তিথি অনুযায়ী বৃহস্পতিবার রাখি পূর্ণিমা। ভাই-বোনের ভালোবাসা, স্নেহ ও পবিত্র বন্ধনের প্রতীক এই উৎসব প্রতিবছরই আনন্দ-উৎসাহের সঙ্গে পালন করা হয়। রাখি পূর্ণিমাকে ঘিরে আগরতলা শহরের বিভিন্ন বাজারে ইতিমধ্যেই বসেছে রাখির পসরা। ছোট থেকে বড়—বিভিন্ন ধরনের রঙিন ও আকর্ষণীয় রাখি নিয়ে দোকান সাজিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তবে উৎসবের আবহ থাকলেও এবছর রাখির বাজারে প্রত্যাশিত ভিড় ও বিক্রি নেই বলে দাবি বিক্রেতাদের।রাখি পূর্ণিমার কয়েকদিন আগে থেকেই সাধারণত বাজারগুলিতে রাখি কিনতে ক্রেতাদের ভিড় বাড়তে শুরু করে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া এবং শিশু-কিশোরদের মধ্যে থাকে আলাদা উৎসাহ। বন্ধু-বান্ধব ও ভাই-বোনের জন্য পছন্দের রাখি কিনতে অনেকেই বাজারে ছুটে আসেন। কিন্তু এবছর সেই চেনা চিত্র অনেকটাই ফিকে বলে জানিয়েছেন রাখি বিক্রেতারা।বিক্রেতাদের বক্তব্য, গত বছরের তুলনায় এবার রাখির চাহিদা বেশ কম। ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে বিভিন্ন ডিজাইন, কার্টুন চরিত্র, রঙিন ও ফ্যাশনেবল রাখি থেকে শুরু করে নানা দামের রাখি দোকানে রাখা হয়েছে। কিন্তু সেই অনুপাতে ক্রেতার দেখা মিলছে না।
বিশেষ করে স্কুল পড়ুয়া ছেলে-মেয়েদের মধ্যে রাখি কেনার আগ্রহ কমেছে বলে দাবি ব্যবসায়ীদের। আর এর অন্যতম কারণ হিসেবে বর্তমান প্রজন্মের শিশু-কিশোরদের মোবাইল ফোন ও অনলাইন বিনোদনের প্রতি বাড়তে থাকা আসক্তিকে দায়ী করছেন বিক্রেতাদের একাংশ।তাঁদের মতে, আগে রাখি পূর্ণিমার আগে স্কুল ছুটির পর কিংবা স্কুলে যাওয়ার পথে শিশু-কিশোরদের দলবেঁধে বাজারে আসতে দেখা যেত। নিজেদের পছন্দের রাখি বেছে নিতে দোকানে দীর্ঘ সময় কাটাত তারা। বর্তমানে সেই প্রবণতা অনেকটাই কমে গেছে। মোবাইল ফোন, গেম এবং বিভিন্ন অনলাইন বিনোদনে ব্যস্ত থাকার কারণে ঐতিহ্যবাহী উৎসবের প্রতি আগ্রহে পরিবর্তন এসেছে বলে মনে করছেন তাঁরা।তবে অভিভাবকদের একটি অংশ এখনও রাখি কিনতে বাজারে আসছেন। সন্তানদের পাশাপাশি পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের জন্যও রাখি কিনছেন তাঁরা। কিন্তু অভিভাবকদের মধ্যেও তুলনামূলক কম দামের রাখির চাহিদাই বেশি বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। ফলে দামি ও নকশাদার রাখিগুলি দোকানে থাকলেও সেগুলির বিক্রি আশানুরূপ হচ্ছে না।
এক রাখি বিক্রেতা জানান, প্রতিবছরের মতো এবারও রাখি পূর্ণিমাকে সামনে রেখে অনেক প্রত্যাশা নিয়ে বিপুল পরিমাণ রাখি সংগ্রহ করেছিলেন তাঁরা। বিশেষ করে স্কুল-কলেজ পড়ুয়াদের কথা মাথায় রেখে বিভিন্ন ধরনের নতুন ডিজাইনের রাখি দোকানে তোলা হয়েছিল। কিন্তু বাজারে ক্রেতার সংখ্যা কম থাকায় সেই অনুযায়ী বিক্রি হচ্ছে না।ব্যবসায়ীদের আরও বক্তব্য, ক্রেতাদের কথা মাথায় রেখেই রাখির দাম অনেকটা সাধ্যের মধ্যে রাখা হয়েছে। বিভিন্ন দামের রাখি বাজারে রয়েছে। তারপরও বিক্রি বাড়ছে না। ফলে উৎসবের মরশুমে ভালো ব্যবসার আশা করলেও বর্তমানে হতাশায় রয়েছেন অনেক রাখি বিক্রেতা।যদিও রাখি পূর্ণিমার আগের শেষ মুহূর্তে বাজারে ক্রেতার সংখ্যা বাড়বে বলে আশায় রয়েছেন ব্যবসায়ীরা। উৎসব যত এগিয়ে আসবে, শেষ সময়ে রাখি কেনার প্রবণতা বাড়তে পারে বলেই তাঁদের প্রত্যাশা।ভাই-বোনের পবিত্র সম্পর্কের এই উৎসবকে ঘিরে আগরতলা শহরে উৎসবের আবহ থাকলেও, রাখির বাজারে তুলনামূলক মন্দা ব্যবসায়ীদের চিন্তায় ফেলেছে। এখন শেষ মুহূর্তে বাজার কতটা জমে ওঠে এবং বিক্রি কতটা বাড়ে, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন রাখি বিক্রেতারা।



