ইউনাইটেড ফোরাম অফ ব্যাংক ইউনিয়নের ডাকে শুক্রবার সারা দেশব্যাপী পালিত হল ব্যাংক ধর্মঘট। সপ্তাহে পাঁচ দিন ব্যাংকিং পরিষেবা চালু করা সহ একাধিক দাবিকে সামনে রেখে এই ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়। ধর্মঘটের প্রভাব পড়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ব্যাংকিং পরিষেবায়। রাজ্যেও বিভিন্ন ব্যাংকের সামনে কর্মী সংগঠনের সদস্যরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করে নিজেদের দাবি তুলে ধরেন। ব্যাংক কর্মীদের অন্যতম প্রধান দাবি, সপ্তাহে পাঁচ দিন ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু করা। অর্থাৎ শনিবার ও রবিবার সাপ্তাহিক ছুটি রেখে সোমবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত নিয়মিত ব্যাংক খোলা রাখার দাবি জানাচ্ছেন কর্মীরা। ব্যাংক ইউনিয়নগুলির বক্তব্য, ২০২৪ সালের চুক্তিতে সপ্তাহে পাঁচ দিন ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালুর বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকলেও এখনও পর্যন্ত তা সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে দীর্ঘদিনের এই দাবি দ্রুত কার্যকর করার জন্যই ফের আন্দোলনের পথে নেমেছেন ব্যাংক কর্মীরা। শুধু পাঁচ দিনের ব্যাংকিং ব্যবস্থাই নয়, পিএলআই বা পারফরম্যান্স লিঙ্কড ইনসেন্টিভ-এর নতুন ব্যবস্থা নিয়েও আপত্তি রয়েছে কর্মী সংগঠনগুলির। ইউনিয়নগুলির অভিযোগ, নতুন পিএলআই ব্যবস্থায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৈষম্য ও অস্পষ্টতা রয়েছে। এর ফলে কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হচ্ছে বলেও দাবি তাদের। কর্মী সংগঠনগুলির দাবি, বর্তমান পিএলআই ব্যবস্থা পুনর্বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করতে হবে। কর্মীদের স্বার্থের বিষয়টি বিবেচনা করে স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য ব্যবস্থা চালু করার দাবিও জানানো হয়েছে।
এদিন রাজ্যের বিভিন্ন ব্যাংকের সামনে বিক্ষোভে অংশ নিয়ে কর্মীরা তাদের দাবির পক্ষে সরব হন। বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করা হলেও দাবিগুলি এখনও পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। তাই বাধ্য হয়েই দেশব্যাপী ধর্মঘটের পথে যেতে হয়েছে তাদের। তবে শুক্রবারের ধর্মঘটই শেষ নয়। দাবি পূরণ না হলে আগামী দিনে আরও বড় আন্দোলনের কর্মসূচির কথাও ঘোষণা করেছে ব্যাংক কর্মী সংগঠনগুলি। সংগঠনগুলির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ২৮, ২৯ ও ৩০ তারিখ—এই তিন দিন ফের ধর্মঘট পালন করা হবে। এরপরও যদি তাদের দাবিগুলি মেনে নেওয়া না হয়, তাহলে আন্দোলন আরও কঠোর করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে কর্মী সংগঠনগুলি। তাদের বক্তব্য, দাবি পূরণে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে আগামী ২৬ অক্টোবর থেকে লাগাতার ধর্মঘটে যেতে বাধ্য হবেন তারা। ফলে সপ্তাহে পাঁচ দিন ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু, ২০২৪ সালের চুক্তির বিষয়গুলি বাস্তবায়ন এবং পিএলআই ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনা—এই একাধিক দাবিকে কেন্দ্র করে ব্যাংক কর্মীদের আন্দোলন আগামী দিনে আরও জোরদার হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এখন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হয়, নাকি ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী আরও বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটেন ব্যাংক কর্মীরা, সেদিকেই নজর থাকবে।



