Tuesday, September 1, 2026
বাড়িখবররাজ্যআগরতলায় কৃষক সভার ২২তম রাজ্য সম্মেলন শুরু, প্রকাশ্য সমাবেশে কেন্দ্রের নীতির বিরুদ্ধে...

আগরতলায় কৃষক সভার ২২তম রাজ্য সম্মেলন শুরু, প্রকাশ্য সমাবেশে কেন্দ্রের নীতির বিরুদ্ধে সরব নেতৃত্ব

আগরতলা টাউন হলে মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো সারা ভারত কৃষক সভার ২২তম রাজ্য সম্মেলন। সংগঠনের পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় সম্মেলনের কর্মসূচি। সম্মেলনকে কেন্দ্র করে এদিন আগরতলার স্বামী বিবেকানন্দ ময়দানে অনুষ্ঠিত হয় এক বিশাল প্রকাশ্য সমাবেশ। সমাবেশে কৃষক, শ্রমজীবী মানুষ এবং সংগঠনের কর্মী-সমর্থকদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। দীর্ঘদিন পর আগরতলা শহরের বুকে এত বড় জনসমাবেশের মাধ্যমে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শন করল বামপন্থী শিবির। কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের বিভিন্ন সমস্যা, কৃষিক্ষেত্রের বর্তমান পরিস্থিতি এবং দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়ে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্ব। এদিনের প্রকাশ্য সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন সারা ভারত কৃষক সভার সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি তথা প্রাক্তন সাংসদ হান্নান মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক বিজু কৃষ্ণন, সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক তথা বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী এবং সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক পবিত্র কর। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন কৃষক সভার রাজ্য সভাপতি তথা প্রাক্তন মন্ত্রী অঘোর দেববর্মা।

বক্তব্য রাখতে গিয়ে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিভিন্ন নীতির তীব্র সমালোচনা করেন হান্নান মোল্লা। তাঁর অভিযোগ, নরেন্দ্র মোদি সরকারের আমলে দেশের শ্রমজীবী ও সাধারণ মানুষের উপর আর্থিক চাপ ক্রমশ বৃদ্ধি পেয়েছে। দীর্ঘ আন্দোলন ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে শ্রমিকরা যে অধিকারগুলি অর্জন করেছিলেন, বর্তমান সরকার সেগুলিকে ধীরে ধীরে সংকুচিত করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। কেন্দ্রীয় সরকারের প্রণীত শ্রম আইন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন হান্নান মোল্লা। তাঁর দাবি, শ্রমিকদের স্বার্থ সুরক্ষিত করার পরিবর্তে নতুন লেবার কোডের মাধ্যমে কর্পোরেট সংস্থাগুলির সুবিধাকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর ফলে শ্রমিকদের অধিকার ও নিরাপত্তা দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। এদিন কৃষকদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়েও সরব হন বক্তারা। কৃষিপণ্যের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করা, কৃষকদের আয় বৃদ্ধি, কৃষিক্ষেত্রে সরকারি সহায়তা বাড়ানো এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার দাবি তুলে ধরা হয়। কৃষকদের স্বার্থে কার্যকর নীতি গ্রহণের পাশাপাশি তাঁদের বিভিন্ন দাবিকে সামনে রেখে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বানও জানানো হয়।

সম্মেলনে শুধু কেন্দ্রীয় সরকারের নীতির সমালোচনাই নয়, রাজ্যের কৃষকদের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। কৃষিক্ষেত্রে সমস্যা, কৃষকদের আয়, উৎপাদন ও বাজারজাতকরণসহ একাধিক বিষয় সম্মেলনে গুরুত্ব পাবে বলে সংগঠন সূত্রে জানা গেছে। পাশাপাশি আগামী দিনে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করা এবং কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের দাবিকে সামনে রেখে কীভাবে আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে, সেই বিষয়েও সম্মেলনে সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। এদিনের প্রকাশ্য সমাবেশে বিপুল মানুষের উপস্থিতি ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে আলোচনা। বিশেষ করে বিধানসভা নির্বাচনের পর আগরতলা শহরে বামপন্থী সংগঠনের এই বড় জমায়েতকে সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে দেখছে সংশ্লিষ্ট মহল। এখন দেখার বিষয়, ২২তম রাজ্য সম্মেলন শেষে কৃষক সভা কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের বিভিন্ন দাবি নিয়ে আগামী দিনে কী কর্মসূচি ঘোষণা করে এবং রাজ্যের রাজনৈতিক পরিসরে তার প্রভাব কতটা পড়ে।

RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

19 + 8 =

- Advertisment -spot_img

জনপ্রিয় খবর

সাম্প্রতিক মন্তব্য