দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং একটি স্বাধীন, স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও জবাবদিহিমূলক নির্বাচন কমিশন গঠনের দাবিতে প্রতিবাদে সরব হলো সিপিআইএমএল। রবিবার আগরতলার প্যারাডাইস চৌমুহনিতে দলের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের উদ্যোগে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়। এই কর্মসূচি থেকে অবিলম্বে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবি তোলার পাশাপাশি দিল্লিতে চলমান আন্দোলনকারীদের উপর পুলিশের দমন-পীড়ন বন্ধ করার দাবিও জানানো হয়। উল্লেখ্য, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিকে সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি ধারাবাহিকভাবে আন্দোলন কর্মসূচি পালন করছে। ইন্ডিয়া ব্লকের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ত্রিপুরাতেও বিরোধী দলগুলির পক্ষ থেকে একই দাবিতে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি সংগঠিত করা হচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতায় এবার আগরতলার রাজপথে নামল সিপিআইএমএল। রবিবার প্যারাডাইস চৌমুহনিতে আয়োজিত এই বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে সরব হন। তাঁদের দাবি, দেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রেখে স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে পরিচালনা করতে হবে। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
বিক্ষোভ থেকে দিল্লিতে চলমান শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের উপর পুলিশের দমন-পীড়ন বন্ধ করার দাবিও জানানো হয়। আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানানোর অধিকার সুনিশ্চিত করা জরুরি। সেই অধিকার খর্ব করে কোনও আন্দোলনকে দমন করার চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয় বলেও দাবি করেন তাঁরা। ইন্ডিয়া ব্লকের আহ্বানে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন সিপিআইএমএলের রাজ্য সম্পাদক পার্থ কর্মকার। বিক্ষোভ শেষে সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের মুখোমুখি হয়ে তিনি নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা, রাজ্যের এসআইআর প্রক্রিয়া এবং আন্দোলনকারীদের উপর পুলিশি পদক্ষেপ নিয়ে একাধিক অভিযোগ তোলেন। পার্থ কর্মকারের দাবি, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের পাশাপাশি রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়াও বাতিল করতে হবে। তাঁর অভিযোগ, বর্তমান সরকার একের পর এক সংবিধানবিরোধী পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। তিনি সরকারের সমালোচনা করে বলেন, সংবিধান ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার পরিবর্তে আন্দোলনকারীদের উপর দমন-পীড়ন চালানো হচ্ছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ছাত্র ও যুবকরা নিজেদের দাবি নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে রাস্তায় নেমে আন্দোলন করলেও তাঁদের উপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে। এমনকি মহিলা এবং সংবাদমাধ্যমের কর্মীরাও আক্রমণের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছেন না বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, এই ধরনের ঘটনার প্রতিবাদ জানানো এবং গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার দাবিকে সামনে রেখেই দলের পক্ষ থেকে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। সিপিআইএমএলের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা বজায় রাখা, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া বাতিল এবং শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির আন্দোলনের আবহে আগরতলায় সিপিআইএমএলের এই কর্মসূচি রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।



