দেশ ও রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে এবার সরব হলো প্রদেশ বিজেপি। মঙ্গলবার আগরতলার প্রদেশ বিজেপি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন রাজ্যের মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী। এদিন তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির সাধারণ সম্পাদক বিপিন দেববর্মা এবং দলের মিডিয়া ইনচার্জ সুনিত সরকার। সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলমান আন্দোলন এবং বিরোধী দলগুলির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধীরা বিভিন্ন ইস্যুতে নিজেদের রাজনৈতিক সুবিধা অনুযায়ী অবস্থান পরিবর্তন করছে এবং একই ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন রাজ্যে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া দিচ্ছে।
শ্রী চৌধুরী বলেন, দিল্লিতে চলমান আন্দোলন নিয়ে কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলি যেভাবে সরব হয়েছে, ঠিক একইভাবে ঝাড়খণ্ডে কংগ্রেস পরিচালিত সরকারের বিরুদ্ধে ছাত্র-ছাত্রীদের আন্দোলনের সময় তারা নীরব ভূমিকা পালন করছে। তাঁর দাবি, ঝাড়খণ্ডে চাকরি সংক্রান্ত অনিয়ম, প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং দুর্নীতির অভিযোগে ছাত্র-ছাত্রীরা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু সেই আন্দোলনের প্রতি বিরোধী নেতৃত্বের কোনও সহমর্মিতা বা সমর্থন লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। মন্ত্রী আরও বলেন, ঝাড়খণ্ডে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনরত ছাত্র-ছাত্রীদের উপর যে ধরনের দমনমূলক আচরণ করা হচ্ছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী মহিলাদের শ্লীলতাহানির অভিযোগও উঠেছে বলে দাবি করেন তিনি। কিন্তু এই বিষয়ে কংগ্রেস নেতৃত্ব কিংবা বিরোধী শিবিরের কোনও স্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যাচ্ছে না বলেও মন্তব্য করেন।
দিল্লির আন্দোলন প্রসঙ্গে সুশান্ত চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। কিন্তু বিরোধী দলগুলি সেই উদ্যোগকে সমর্থন না করে বরং আন্দোলনকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। বিরোধীদের বিরুদ্ধে ‘দ্বিচারিতার রাজনীতি’র অভিযোগ এনে মন্ত্রী বলেন, একটি জাতীয় রাজনৈতিক দলের নীতি ও অবস্থান গোটা দেশে এক হওয়া উচিত। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, এক রাজ্যে এক ধরনের অবস্থান এবং অন্য রাজ্যে সম্পূর্ণ বিপরীত অবস্থান গ্রহণ করছে বিরোধীরা। এর ফলেই দেশের মানুষ ধীরে ধীরে কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলির উপর আস্থা হারিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
রাহুল গান্ধীর নাম উল্লেখ করে সুশান্ত চৌধুরী বলেন, দিল্লির বিভিন্ন ইস্যুতে তিনি সরব থাকলেও ঝাড়খণ্ডে ছাত্র-ছাত্রীদের ন্যায্য দাবির আন্দোলন নিয়ে তাঁর কোনও বক্তব্য নেই। রাঁচির রাজপথে যখন চাকরি ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে আন্দোলন চলছে, তখন বিরোধী নেতারা নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি। সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি আরও দাবি করেন, বিরোধীরা শুধুমাত্র রাজনৈতিক স্বার্থে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। বাস্তব সমস্যার সমাধান কিংবা সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষার পরিবর্তে তারা ইস্যুভিত্তিক রাজনীতি করছে। আগামী দিনে বিজেপি এই ধরনের দ্বিচারিতার বিরুদ্ধে আরও জোরালোভাবে জনমত গড়ে তুলবে বলেও জানান মন্ত্রী। এদিনের সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে দেশ ও রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিজেপির অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়। একইসঙ্গে বিরোধী দলগুলির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আগামী দিনে রাজনৈতিকভাবে আরও আক্রমণাত্মক অবস্থান নেওয়ার ইঙ্গিতও দেয় শাসকদল।



