বইয়ের দাম পাঠকদের নাগালের মধ্যে রাখতে রাজ্যে প্রকাশনা শিল্প স্থাপনের দাবি উঠলো। বিশেষ করে রাজ্যে মুদ্রণ এবং বাইন্ডিং এর ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি জানান মৌমিতা প্রকাশনীর কর্ণধার রাখাল মজুমদার।
আজকের ডিজিটাল যুগেও বই পাঠকদের কাছে এখনো আকর্ষণীয় ।পাঠক বই পড়তে ভালোবাসেন ।পাঠক বই কিনতেও চান ।রবিবার আগরতলা প্রেসক্লাবে মৌমিতা প্রকাশনী উদ্যোগে আয়োজিত লেখক সম্মেলনে এমনই মূল তত্ত্ব উঠে এসেছে ।মূলত এখন পর্যন্ত প্রায় চারশর উপর বই প্রকাশনা করেছে মৌমিতা প্রকাশনী ।মৌমিতা প্রকাশনীর বইগুলোর লেখক রয়েছেন প্রায় ৩০০ থেকে ৩৫০ জন ।এই লেখকদের সাথে পাঠক এবং প্রকাশকের মেলবন্ধন ঘটানো লক্ষ্যেই এদিন আগরতলা প্রেস ক্লাবে লেখক সম্মেলনের উদ্যোগ গ্রহণ করে মৌমিতা প্রকাশনী। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের বিশিষ্ট লেখকরা ।এদিন এই লেখক সম্মেলন প্রসঙ্গে মৌমিতা প্রকাশনীর কর্ণধার রাখাল মজুমদার জানান, ডিজিটাল যুগেও রাজ্যে বই পাঠকের সংখ্যা প্রচুর। এখনো তারা বই পড়তে ভালোবাসেন ।বই কিনতেও ভালবাসেন ।কিন্তু বই এর দাম অনেকটাই বেশি ।এর মূল কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মৌমিতা প্রকাশনীর কর্ণধার রাখাল মজুমদার জানান ,রাজ্যে মুদ্রণ এবং বাইন্ডিং এর কোন ব্যবস্থা নেই ।অধিকাংশরাই কলকাতা থেকে বাইন্ডিং এবং মুদ্রন করে আনেন। রাজ্য সরকার যদি ছাপাখানার ব্যবস্থা করে বা রাজ্য সরকারের সাহায্যে যদি কোন ছাপাখানা গড়ে উঠে তবে অনেক লোকের কর্মসংস্থান হবে ।এতে বইয়ের দামও অনেকটাই কমবে ।তিনি অকপটেই স্বীকার করেন ,ছাপা কলকাতা নির্ভরশীল হওয়ায় বইয়ের দাম বেড়ে যায় ।তাই বই এর দাম পাঠকদের নাগাল এর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে রাজ্যে ছাপাখানা গড়ে তোলা একান্ত প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
এদিন মৌমিতা প্রকাশনী’র উদ্যোগে আয়োজিত এই লেখক সম্মেলনে লেখকরা তাদের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। পাঠকের লক্ষ্যে লেখার বিষয়বস্তু নিয়েও সম্মেলনে বিস্তারিত আলোচনা হয় ।এই বিষয়টি রাজ্যে নেই বললেই চলে ।পাঠকরা কি চান তার কোন বিশ্লেষণ ত্রিপুরায় হয় না ।এদিন কিছুটা হলেও মৌমিতা প্রকাশনীর এই লেখক সম্মেলনে আলোচনা হল ।এই ধরনের আলোচনা লেখক পাঠক এবং প্রকাশকদের আরো উৎসাহিত করবে বলেই বিভিন্ন মহলের অভিমত।



