অন্ধকার থেকে আলোর পথে উত্তরণ, অশুভ শক্তির বিনাশ এবং শুভ শক্তির প্রতিষ্ঠার বার্তা নিয়ে প্রতিবছর পালিত হয় দীপাবলি। আলোর এই উৎসবকে কেন্দ্র করে সরকারি বাসভবনে আরক্ষা কর্মীসহ বিভিন্ন স্তরের মানুষের সঙ্গে দীপাবলির আনন্দ ভাগ করে নিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
দীপাবলি কেবল আলোকসজ্জা কিংবা উৎসবের আনন্দে সীমাবদ্ধ নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে গভীর আধ্যাত্মিক তাৎপর্য। ভারতীয় দর্শন ও ধর্মীয় বিশ্বাসে আলোকে জ্ঞান, পবিত্রতা, সত্য এবং আত্মিক জাগরণের প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অন্যদিকে অন্ধকারকে অজ্ঞানতা, নেতিবাচকতা ও অশুভের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। তাই প্রদীপ প্রজ্বালনের মধ্য দিয়ে মানুষের অন্তরের অন্ধকার দূর করে জ্ঞান, বিবেক ও শুভবোধের আলো জ্বালানোর বার্তাই বহন করে এই উৎসব। হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, দীপাবলির সঙ্গে ভগবান শ্রীরামের অযোধ্যায় প্রত্যাবর্তনের কাহিনি জড়িয়ে রয়েছে। দীর্ঘ বনবাস ও রাবণ বধের পর শ্রীরামের প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে অযোধ্যাবাসীরা প্রদীপ জ্বালিয়ে আনন্দ প্রকাশ করেছিলেন বলে প্রচলিত রয়েছে। আবার এই দিন দেবী লক্ষ্মীর আরাধনার মধ্য দিয়ে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করা হয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ধর্মীয় আচার ও স্থানীয় ঐতিহ্য অনুসারে দীপাবলি উদযাপিত হয়। এই আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক তাৎপর্যকে সামনে রেখেই সরকারি বাসভবনে উৎসবের আবহে আরক্ষা কর্মীসহ বিভিন্ন স্তরের মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন মুখ্যমন্ত্রী। আলোর উৎসবের মধ্য দিয়ে পারস্পরিক সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য, মানবিকতা ও ঐক্যের বার্তা ছড়িয়ে পড়ে অনুষ্ঠানে। দীপাবলির মূল শিক্ষা হলো—শুধু ঘর বা চারপাশ আলোকিত করাই নয়, নিজের অন্তরকেও জ্ঞান, সত্য, ভালোবাসা ও মানবিকতার আলোয় আলোকিত করা। সেই চিরন্তন বার্তাই প্রতিবছর নতুন করে স্মরণ করিয়ে দেয় আলোর এই উৎসব।



