যোগাসনের মতো মহান ভারতীয় ঐতিহ্যকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা তরুণ প্রতিভাদের একত্রিত হওয়া শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়, বরং এটি ভারতের সাংস্কৃতিক শক্তি, শারীরিক সক্ষমতা ও মানসিক দৃঢ়তার পরিচয় বহন করে। রাজ্যের জন্য আজ একটি গর্বের দিন এবং আজকের এই আয়োজন আগামী প্রজন্মের কাছে শৃঙ্খলা, আত্মনিয়ন্ত্রণ ও উৎকর্ষতার বার্তা বহন করবে। আজ আগরতলা নেতাজী সুভাষ রিজিওনাল কোচিং সেন্টারে (এনএসআরসিসি) ৬৯তম ন্যাশনাল স্কুল গেমস ২০২৫-২৬ এর অনূর্ধ্ব-১৭ বালক বিভাগের যোগাসন প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা) মানিক সাহা একথা বলেন। ত্রিপুরা স্কুল স্পোর্টস বোর্ড, যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া দপ্তর ও স্কুল গেমস ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ার যৌথ উদ্যোগে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এই জাতীয় স্তরের ক্রীড়ার আয়োজন ত্রিপুরা রাজ্যের ক্রীড়া ইতিহাসে এক গৌরবোজ্জ্বল ও স্মরণীয় অধ্যায় হিসাবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। মুখ্যমন্ত্রী রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ক্রীড়াবিদ, কোচ ও কর্মকর্তাদের শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন। ত্রিপুরা রাজ্যেকে অনূর্ধ্ব-১৭ বালক যোগাসন বিভাগে ৬৯তম ন্যাশনাল স্কুল গেমস আয়োজনের দায়িত্ব দেওয়ার জন্য মুখ্যমন্ত্রী স্কুল গেমস ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া (এস.জি.এফ.আই.)-কে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, এই ধরনের জাতীয় পর্যায়ের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা শুধু প্রতিযোগিতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি ভারতের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধাম। যোগাসন দেহ, মন ও আত্মার মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে এবং শারীরিক সক্ষমতার পাশাপাশি মানসিক দৃঢ়তাও গড়ে তোলে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক যোগা দিবস সারা বিশ্বে ২১ জুন পালিত হয়ে আসছে। ২০১৪ সালে জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ইতিবাচক উদ্যোগের মাধ্যমে ভারতের যোগা আজ বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি পেয়েছে। যোগ ব্যায়াম বিশ্ববাসীর কাছে পরিচিত করা ভারতের এক অমূল্য উপহার এবং যা আজ সারা বিশ্বে সমাদৃত। তিনি বলেন, এই প্রতিযোগিতায় দেশের ৩৫টি রাজ্য থেকে প্রায় ৩৫০ জন ক্রীড়াবিদ অংশগ্রহণ করবেন। এই তরুণ প্রতিভাদের সমাবেশ ভবিষ্যতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে দেশের এবং রাজ্যের মুখ উজ্জ্বল করবে বলে মুখ্যমন্ত্রী আশাব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ত্রিপুরা রাজ্যে জাতীয় স্তরের অনেক ক্রীড়ার আয়োজন করা হয়েছে। প্রতিযোগিতায় ত্রিপুরার ছেলেমেয়েরা উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে।
তিনি আরও বলেন, যোগাসন এবং খেলাধুলা শিশুর সার্বিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। খেলাধুলার মাধ্যমে শৃঙ্খলা, অধ্যবসায়, দায়িত্ববোধ ও দেশপ্রেমের মতো মূল্যবোধ গড়ে উঠতে সহায়তা করে। রাজ্যের বর্তমান সরকারও ক্রীড়াক্ষেত্রের উন্নয়নে অত্যন্ত আন্তরিক। যোগার উন্নয়নেও রাজ্য সরকার নানাবিধ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় রাজ্যের ছেলেমেয়েরা সুনামও অর্জন করেছে। মুখ্যমন্ত্রী ৬৯তম ন্যাশনাল স্কুল গেমস যোগাসন প্রতিযোগিতার সর্বাঙ্গীন সফলতা কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া দপ্তরের মন্ত্রী টিংকু রায় বলেন, রাজ্যের বর্তমান সরকার ক্রীড়া মনোভাবাপন্ন। জাতীয় স্তরের এই প্রতিযোগিতা ত্রিপুরাতে আয়োজন রাজ্যের জন্য একটি গর্বের বিষয়। রাজ্যের বর্তমান সরকার ক্রীড়াক্ষেত্রের উন্নয়নে এবং ক্রীড়া পরিকাঠামোর উন্নয়নে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করছে। ইতিমধ্যে জাতীয় স্তরের অনেক খেলার আয়োজন ত্রিপুরাতে হয়েছে। রাজ্যের ছেলেমেয়েদের মধ্যে প্রতিভার অভাব নেই। তিনি আশা ব্যক্ত করেন ৬৯তম ন্যাশনাল স্কুল গেমস যোগাসন প্রতিযোগিতায় রাজ্যের অংশগ্রহণকারী প্রতিযোগীরা ভালো ফলাফল করবে।
ধন্যবাদসূচক বক্তব্যে ক্রীড়া দপ্তরের সচিব ড. পি. কে. চক্রবর্তী বলেন, যোগা আমাদের দেশের গৌরবময় ঐতিহ্য। যোগা আমাদের জীবনশৈলি পরিবর্তনে সহায়তা করে। আমাদের সঠিক রাস্তা দেখায়। ভারতের প্রায় প্রতিটি রাজ্য থেকে ক্রীড়া প্রতিযোগীদের আগমন এই প্রতিযোগিতাকে ভারতের বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের বার্তা বহন করে। রাজ্যের বর্তমান সরকার ক্রীড়ার উন্নয়নে নানাবিধ কর্মসূচি গ্রহণ করছে। রাজ্যের ছেলেমেয়েরাও রাজ্যে তথা জাতীয় স্তরে সুনাম অর্জন করছেন। তিনি প্রতিযোগিতার সার্বিক সফলতা কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ক্রীড়া দপ্তরের অধিকর্তা এল, ডার্লং, ক্রীড়া দপ্তরের যুগ্ম অধিকর্তা পাইমং মগ, অলিম্পিয়ান পদ্মশ্রী দীপা কর্মকার প্রমুখ।



