সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে নানা উন্নয়নের দাবি করা হলেও বাস্তবে রোগীরা কতটা সঠিক ও সময়মতো চিকিৎসা পাচ্ছেন, তা নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠল জিবি হাসপাতালের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে। বুধবার রাজ্যের প্রধান সরকারি রেফারেল হাসপাতালে এক গৃহবধূর মৃত্যুকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায়। মৃতার পরিবারের অভিযোগ, গুরুতর শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে আসার পরও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরিষেবা সময়মতো দেওয়া হয়নি। ঘটনার সূত্রে জানা যায়, উদয়পুরের টেপানিয়া হাসপাতাল থেকে মন্টি ভৌমিক নামে এক গৃহবধূকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বুধবার ভোররাতে জিবি হাসপাতালে নিয়ে আসেন পরিবারের সদস্যরা। পরিবারের দাবি, হাসপাতালে পৌঁছনোর পরও তাঁর শ্বাসকষ্টের সমস্যা অত্যন্ত গুরুতর ছিল। পরিবারের অভিযোগ, মন্টির শারীরিক পরিস্থিতি বিবেচনায় তাঁকে ভেন্টিলেশনে নেওয়ার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু কর্তব্যরত চিকিৎসক সেই সময় ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থা না করে অক্সিজেন দিয়ে রাখেন বলে অভিযোগ। এরপর কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয় এবং শেষ পর্যন্ত মৃত্যু হয় ওই গৃহবধূর।
মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের অভিযোগ, চিকিৎসার ক্ষেত্রে গাফিলতির কারণেই মন্টির মৃত্যু হয়েছে। সময়মতো প্রয়োজনীয় চিকিৎসা এবং জীবন রক্ষাকারী ব্যবস্থা নেওয়া হলে পরিস্থিতি অন্যরকম হতে পারত বলেও দাবি করেন তাঁরা। পরিবারের এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে বুধবার জিবি হাসপাতাল চত্বরে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রে এমন অভিযোগ সামনে আসায় বিষয়টি নিয়ে শুরু হয় আলোচনা। রাজ্যের সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবার পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং চিকিৎসা পরিষেবা সম্প্রসারণের কথা প্রায়শই তুলে ধরে সরকার। বহিরাজ্যে রোগী রেফারের সংখ্যা কমেছে এবং রাজ্যকে ভবিষ্যতে মেডিকেল হাব হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিভিন্ন পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে বলেও সরকারি মহলের তরফে জানানো হয়েছে। কিন্তু এরই মধ্যে জিবি হাসপাতালের মতো প্রধান সরকারি রেফারেল হাসপাতালে চিকিৎসা পরিষেবা নিয়ে ওঠা এই অভিযোগ স্বাভাবিকভাবেই সেই দাবির বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। কারণ উন্নত পরিকাঠামোর পাশাপাশি জরুরি অবস্থায় একজন রোগী কত দ্রুত এবং কতটা কার্যকর চিকিৎসা পাচ্ছেন, সেটিও স্বাস্থ্য পরিষেবার মান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ। অবশ্য মন্টি ভৌমিকের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং চিকিৎসার ক্ষেত্রে কোনও গাফিলতি হয়েছিল কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তবে এই ঘটনায় মৃতার পরিবার যে অভিযোগ তুলেছে, তা সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসা পরিষেবা ও রোগীর নিরাপত্তা নিয়ে ফের একবার উদ্বেগ তৈরি করেছে। মেডিকেল হাব গড়ে তোলার লক্ষ্যে রাজ্য এগিয়ে যাওয়ার দাবি করলেও সাধারণ মানুষের কাছে সেই উন্নয়নের প্রকৃত প্রতিফলন কতটা পৌঁছচ্ছে, সেই প্রশ্নই নতুন করে সামনে এনে দিল জিবি হাসপাতালের এই ঘটনা। এখন মন্টির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং পরিবারের তোলা অভিযোগের সত্যতা কীভাবে সামনে আসে, সেদিকেই নজর রয়েছে।



