বাসুদেব ভট্টাচার্যী খোয়াই ১১ই অক্টোবর.……কৃষি মন্ত্রী রতন লাল নাথ এর উপস্থিততে কৃষকদের হাত ধরে রবিবার দুপুরে উদ্বোধন হলো উপ-অধিকর্তা কৃষি এবং উপ-অধিকর্তা উদ্যান ও ভূমি সংরক্ষণ এর দুটি নতুন বিল্ডিং এর , যা তৈরি করতে খরচ হয়েছে প্রায় ৪ কোটি টাকার কাছাকাছি। এই দিন এই দুটি বিল্ডিং এর উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষিমন্ত্রী রতনলাল নাথ। এছাড়া অনুষ্ঠানের মঞ্চে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন খোয়াই জিলা পরিষদের সভাধিপতি শ্রীমতি অপর্ণা সিংহ রায়, খোয়াই পুর পরিষদের চেয়ারম্যান দেবাশীষ নাথ শর্মা, খোয়াই জিলা পরিষদের সদস্য অনুকুল দাস , এস ,সি সাব কমিটির চেয়ারম্যান সমীর কুমার দাস, কৃষি উদ্যান ও কৃষি সংরক্ষণ দফতরের অধিকর্তা ফনি ভুষণ জমাতিয়া, কৃষি দপ্তরের মুখ্য বাস্তুকার স্বপন কুমার দাস, ও দপ্তরের কার্য নর্বাহী বাস্তুকার বীরেশ্বর দেববর্মা সহ অন্যান্যরা। এই অনুষ্ঠানের শুরুতে দুটি বিল্ডিং এর ফলক উন্মোচন ও ফিতা কাটার জন্য দুই জন কৃষককে দিয়ে বিল্ডিং এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন করান এবং এর পরই আনুষ্ঠানিকভাবে বিল্ডিংটির উদ্বোধন হয়। এরপর মঞ্চে এসে মন্ত্রী একজন মহিলা কৃষক এবং একজন পুরুষ কৃষককে মঞ্চে তুলে তাদের পাশে বসিয়ে তাদেরকে উত্তরীয় পরিয়ে সম্মানিত করেন, এবং এও বলেন বলেন কৃষকরা হল অন্নদাতা তাই তাদের সম্মান সবার আগে করতে হয় এই বলে তাদের পায়ের প্রণাম করলেন। এরপর দপ্তরের পক্ষ থেকে সবাইকে উত্তরীয় ও ফুলের তোড়া দিয়ে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়, এরপর একটি গাছের জল সিন্চনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সুভারম্ভ হয় । এই বিষয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এক সময় মন্ত্রী মঞ্চ থেকে নেমে দর্শকদের সামনে চলে যান এবং বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করে তার ব্যাখ্যা করেন সার্বিক উন্নয়নের বিষয় নিয়ে। কৃষি এবং কৃষকদের নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন আমরা দেবতাদের দেখতে পাইনা কিন্তু কৃষকরা হচ্ছে আসল দেবতা যারা আমার আপনার জন্য অন্য তৈরি করে এবং দেশের মানুষের মুখে অন্নের যোগান দেয়।তাই তাদেরকে সেবা করুন দেখবেন ঈশ্বরকে পেয়ে গেছেন। এবং ঈশ্বর ও বলেন গরিব অসহায় এবং কৃষক এই ধরনের মানুষ দেরকে সেবা করুন তাতে যেমন নিজের কল্যান হবে অন্যদিকে দেশের ও কল্যান হবে যদি কৃষকদের সাহায্য করেন।এরাই বেঁচে থাকার জন্য অন্য তৈরি করে রোদ, বৃষ্টি,ঝড়কে উপেক্ষা করে প্রতিনিয়ত মাঠে কাজ করে চলেছে।এর জন্য তিনি বলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন কৃষক হচ্ছে অন্যদাতা এদেরকে সান্মান করতে হবে এবং তিনি তাই করেন।