এই কার্যালয়ের উদ্যোগে এই ২৫ জন যুবক ও যুবতীকে ১০ দিনব্যাপী সেলাইর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। নেশামুক্ত ভারত অভিযানে আজ এই সেলাই মেশিনগুলি প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করে সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা মন্ত্রী টিঙ্কু রায় বলেন, দেশে বস্ত্র শিল্পের এক বড় বাজার রয়েছে। আমাদের রাজ্যে প্রায় ৪০ ধরণের খেলাধুলার জন্য বহু টাকার খেলার পোশাক বর্হিরাজ্য থেকে ক্রয় করতে হয়। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এই কারিগররা এই পোশাকগুলি তৈরী করলে তারা এখানেই বাজারজাত করতে পারবেন। এতে তাদের আর্থিক ও সামাজিক বুনিয়াদ সুদৃঢ় হবে। তিনি বলেন, রাজ্য সরকার নারী সশক্তিকরণে অগ্রাধিকার দিয়েছে। বর্তমানে রাজ্যে ৫০ হাজারের বেশি স্বসহায়ক দল রয়েছে। অনেক লাখপতি দিদি রয়েছেন। সেলাই সহ অন্যান্য স্বউদ্যোগী ক্ষেত্রে দক্ষতা অর্জন করলে আপনা আপনি তারা নিজ পায়ে দাঁড়াতে পারবে। নেশার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজ্য সরকার নেশামুক্ত রাজ্য গড়ার জন্য চ্যালেঞ্জ নিয়ে কাজ করছে। যারা নেশা করছে তাদেরকে নেশামুক্ত করতে হবে। এ কাজে শুধু রাজ্য সরকার নয়, প্রতিটি পরিবারকে এগিয়ে আসতে হবে। এজন্য সংকল্প গ্রহণ করতে হবে। তিনি বলেন, নেশা আসক্তদের চিকিৎসার জন্য বিশ্রামগঞ্জে ১০০ শয্যার একটি নেশামুক্ত হাসপাতাল গড়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া বক্তব্য রাখেন পশ্চিম ত্রিপুরা জিলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাধিপতি বিশ্বজিৎ শীল ও সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা দপ্তরের অধিকর্তা তপন কুমার দাস। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা দপ্তরের পশ্চিম জেলার পরিদর্শক দীপক লাল সাহা। উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরা রাজ্য শিশু অধিকার সুরক্ষা কমিশনের চেয়ারপার্সন জয়ন্তী দেববর্মা, পশ্চিম জেলার অতিরিক্ত জেলাশাসক অসিত কুমার দাস প্রমুখ। অনুষ্ঠানে নেশামুক্তির বিষয়ে প্রতিজ্ঞা গ্রহণ করা হয়। অনুষ্ঠানে ক্রীড়ামন্ত্রী সহ অতিথিগণ ২৫ জন যুবক ও যুবতীর হাতে একটি করে সেলাই মেশিন ও শংসাপত্র তুলে দেন। পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা প্রশাসন ও সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা দপ্তরের পশ্চিম জেলা পরিদর্শকের যৌথ উদ্যোগে এই অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়।