রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত সংখ্যক শিক্ষক না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে ছাত্রছাত্রীদের পঠনপাঠন। দীর্ঘদিন ধরেই শিক্ষক স্বল্পতা দূর করার দাবিতে বিভিন্ন জায়গায় আন্দোলনে নামছে পড়ুয়ারা। অন্যদিকে শিক্ষকতার চাকরির পরীক্ষায় উত্তীর্ণ বেকার যুবক-যুবতীরাও নিয়োগের দাবিতে ধারাবাহিকভাবে আন্দোলন করে চলেছেন। কখনও টেট উত্তীর্ণরা, আবার কখনও এসটিজিটি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ চাকরিপ্রার্থীরা দ্রুত নিয়োগের দাবিতে রাস্তায় নামছেন। দাবি আদায়ের আন্দোলন করতে গিয়ে পুলিশের হাতে আটক বা গ্রেপ্তারের ঘটনায় চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে ক্ষোভও বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে ২০২৫ সালে অনুষ্ঠিত এসটিজিটি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সকল বেকার যুবক-যুবতীকে একসঙ্গে নিয়োগের দাবিতে সোমবার ফের রাস্তায় নামলেন চাকরিপ্রার্থীরা।
এদিন আগরতলায় নিজেদের দাবিদাওয়া নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন একদল এসটিজিটি উত্তীর্ণ চাকরিপ্রার্থী। কিন্তু কিছুটা এগোতেই আরক্ষা প্রশাসনের কর্মীরা তাদের গতিপথ আটকে দেন বলে অভিযোগ। এরপর বাধ্য হয়ে আগরতলার তুলসীবতি স্কুলের সামনে রাস্তায় বসে পড়েন আন্দোলনকারীরা। চাকরিপ্রার্থীরা সেখানে বসে নিজেদের দাবির সমর্থনে স্লোগান দিতে থাকেন। পরিস্থিতির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান ডেপুটি কালেক্টর ম্যাজিস্ট্রেট বা ডিসিএম। পরে আন্দোলনকারীদের একটি প্রতিনিধি দল তাঁদের দাবিসংবলিত স্মারকলিপি ডিসিএমের হাতে তুলে দেয়। মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে সেই স্মারকলিপি পাঠানোর দাবি জানান তাঁরা।
চাকরিপ্রার্থীদের বক্তব্য, ২০২৫ সালের এসটিজিটি পরীক্ষায় সারা রাজ্য থেকে প্রায় ১৭ হাজারেরও বেশি বেকার যুবক-যুবতী অংশগ্রহণ করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় ৩ হাজার পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন। কিন্তু রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে মাত্র ৭০০টি পদে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে বলে অভিযোগ চাকরিপ্রার্থীদের। তাঁদের প্রশ্ন, একদিকে রাজ্যের সরকারি বিদ্যালয়গুলিতে শিক্ষকের ঘাটতি রয়েছে। শিক্ষক না থাকায় বহু বিদ্যালয়ে স্বাভাবিক পঠনপাঠন ব্যাহত হচ্ছে। অন্যদিকে যোগ্যতা অর্জন করে এসটিজিটি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরও হাজার হাজার চাকরিপ্রার্থী নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে শূন্যপদের সংখ্যা বৃদ্ধি করে সমস্ত উত্তীর্ণ প্রার্থীকে একসঙ্গে নিয়োগ করা উচিত বলে দাবি তাঁদের।
চাকরিপ্রার্থীরা আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগের আশায় তাঁরা অপেক্ষা করছেন। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরও নিয়োগ না হওয়ায় তাঁদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। তাই সরকারের কাছে দ্রুত শূন্যপদের সংখ্যা বাড়িয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করার আবেদন জানানো হয়েছে। শিক্ষক সংকট এবং যোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগ—দুই বিষয়কে সামনে রেখেই এদিনের আন্দোলন বলে জানান তাঁরা। তাঁদের দাবি, অবিলম্বে প্রশাসন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নিলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনে নামবেন চাকরিপ্রার্থীরা। ফলে একদিকে যখন সরকারি বিদ্যালয়গুলিতে শিক্ষক স্বল্পতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, অন্যদিকে যোগ্যতা অর্জন করেও নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন বিপুল সংখ্যক বেকার যুবক-যুবতী। এই দুই সমস্যার সমাধানে রাজ্য সরকার কবে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করে, এখন সেটাই দেখার।



