হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎসব রাখি পূর্ণিমা বা রাখি বন্ধন। মূলত ভাই-বোনের ভালোবাসা, স্নেহ ও পারস্পরিক বন্ধনের প্রতীক হিসেবেই এই উৎসব পালিত হয়ে আসছে। রাখি পূর্ণিমার দিনে বোনেরা ভাইদের হাতে রাখি বেঁধে তাঁদের দীর্ঘায়ু, সুস্বাস্থ্য ও মঙ্গল কামনা করেন। তবে বর্তমানে ভাই-বোনের সম্পর্কের গণ্ডি ছাড়িয়ে যে কোনও প্রিয়জনের মঙ্গল ও নিরাপত্তার কামনায় রাখি পরানোর প্রচলনও রয়েছে। সারা দেশজুড়েই নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হয় এই উৎসব। সাধারণত শ্রাবণ বা ভাদ্র মাসের পূর্ণিমা তিথিতে রাখি বন্ধন উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। ঐতিহাসিকভাবেও রাখি বন্ধনের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের সময় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রাখি বন্ধনকে বৃহত্তর সামাজিক সম্প্রীতি ও ঐক্যের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেছিলেন। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ ও ঐক্য গড়ে তুলতে তিনি রাখি বন্ধন উৎসবকে নতুন মাত্রা দিয়েছিলেন। আগামী ২৮ আগস্ট রাখি পূর্ণিমা। উৎসবকে সামনে রেখে ইতিমধ্যেই রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে শুরু হয়েছে রাখির বিকিকিনি। মহারাজগঞ্জ বাজারেও দেখা যাচ্ছে ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে বিশেষ তৎপরতা। দোকানগুলিতে শোভা পাচ্ছে নানা রঙ, নকশা ও ডিজাইনের রাখি।
ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে জানা গেছে, এবছর বাজারে ৫ টাকা থেকে শুরু করে প্রায় ৫০০ টাকা পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের রাখি পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ আকর্ষণ তৈরি করেছে নতুন ধরনের লাইটিং রাখি। এই রাখিগুলি পাইকারি বাজারে ডজনপ্রতি প্রায় ৩০০ টাকা এবং খুচরো বাজারে প্রতিটি ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে এই লাইটিং রাখির চাহিদা বেশি বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। রাখি পূর্ণিমাকে ঘিরে বাজারে ক্রেতাদের উপস্থিতি আগামী দিনে আরও বাড়বে বলে আশা করছেন ব্যবসায়ীরা। ভাই-বোনের অটুট সম্পর্ক, ভালোবাসা ও পারস্পরিক দায়বদ্ধতার বার্তা বহন করে আসা এই উৎসবকে ঘিরে ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে উৎসবের আবহ। বোনেদের প্রত্যাশা, শুধু উৎসবের দিনে নয়, জীবনের প্রতিটি কঠিন পরিস্থিতিতে ভাইরা তাঁদের পাশে থাকবেন। ভালোবাসা, বিশ্বাস ও সুরক্ষার এই বন্ধন আরও দৃঢ় হোক—এই কামনাতেই পালিত হবে এবারের রাখি পূর্ণিমা।



