Wednesday, October 14, 2026
বাড়িখবররাজ্যত্রিপুরায় ১,৪৫২ জন স্নাতক শিক্ষককে নিয়োগপত্র প্রদান, শিক্ষার মানোন্নয়নে বড় পদক্ষেপ রাজ্য...

ত্রিপুরায় ১,৪৫২ জন স্নাতক শিক্ষককে নিয়োগপত্র প্রদান, শিক্ষার মানোন্নয়নে বড় পদক্ষেপ রাজ্য সরকারের

রাজ্যের বিদ্যালয়গুলিতে শিক্ষক-শিক্ষিকার ঘাটতি পূরণ এবং শিক্ষার গুণগত মান উন্নত করার লক্ষ্যে আরও এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করল ত্রিপুরা সরকার। বুধবার আগরতলার উপকণ্ঠে হাঁপানিয়ার আন্তর্জাতিক মেলা প্রাঙ্গণের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মোট ১,৪৫২ জন স্নাতক শিক্ষকের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডা. মানিক সাহা। নিয়োগপত্র প্রদান অনুষ্ঠানে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির জন্য ৭৬৬ জন এবং নবম ও দশম শ্রেণির জন্য ৬৮৬ জন শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে হলুদ খামে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হয়। বিদ্যালয় শিক্ষার পরিকাঠামো শক্তিশালী করা এবং ছাত্রছাত্রীদের কাছে শিক্ষার সুযোগ আরও প্রসারিত করার ক্ষেত্রে এই উদ্যোগকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। অনুষ্ঠানে উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডা. মানিক সাহা। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয় শিক্ষা দপ্তরের সচিব ড. মিলিন্দ রামটেকে। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন এসসিইআরটি, ত্রিপুরার অধিকর্তা লালনুনেমি ডারলং। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাধ্যমিক ও বুনিয়াদি শিক্ষা অধিকর্তা ড. সমিত রায় চৌধুরী।

রাজ্যে শিক্ষক নিয়োগের ধারাবাহিক উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এই নিয়োগপত্র প্রদান অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত টিচার এলিজিবিলিটি টেস্টের মাধ্যমে বুনিয়াদি শিক্ষা অধিকারের অধীনে মোট ৪,৮৭৯ জন শিক্ষক-শিক্ষিকাকে নিয়োগ করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৩,৭৭৫ জন স্নাতক শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং ১,১০৪ জন অস্নাতক শিক্ষক-শিক্ষিকা হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন। অন্যদিকে, মাধ্যমিক শিক্ষা অধিকারের উদ্যোগে ২০১৮-১৯ অর্থবর্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত বিভিন্ন পদে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী নিয়োগ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন ১,৪৭১ জন স্নাতক শিক্ষক-শিক্ষিকা, ১,৪১২ জন স্নাতকোত্তর শিক্ষক-শিক্ষিকা, ১৪৫ জন বিশেষ শিক্ষাবিদ বা স্পেশাল এডুকেটর এবং ১১৭ জন স্কুল লাইব্রেরিয়ান। শিক্ষা দপ্তরের এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিদ্যালয়গুলিতে শিক্ষক-শিক্ষিকার উপস্থিতি বাড়ানো, নিয়মিত পাঠদানের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং শিক্ষার্থীদের জন্য উন্নত শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তোলার উপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পর্যাপ্ত শিক্ষক থাকলে বিদ্যালয়গুলিতে পাঠদানের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগত চাহিদা পূরণ করা আরও সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। রাজ্য সরকার বিদ্যালয় শিক্ষার পরিকাঠামো উন্নয়ন, শূন্যপদ পূরণ এবং শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। বুধবার ১,৪৫২ জন স্নাতক শিক্ষকের হাতে নিয়োগপত্র প্রদান সেই প্রচেষ্টারই একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ। নতুন শিক্ষকরা বিদ্যালয়গুলিতে যোগ দেওয়ার পর রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থায় আরও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

16 − 1 =

- Advertisment -spot_img

জনপ্রিয় খবর

সাম্প্রতিক মন্তব্য