রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের মৎস্যজীবীদের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবি-দাওয়াকে সামনে রেখে রাজ্যভিত্তিক সেমিনারের আয়োজন করল সিআইটিইউ অনুমোদিত ত্রিপুরা রাজ্য মৎস্যজীবী ইউনিয়ন। সোমবার আগরতলার মেলার মাঠস্থিত ডক্টর বি. আর. আম্বেদকর ভবনে আয়োজিত এই সেমিনারে রাজ্যের মৎস্যজীবীদের বর্তমান পরিস্থিতি, তাঁদের আর্থিক সংকট এবং বিভিন্ন সরকারি সুযোগ-সুবিধা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সেমিনারে বক্তারা অভিযোগ করেন, রাজ্যের মৎস্যজীবীরা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সমস্যার মধ্যে দিয়ে জীবনযাপন করছেন। মাছ চাষ ও উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত মানুষের উন্নয়নের জন্য কার্যকর পরিকল্পনা এবং সরকারি সহায়তা প্রয়োজন। কিন্তু বাস্তবে সেই সহায়তা যথাযথভাবে মৎস্যজীবীদের কাছে পৌঁছাচ্ছে না বলেও অভিযোগ করা হয়। এদিনের সেমিনার থেকে একাধিক দাবি তুলে ধরা হয়। মৎস্যজীবীদের জন্য রাজ্যের বিভিন্ন মৎস্য বাজারকে আধুনিক ও স্বাস্থ্যসম্মত বাজার হিসেবে গড়ে তোলার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি সমস্ত সরকারি ও আধা-সরকারি জলাশয় মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি অথবা প্রকৃত মৎস্যজীবীদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবিও ওঠে। এছাড়াও সমস্ত উপযুক্ত মৎস্যজীবীর ভাতার পরিমাণ বাড়িয়ে মাসে ৫ হাজার টাকা করার দাবি জানানো হয়। মৎস্যজীবীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবিও জানানো হয়।সেমিনারে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরা রাজ্য তপশিলি জাতি সমন্বয় সমিতির রাজ্য সম্পাদক সুধন দাস। সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের মুখোমুখি হয়ে তিনি রাজ্যের মৎস্যজীবীদের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলেন।
সুধন দাসের অভিযোগ, অতীতে ত্রিপুরায় মাছ চাষ ও উৎপাদনের ক্ষেত্রে যে অগ্রগতি হয়েছিল, বর্তমানে তা ধীরে ধীরে পিছিয়ে যাচ্ছে। মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং মৎস্যজীবীদের আর্থিকভাবে স্বনির্ভর করে তোলার ক্ষেত্রে বর্তমান সরকার ব্যর্থ বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি মৎস্যজীবীদের উন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন জলাশয় তৈরি করা হয়েছিল। এর ফলে মৎস্যজীবী সমবায় সমিতিগুলিও অনেকটা শক্তিশালী হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে জলাশয়গুলির রক্ষণাবেক্ষণ এবং সমবায়গুলির উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ অর্থের যথাযথ ব্যবহার হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি। সমবায় সমিতিগুলির কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সুধন দাস। তাঁর অভিযোগ, বিভিন্ন মৎস্যজীবী সমবায় সমিতিতে বর্তমানে অরাজক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এবং জলাশয় রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সরকারি বরাদ্দ অর্থেরও সঠিক হিসাব পাওয়া যাচ্ছে না। এদিনের সেমিনার থেকেই মৎস্যজীবীদের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর ও ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার রণকৌশল নির্ধারণ করা হয়। সংগঠনের নেতৃত্বের বক্তব্য, শুধু দাবি জানালেই হবে না, মৎস্যজীবীদের স্বার্থে তাঁদের আরও বেশি করে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলনে সামিল হতে হবে। তবে মৎস্যজীবীদের অভিযোগ ও সেমিনার থেকে ওঠা দাবিগুলির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তর বা সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এখন দেখার বিষয়, মৎস্যজীবীদের এই দাবিগুলি নিয়ে সরকার কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।



