আসন্ন পুরনিগম, পুরপরিষদ ও নগর পঞ্চায়েত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক লড়াই ক্রমশ জমে উঠছে। আগামী ২৭ নভেম্বর ভোটগ্রহণের দিন ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার প্রক্রিয়ায় গতি এসেছে। নির্বাচনী প্রস্তুতিতে একদিকে যখন শাসক বিজেপির প্রার্থী তালিকার অপেক্ষা, অন্যদিকে তখন বাম-কংগ্রেসের আসন সমঝোতার ভিত্তিতে নির্বাচনী ময়দানে নামার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। আগরতলা পুরনিগম নির্বাচনে কংগ্রেসের সঙ্গে সমঝোতা করেই লড়াই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বামফ্রন্ট। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সোমবার পুরনিগমের মোট ৫১টি আসনের মধ্যে প্রাথমিকভাবে ২৬টি আসনে বামফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দেন। বাকি আসনগুলিতে কংগ্রেসের প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে জানিয়েছেন বাম নেতৃত্ব। এদিন আগরতলার মেলার মাঠস্থিত সিপিআইএমের জেলা কার্যালয় থেকে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের একটি বড় মিছিল বের হয়। শহরের বিভিন্ন পথ পরিক্রমা করে মিছিলটি মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়। কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন সিপিআইএমের রাজ্য সম্পাদক তথা বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী। মিছিলকে ঘিরে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে নির্বাচনী উৎসাহ লক্ষ্য করা যায়।
মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জিতেন্দ্র চৌধুরী জানান, আসন্ন পুর নির্বাচনে বামফ্রন্ট ও কংগ্রেস ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। প্রাথমিক পর্যায়ে ২৬টি আসনে বামফ্রন্টের প্রার্থীরা মনোনয়ন জমা দিলেও আরও কয়েকটি আসনে দলের প্রার্থীরা মনোনয়ন জমা দেবেন। বাকি আসনগুলিতে কংগ্রেসের প্রার্থীরা লড়াই করবেন বলে তিনি জানান। কংগ্রেসের প্রার্থী তালিকা প্রকাশের বিষয়েও বক্তব্য রাখেন বিরোধী দলনেতা। তাঁর কথায়, কংগ্রেসের রাজ্য নেতৃত্ব দিল্লি থেকে ফিরে আসার পর তাদের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হবে। অর্থাৎ, আসন সমঝোতার ভিত্তিতে দুই দলের নির্বাচনী প্রস্তুতি এগিয়ে চললেও কংগ্রেসের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ এখনও বাকি। জিতেন্দ্র চৌধুরীর দাবি, রাজ্যে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যকে সামনে রেখেই বামফ্রন্ট ও কংগ্রেস একসঙ্গে এই নির্বাচনে লড়াই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, পুরনিগমের নির্বাচনী লড়াইয়ে ঐক্যবদ্ধ বিরোধী শক্তি হিসেবে নিজেদের তুলে ধরতে চাইছে দুই দল। অন্যদিকে, শাসক বিজেপি এখনও আগরতলা পুরনিগমের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেনি। ফলে একদিকে বাম-কংগ্রেসের আসন সমঝোতা ও মনোনয়ন জমার প্রক্রিয়া, অন্যদিকে বিজেপির প্রার্থী ঘোষণার অপেক্ষা—সব মিলিয়ে ২৭ নভেম্বরের পুরভোট ঘিরে রাজনৈতিক মহলে বাড়ছে জল্পনা ও তৎপরতা।



