আদালতের নির্দেশে রাজ্যে শীঘ্রই অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ভিলেজ কমিটির নির্বাচন। পাহাড়ের এই গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতিমধ্যেই সাংগঠনিক প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। নির্বাচনী প্রস্তুতিতে এবার তৎপরতা বাড়াল কংগ্রেসও। আসন্ন ভিলেজ কমিটি নির্বাচনকে সামনে রেখে সোমবার আগরতলা প্রদেশ কংগ্রেস ভবনে অনুষ্ঠিত হয় প্রদেশ কংগ্রেসের এসটি ডিপার্টমেন্টের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি আশীষ কুমার সাহা, এসটি কংগ্রেসের চেয়ারম্যান শব্দ কুমার জমাতিয়া সহ দলের অন্যান্য জনজাতি নেতৃত্ব। এদিনের বৈঠকে রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং কংগ্রেসের সাংগঠনিক অবস্থান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পাশাপাশি আসন্ন ভিলেজ কমিটি নির্বাচন নিয়েও দীর্ঘ সময় আলোচনা করেন দলীয় নেতৃত্ব।
বৈঠক শেষে কংগ্রেস নেতৃত্বের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আসন্ন ভিলেজ কমিটি নির্বাচনে কংগ্রেস দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। প্রাথমিকভাবে এককভাবেই নির্বাচনে লড়াই করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। সেই লক্ষ্যেই পাহাড় এলাকায় দলের সাংগঠনিক শক্তি আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। কংগ্রেস নেতৃত্বের দাবি, ইতিমধ্যেই পাহাড়ের বিভিন্ন এলাকায় দলের সাংগঠনিক শক্তি আগের তুলনায় অনেকটাই বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামী দিনে আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে সংগঠনকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি জনজাতি মানুষের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবিদাওয়া নিয়ে মাঠে নামার পরিকল্পনা রয়েছে দলের। বৈঠক প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি আশীষ কুমার সাহা রাজ্যের জনজাতি মানুষের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর দাবি, রাজ্যের আদিবাসী মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক। বিশেষ করে পাহাড় এলাকায় কর্মসংস্থানের সুযোগের অভাবের কারণে বহু মানুষ অর্থনৈতিক সমস্যার মধ্যে রয়েছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, পাহাড় এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এর ফলে বহু মানুষ নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন বলে দাবি করেন তিনি।
আশীষ কুমার সাহা বলেন, সারা দেশের মতো ত্রিপুরাতেও আদিবাসীদের জল, জমি ও জঙ্গলের অধিকার নিয়ে লড়াই অব্যাহত রয়েছে। জনজাতি মানুষের বিভিন্ন সমস্যা এবং দাবি-দাওয়া নিয়ে আদিবাসী কংগ্রেস ধারাবাহিকভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি। ভিলেজ কমিটি নির্বাচনকে সামনে রেখে পাহাড়ে সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির পাশাপাশি জনজাতি মানুষের বিভিন্ন সমস্যাকে সামনে রেখে আরও সক্রিয়ভাবে মাঠে নামার বার্তা দিয়েছে কংগ্রেস। এখন দেখার, আসন্ন ভিলেজ কমিটি নির্বাচনে এককভাবে লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে পাহাড়ে কংগ্রেস কতটা সাংগঠনিক সাফল্য অর্জন করতে পারে।



