সোমবার ত্রিপুরা ইউনিভার্সিটির শারীর শিক্ষা বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত হয়েছে দুদিন ব্যাপী যোগ জীবন স্বাস্থ্য এবং সুখ শীর্ষক এক সেমিনারের। আনুষ্ঠানিকভাবে প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে এই সেমিনারের উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী ডক্টর মানিক সাহা। এই অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরা ইউনিভার্সিটির উপাধ্যক্ষ গঙ্গাপ্রসাদ প্রসেইন সহ অন্যান্যরা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে মুখ্যমন্ত্রী নিজের বক্তব্যে বলেন, যোগা মানুষের আধ্যাত্মিকতার বিকাশ ঘটায়। জীবন জিজ্ঞাসার উত্তর জানতে সাহায্য করে যোগা। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্যোগে একুশ জুন বিশ্ব যোগা দিবস হিসেবে গোটা বিশ্বে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। ত্রিপুরায় নতুন প্রজন্মের কাছে যোগা যথেষ্ট জনপ্রিয়। যোগাতে রাজ্যের ছেলেমেয়েদের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার মঞ্চেও দেখা যায়। এবং সেখানে তাদের যথেষ্ট সাফল্য রয়েছে। সম্মানীয় পুরস্কারও পেয়েছে বেশ কয়েকজন ছাত্র-ছাত্রী। যোগাকে ভারতবর্ষে জনপ্রিয় করে তুলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শুধু ভারতবর্ষেই নয় যোগাকে বিশ্বের দরবারে তুলে এনেছেন তিনি। তাই চলতি মাসের তৃতীয় রবিবার মন কী বাত অনুষ্ঠানে তিনি আন্তর্জাতিক যোগা দিবস উপলক্ষে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেছেন। ২১ জুন এই যোগাকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরার জন্যই তিনি আমেরিকা সফর করছেন। কিন্তু প্রথম দিকে মুসলিম দেশ গুলি আন্তর্জাতিক যোগা দিবস নিয়ে কিছুটা আপত্তি তুলেছিল। তবে তারা এখন বুঝে গেছে যোগা ধর্মীয় আবেগের সাথে যুক্ত নয়। তাই এখন এই মুসলিম দেশগুলোও ২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগা দিবসকে মান্যতা দিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী এদিন আরো বলেন,ত্রিপুরা ইউনিভার্সিটি থেকে বিভিন্ন বিভাগের ফ্যাকাল্টি সহ আরো বেশ কয়েকটি সমস্যা নিয়ে যে দাবি-দাওয়া রাখা হয়েছে সেটার দিকে অবশ্যই মনোযোগী হবে সরকার। কারণ ত্রিপুরা সরকার চায়, আর পাঁচটা ইউনিভার্সিটির মত যাতে ত্রিপুরা ইউনিভার্সিটি না হয়। ত্রিপুরা ইউনিভার্সিটির সুনাম বৃদ্ধিতে রাজ্য সরকার আন্তরিক। তবে এক্ষেত্রে দায়িত্ব নিতে হবে ইউনিভার্সিটি পরিচালক কর্তৃপক্ষকেও। এ বিষয়ে ত্রিপুরা ইউনিভার্সিটির উপাধ্যক্ষ্যের নেতৃত্বে ত্রিপুরা ইউনিভার্সিটি আগামী দিনে তার নির্দিষ্ট কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে বলে মনে করছেন মুখ্যমন্ত্রীর ডক্টর মানিক সাহা। এক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের সহযোগিতা অবশ্যই পেয়ে যাবেন উপাধ্যক্ষ। তিনি বলেন, ত্রিপুরাতে আরো কয়েকটি ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এর মধ্যে দুটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইতিমধ্যেই রাজ্যে কাজকর্ম শুরু করেছে। এছাড়া ত্রিপুরায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ন্যাশনাল ল ইউনিভার্সিটি। ত্রিপুরায় প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে ন্যাশনাল ফরেনসিক ইউনিভার্সিটি। ইতিমধ্যেই রাজ্যে ডেন্টাল কলেজ চালু হয়েছে। ত্রিপুরায় ইতিমধ্যেই দুটি মেডিকেল কলেজ রয়েছে। বেসরকারী প্রতিষ্ঠানও ত্রিপুরায় মেডিকেল কলেজ তৈরি করতে আগ্রহী হয়েছে। রাজ্যে উচ্চশিক্ষা জগতে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হচ্ছে। তাই আগামী দিনে ত্রিপুরায় এডুকেশন হাব তৈরি হওয়াটা শুধু সময়ের প্রতীক্ষা বলে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী ডক্টর মানিক সাহা।



