উৎসবের মরশুমে রাজ্যের রেশন গ্রাহকদের বিনামূল্যে ময়দা, চিনি ও সুজি দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘিরে এবার বিতর্ক তুঙ্গে। বহু ন্যায্যমূল্যের দোকানে ময়দা ও সুজি পৌঁছালেও চিনির সরবরাহ এখনও সম্পূর্ণ না হওয়ায় সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ বাড়ছে। এই ইস্যুতে রাজ্য সরকারকে আক্রমণ করে চলেছে বিরোধী সিপিআইএমও। এরই মধ্যে চিনির সরবরাহ নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করলেন রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী। সোমবার নিজের সরকারি বাসভবন থেকে বিভিন্ন মহকুমার খাদ্য দপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করেন মন্ত্রী। পরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, উৎসব উপলক্ষে রাজ্যের প্রতিটি রেশন কার্ডধারীকে বিনামূল্যে দুই কেজি ময়দা ও এক কেজি চিনি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এপিএল কার্ডধারীদের বাদ দিয়ে অন্যান্য রেশন কার্ডধারীদের ৫০০ গ্রাম করে সুজি দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। চিনির সরবরাহে বিলম্বের কারণ ব্যাখ্যা করে মন্ত্রী বলেন, চিনি রাজ্যের বাইরে থেকে আনতে হয়। সেই কারণে এখনও সমস্ত চিনি রাজ্যে এসে পৌঁছায়নি। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে চিনি এসে পৌঁছালে বাকি ন্যায্যমূল্যের দোকানগুলিতেও তা সরবরাহ করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। একইসঙ্গে ময়দা ও সুজিও আগামী কয়েক দিনের মধ্যে রেশন গ্রাহকেরা সংগ্রহ করতে পারবেন বলে জানান খাদ্যমন্ত্রী।
চিনি ইস্যুতে বিরোধী সিপিআইএমের সমালোচনা করে সুশান্ত চৌধুরীর দাবি, বিরোধীরা এই বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। তাঁর বক্তব্য, বিগত সরকারের আমলে ন্যায্যমূল্যের দোকান থেকে বিনামূল্যে চিনি, ময়দা ও সুজি দেওয়ার এমন নজির দেখানো কঠিন। বর্তমান সরকার উৎসবের সময় সাধারণ মানুষের কথা মাথায় রেখেই এই উদ্যোগ নিয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তবে চিনির সরবরাহ নিয়ে সাধারণ গ্রাহকদের একাংশের অসন্তোষ এবং বিরোধীদের সমালোচনার মধ্যেই এখন নজর রয়েছে বাকি রেশন দোকানগুলিতে কবে এই পণ্য পৌঁছায়, তার দিকে।



