২০১৪ সালের ভারতের সাথে বর্তমান ভারতবর্ষের বিস্তর ফারাক।২০১৪ সালের আগে ভারত ভ্রষ্টাচারী দেশ হিসেবে পরিচিত পেয়েছিল বহি:র্বিশ্বে। কিন্তু বিগত নয় বছরে ভারতের মাথা থেকে এই কলঙ্ক মুছে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শনিবার শান্তিরবাজার স্কুল মাঠে আয়োজিত জনসভায় এমনটাই বললেন ভারতীয় জনতা পার্টির সর্বভারতীয় সভাপতি জগত প্রকাশ নাড্ডা।শনিবার পূর্বনির্ধারিত ঘোষণা অনুযায়ী শান্তিরবাজার স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত হলো ভারতীয় জনতা পার্টির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডার জনসভা। প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদির নয় বছর পূর্তি উপলক্ষে গোটা দেশেই ভারতীয় জনতা পার্টির তরফ থেকে এই নয় বছরের উন্নয়নমূলক কাজ কর্মগুলি জনসমক্ষে প্রচারের আলোয় নিয়ে আসার কর্মসূচি গ্রহণ করেছে দল। এক মাস ধরে চলবে এই প্রচার কর্মসূচী। বিশেষ করে বিজেপি শাসিত রাজ্য গুলিতে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের তরফ থেকে জোরদার প্রচার শুরু হয়েছে। ত্রিপুরাতে বিগত ১৭ দিন ধরে এই কর্মসূচির অংগ হিসেবে চলছে বিভিন্ন ধরনের প্রচার প্রক্রিয়া। এদিনের শান্তিরবাজারের এই জনসভাও এই কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত। এদিনের এই জনসভাতে দলের সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী ডক্টর মানিক সাহা, রাজ্যসভার সাংসদ বিপ্লব কুমার দেব, প্রদেশ বিজেপি সভাপতি রাজীব ভট্টাচার্য, সাংসদ রেবতী ত্রিপুরা এবং প্রতিমা ভৌমিক সহ মন্ত্রিসভার বেশ কয়েকজন সদস্য সহ অন্যান্য নেতৃত্বরা। পরে নিজের ভাষণে জেপি নাড্ডা বলেন বিগত ৯ বছরে ভারতের রূপরেখা পালটে গেছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে। ২০১৪-র আগে ভ্রষ্টাচারমূলক দেশগুলোর মধ্যে ছিল ভারতের নাম। ভ্রষ্টাচারী দেশ বলা হতো ভারতকে।সমস্ত কাজেই ছিল দূর্নীতি। ইউপিএ সরকার সবজায়গাতে শুধুমাত্র ভ্রষ্টাচার ও দূর্নীতিমূলক কাজই করে গেছে। কিন্তু ২০১৪ সালের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভারতবর্ষকে ভ্রষ্টাচার থেকে মুক্ত করে দূর্নীতিমুক্ত শক্তিশালী দেশ হিসেবে ভারতকে গড়ে তুলেছেন। ভারতকে নতুন পরিচিতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি আরও বলেন, ভ্রষ্টাচার ও পরিবার বাদ থেকে দেশকে বের করে বিকাশবাদের দিকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। পাশাপাশি তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে শুধুমাত্র সরকারই নয়, সরকারের কাজ করার সংস্কৃতিও পালটে গেছে বিগত ৯ বছরে। এছাড়াও তিনি প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে উন্নয়ন মূলক বিভিন্ন কাজের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, একটা সময় ছিল যখন প্রতিদিন শুধুমাত্র ১২ কিলোমিটার করে জাতীয় সড়কের কাজ হতো কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বর্তমানে প্রতিদিন ২৯ কিলোমিটার করে জাতীয় সড়ক গড়ার কাজ হচ্ছে।এইভাবেই প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বিগত ৯ বছরে ৫৪ হাজার কিলোমিটার জাতীয় সড়ক গড়ে উঠেছে। আর ত্রিপুরায় বিগত ৬ বছরে ৩০০ কিলোমিটার জাতীয় সড়ক গড়ার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়াও রেল পথ ও বিমানবন্দর সহ অন্যান্য বিভিন্ন নির্মান কাজ সংক্রান্ত তথ্যও তুলে ধরেন নিজের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে। তিনি বলেন, যে জায়গায় দাঁড়িয়ে ৭০ বছরে শুধুমাত্র ৭৪ টি বিমানবন্দর গড়ে উঠেছিল, সেখানে নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে বিগত ৯ বছরে আরও ৭৪টি বিমানবন্দর গড়ার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তাছাড়া গ্রামগুলোকে একসূত্রে বাধার জন্য ৩ লাখ ২৮ হাজার সড়ক গড়ে উঠেছে। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ভারতবর্ষ আত্মনির্ভর হয়ে উঠেছে। আর্থিক দিক থেকেও ভারত দশম স্থান থেকে পঞ্চম স্থানে উঠে এসেছে। এছাড়াও দেশ সহ ত্রিপুরার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের তথ্য তুলে ধরেন নিজের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে। তাছাড়া এদিন নিজের বক্তব্যের মাধ্যমে কংগ্রেস ও সিপিআইএম-কে তীব্র ভাষায় কটাক্ষ করেন বিজেপি সর্বভারতীয় সভাপতি জে.পি নাড্ডা। তিনি বলেন, তারা যেখানেই দাঁড়ায় সেখানেই শুধু গরিবী আর বেকারত্ব শুরু হয়ে যায়। সেই বেকারত্ব থেকে দেশকে বের করে রোজগারের ব্যবস্থা করার মাধ্যমে দেশকে পঞ্চম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হিসেবে গড়ে তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, ভারতবর্ষ পৃথিবীর সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল অর্থব্যবস্থা। আর্থিক ব্যবস্থাকে দ্রুততার সঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া জিডিপি’র দেশ হল এই ভারতবর্ষ। ভারতবর্ষ জিডিপি’র দিক দিয়ে ৮.৭ শতাংশে দাঁড়িয়ে আছে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এবং আর্থিক দিক দিয়ে যদি পৃথিবীর দৃষ্টিতে কোনো উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করে থাকে, তবে তা শুধুমাত্র ভারতবর্ষ। এছাড়াও এদিন সাধারণ মানুষের উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উন্নয়নমূলক বিভিন্ন প্রকল্পের সফলতা তুলে ধরেন তিনি।



