পুলিশের নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে ফের প্রশ্ন তুলে দিল একটি চুরির ঘটনা। পূর্ব আগরতলা থানার কাছেই দুঃসাহসিক চুরির ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে চিত্তরঞ্জন মেইনরোড এলাকায়। থানা থেকে মাত্র প্রায় ৫০ মিটার দূরে একটি বাড়িতে হানা দিয়ে এসি মেশিনের মূল্যবান তার কেটে নিয়ে পালিয়ে যায় চোরের দল। গোটা ঘটনাটি ধরা পড়েছে প্রতিবেশী বাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরায়। জানা গেছে, চিত্তরঞ্জন মেইনরোড এলাকার বাসিন্দা অভিষেক সাহার বাড়িতে মঙ্গলবার রাতে ঘটে এই চুরির ঘটনা। পরিবারের সদস্যরা রাতে বাড়িতে থাকার পরও নির্জনতার সুযোগ নিয়ে চোরেরা বাড়ির বাইরে থাকা এসি মেশিনের তার কেটে নিয়ে যায়। গভীর রাতে নিঃশব্দে চুরির পর সেখান থেকে পালিয়ে যায় তারা। বুধবার সকালে পরিবারের সদস্যদের নজরে আসে বিষয়টি। বাড়ির এসি মেশিনের তার কেটে নিয়ে যাওয়া হয়েছে দেখতে পেয়ে তাঁরা বিষয়টি সম্পর্কে নিশ্চিত হন। এরপরই খবর দেওয়া হয় পুলিশকে।
ঘটনার খবর পেয়ে পূর্ব আগরতলা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। পাশাপাশি প্রতিবেশী বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ফুটেজে চুরির ঘটনাটি ধরা পড়ায় অভিযুক্তদের শনাক্ত করার ক্ষেত্রে তা গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে চুরির ঘটনাটির থেকেও বেশি করে যে বিষয়টি ভাবাচ্ছে, তা হলো ঘটনাস্থলের অবস্থান। পূর্ব আগরতলা থানা থেকে মাত্র ৫০ মিটার দূরে এবং জনবহুল এলাকায় কীভাবে চোরেরা এমন ঘটনা ঘটিয়ে নির্বিঘ্নে পালিয়ে গেল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। শহর ও শহরতলির বিভিন্ন এলাকায় মাঝেমধ্যেই চুরির অভিযোগ সামনে আসছে। বাড়িঘর, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান কিংবা ধর্মীয় স্থান—কোথাও চুরির ঘটনা ঘটছে না, এমন নয়। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ তদন্ত করে কখনও কখনও চুরি যাওয়া সামগ্রী উদ্ধার এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারও করছে। কিন্তু তারপরও চুরির ঘটনায় পুরোপুরি লাগাম টানা সম্ভব হচ্ছে না বলে অভিযোগ সাধারণ মানুষের। বিশেষ করে পুলিশের থানা সংলগ্ন এলাকায় এমন ঘটনা ঘটায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের প্রশ্ন, থানার এতটা কাছাকাছি এলাকায় যদি চোরেরা রাতের অন্ধকারে চুরি করে পালিয়ে যেতে পারে, তাহলে শহরের অপেক্ষাকৃত দূরের এলাকাগুলিতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার পরিস্থিতি কী—সেই প্রশ্নও উঠছে। ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। রাত বাড়লেই বাড়িঘর ও সম্পত্তির নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তায় পড়ছেন বাসিন্দারা। পাশাপাশি রাতের সময় পুলিশি নজরদারি আরও বাড়ানোর দাবিও উঠছে এলাকায়। এখন সিসিটিভি ফুটেজই পুলিশের তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। ফুটেজের সূত্র ধরে চোরদের শনাক্ত করা এবং দ্রুত তাদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশ কতটা সফল হয়, সেদিকেই নজর রয়েছে এলাকাবাসীর।



