কৃষকদের ঋণের বোঝা এবং বড় ঋণখেলাপিদের ক্ষেত্রে ঋণ মকুবের নীতি নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সরব হলো প্রদেশ কংগ্রেস। সাধারণ মানুষের অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রে কেন্দ্রের নীতি নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠীকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগও তুলেছে দল। বুধবার কংগ্রেস ভবনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে একাধিক বিষয় তুলে ধরেন প্রদেশ কংগ্রেসের মুখপাত্র প্রবীর চক্রবর্তী। প্রবীর চক্রবর্তীর দাবি, একটি জাতীয়কৃত ব্যাংক গত এক বছরে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকার ঋণখেলাপি অর্থ মকুব করেছে। অথচ দেশের ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের একটি বড় অংশ ঋণের চাপ সামলাতে গিয়ে আর্থিক সংকটের মুখে পড়ছেন। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রের আর্থিক নীতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
কংগ্রেস মুখপাত্রের আরও অভিযোগ, কৃষিঋণ পরিশোধ করতে না পারার মতো পরিস্থিতিতে পড়ে দেশে প্রতিদিন গড়ে ৩১ জন কৃষক আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছেন। তাঁর বক্তব্য, একদিকে বড় ঋণখেলাপিদের জন্য বিপুল পরিমাণ ঋণ মকুবের ব্যবস্থা রয়েছে, অন্যদিকে কৃষকদের ঋণের বোঝা কমানোর ক্ষেত্রে সেই ধরনের কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। তিনি দাবি করেন, প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকার ঋণখেলাপি অর্থের ক্ষেত্রে ১০০ কোটি টাকার বেশি ঋণখেলাপিদের একটি বড় অংশ মাত্র প্রায় ১৪ শতাংশ অর্থ পরিশোধের বিনিময়ে ঋণ মকুবের সুবিধা পেয়েছেন। এই দাবি সামনে রেখেই কেন্দ্রের ঋণনীতি নিয়ে সরব হন তিনি। সাংবাদিক সম্মেলনে কেন্দ্রের উদ্দেশে একাধিক প্রশ্নও ছুড়ে দেন প্রবীর চক্রবর্তী। তাঁর প্রশ্ন, একজন সাধারণ কৃষক সামান্য পরিমাণ কৃষিঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে ব্যাংকের নোটিশসহ বিভিন্ন পদক্ষেপের মুখোমুখি হন। তাহলে বড় ঋণখেলাপিদের ক্ষেত্রে বিপুল অঙ্কের ঋণ মকুবের সুযোগ কেন তৈরি হবে? কংগ্রেসের অভিযোগ, কৃষকরা দেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও তাঁদের আর্থিক দুরবস্থা কাটাতে যথেষ্ট কার্যকর নীতি গ্রহণ করা হচ্ছে না। ঋণের চাপের পাশাপাশি উৎপাদন খরচ এবং ফসলের ন্যায্য মূল্য পাওয়ার বিষয়টিও কৃষকদের জন্য বড় সমস্যা বলে দাবি করেছে দল। এই পরিস্থিতিতে কৃষকদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের নীতিতে পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছে প্রদেশ কংগ্রেস। কৃষকদের ঋণের বোঝা কমানো, উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা এবং কৃষক আত্মহত্যা রোধে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান প্রবীর চক্রবর্তী। বড় ঋণখেলাপিদের ঋণ মকুব এবং কৃষকদের ঋণসংকটকে একই প্রেক্ষাপটে তুলে ধরে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে কংগ্রেসের এই অভিযোগকে ঘিরে ফের রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে আলোচনা।