তাইতো উনার মত একজন মানব প্রেমি এই ধরাতে জন্মায়নি বল প্রধানমন্ত্রীকে সন্মান করেন। বর্তমান সময়ে মানুষের উন্নয়ন হচ্ছে তাইতো প্রতিনিয়ত মানুষের গুণগত চাহিদা বাড়ছে।যেমন বিশুদ্ধ পানিয় জল চাই,গুনগত শিক্ষা ব্যবস্থা চাই, উচ্চ মানের চিকিৎসা পরিসেবা চাই ,শৌচালয় চাই, উচ্চ মানের স্বাস্থ্য পরিসেবা চাই এই সবগুলোর ব্যবস্থা গ্রহণ করে চলেছে সরকার। বর্তমান সময়ে গরিবরা মাথাপিছু ৫ কেজি করে রেশন থেকে চাল পাচ্ছেন। রাজ্যের ২৪ লক্ষ ৭৬ হাজার মানুষ প্রতি মাসে ৫ কেজি করে চাল পাচ্ছেন।এর পাশাপাশি চিকিৎসা পরিষেবাও উন্নত মানের হচ্ছে তাতে রাজ্যের মানুষের গড় আয়ু বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৪ বছর। তাতে করে সরকার কৃষিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।তাই তিনি বলেন কৃষি ফেইল ত সমস্ত পরিকাঠামো ফেইল। খোয়াই জেলাতে ৩ লক্ষ ৮২ হাজার মানুষ রয়েছে গত এক বছড়ের জন চালে লাগবে ৭৯ হাজার ৩৭০ মেট্রিক টন।এর আগে এত চাল উৎপাদন হতনা। গতবছর খোয়াই এর কৃষকরা চাল উৎপাদন করছে ৭৯ হাজার ৪৭৩ মেট্রিক টন।যদি রাজ্যের জন্য কেন্দ্র অথবা রাজ্য সরকার খোয়াই বাসির জন্য চাল নাও দেয় তাহলেও খোয়াই বাসিকে না খেয়ে মরতে হবে না বলে জানান মন্ত্রী।তাইতো খোয়াই এর কৃষকরা বর্তমানে স্বনির্ভর। একটা ডাবল ইঞ্জিন সরকারের বাহাদুরি। অন্যদিকে সরকার পরিকল্পনা করছে পাহাড়ে বিভিন্ন পশু পাখি,বাঁদরদের জন্য বিভিন্ন ধরনের ফলের গাছ লাগানোর। বর্তমান সরকার গত ৮ বছরে রাজ্য প্রচুর পরিমাণে সরকারি বাজার তৈরি করে দিয়েছে তাতে খরচ হয়েছে ৪ শত ৬১ কোটি টাকা, অন্যদিকে গত সি পি আই এম সরকারের আমলে এই ধরনের বাজার তৈরি করতে তারা খরচ করেছে মাত্র ২৮ কোটি টাকা। শুধু তাই নয় ত্রিপুরা রাজ্যের কৃষকদের দ্বারা উৎপাদিত কালি কাঁসার চাল দুবাইতে রপ্তানি করা হচ্ছে, রাজ্যের আনারস জার্মানে পাঠানো হচ্ছে শুধু তাই নয় রাজ্যের ঝাঁঝালো আদা পৃথিবী বিখ্যাত বলেও তিনি জানান যার চাহিদা রয়েছে সারা বিশ্বে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে রাজ্যের হলুদ,আর সুগন্ধি লেবু লন্ডনের রেস্তোরাঁতে প্রচার পাচ্ছে ত্রিপুরা থেকে আমদানি বলে। তাতে কি বুঝা যাচ্ছে যে রাজ্যের কৃষকদের আয় দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।এই ভাবেই আমাদের রাজ্যের এবং দেশের কৃষকদের সেবা ও উৎসাহিত করে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।কারন এরাই আমাদের অন্য দাতা তাদেরকে সন্মান করুন সাহায্য করুন এই বলে সমস্ত কৃষকদের প্রতি সন্মান জানিয়ে উনার বক্তব্য শেষ করেন।এরপর বিকেলে খোয়াই চেবরি বৃন্দাবন ঘাট এবং কল্যাণপুর এলাকায় একই ধরনের বেশ কয়েকটি বিল্ডিং এর উদঘাটন করবেন এবং অনেক বিল্ডিং এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবে বলে তিনি জানান ।



