সীমান্তবর্তী এলাকায় টেলিকম পরিষেবা আরও শক্তিশালী করার উপর জোর দিলেন পশ্চিম ত্রিপুরা লোকসভা আসনের সাংসদ তথা রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব। তাঁর বক্তব্য, ত্রিপুরার দীর্ঘ আন্তর্জাতিক সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় এখনও ভারতীয় মোবাইল নেটওয়ার্কের সমস্যা রয়েছে। এই সমস্যা কাটিয়ে উঠতে সীমান্ত বরাবর আরও টেলিকম টাওয়ার স্থাপনের প্রয়োজন রয়েছে। একইসঙ্গে বিষয়টিকে সাধারণ মানুষের যোগাযোগের পাশাপাশি দেশের নিরাপত্তার সঙ্গেও যুক্ত বলে উল্লেখ করেন তিনি। শনিবার আগরতলার কামান চৌমুহনিস্থিত বিএসএনএলের সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত হয় টেলিকম অ্যাডভাইজারি কমিটির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। পদাধিকারবলে বৈঠকে পৌরহিত্য করেন সাংসদ বিপ্লব কুমার দেব। উপস্থিত ছিলেন রাজ্যসভার সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্য-সহ সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা। বৈঠকে আগের বিভিন্ন আলোচনায় উত্থাপিত বিষয়গুলির অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। বিএসএনএলের পরিকাঠামো, গ্রাহক পরিষেবা, নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং পরিষেবার মানোন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পাশাপাশি বিদ্যমান সমস্যাগুলি চিহ্নিত করে সেগুলির সম্ভাব্য সমাধানের পথ নিয়েও মতবিনিময় করেন বৈঠকে উপস্থিত প্রতিনিধিরা।
বৈঠক শেষে সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের মুখোমুখি হয়ে সীমান্ত এলাকার নেটওয়ার্ক পরিষেবা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিপ্লব কুমার দেব। তিনি বলেন, ত্রিপুরার সঙ্গে দীর্ঘ আন্তর্জাতিক সীমান্ত রয়েছে। সীমান্তবর্তী বেশ কিছু এলাকায় এখনও ভারতীয় মোবাইল নেটওয়ার্কের পরিষেবা পর্যাপ্ত নয়। তাঁর দাবি, কোথাও কোথাও প্রায় ১০ কিলোমিটার পর্যন্ত এলাকায় ভারতীয় সিম কার্ডের নেটওয়ার্ক ঠিকমতো কাজ করে না। এই পরিস্থিতিতে সীমান্ত বরাবর আরও মোবাইল টাওয়ার স্থাপন করা হলে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হওয়ার পাশাপাশি দেশের নিজস্ব টেলিকম নেটওয়ার্কও শক্তিশালী হবে বলে মত প্রকাশ করেন তিনি। সীমান্ত এলাকায় নেটওয়ার্কের পরিধি বাড়ানো সাধারণ মানুষের যোগাযোগের সুবিধার জন্য যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই নিরাপত্তার দিক থেকেও বিষয়টি তাৎপর্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন সাংসদ। বিপ্লব কুমার দেবের দাবি, ভারতীয় টাওয়ারের ঘাটতির কারণে যেখানে নেটওয়ার্ক সমস্যা রয়েছে, সেখানে বাংলাদেশের মোবাইল নেটওয়ার্কের সংকেত ভারতের ভূখণ্ডের প্রায় ১৫ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছে যাচ্ছে। তাঁর মতে, এই পরিস্থিতি নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও উদ্বেগের কারণ হতে পারে। তিনি আরও বলেন, দেশের নিজস্ব টেলিকম নেটওয়ার্কের আওতা সীমান্ত এলাকায় আরও বাড়ানো গেলে প্রয়োজনে তদন্তের সময় নিরাপত্তা সংস্থাগুলিও কল রেকর্ড-সহ বিভিন্ন তথ্য ব্যবহারের ক্ষেত্রে সুবিধা পেতে পারে। তাই সীমান্তবর্তী এলাকায় যোগাযোগ পরিকাঠামো উন্নয়নের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখার প্রয়োজন রয়েছে বলে জানান তিনি। এদিন রাজ্যের টেলিকম প্রযুক্তির অগ্রগতি নিয়েও কথা বলেন সাংসদ। তাঁর বক্তব্য, ত্রিপুরায় বিএসএলের ফোর-জি পরিষেবার পরিধি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। তবে ফাইভ-জি পরিষেবা রাজ্যে প্রত্যাশিত গতিতে এগোচ্ছে কিনা, সেই বিষয়টিও পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। নতুন প্রযুক্তির পরিষেবা দ্রুত সম্প্রসারণের পাশাপাশি গ্রাহকদের উন্নত পরিষেবা নিশ্চিত করার উপরও গুরুত্ব দেওয়া দরকার বলে জানান তিনি। টেলিকম অ্যাডভাইজারি কমিটির এদিনের বৈঠনে মূলত পরিষেবার সম্প্রসারণ, পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত সমস্যাগুলিকে গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করা হয়।



