Friday, February 20, 2026
বাড়িখবরশীর্ষ সংবাদগভীর রাতে খোয়াই অফিসটিলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড পুড়ে ছাই ৯টি দোকান ক্ষয়ক্ষতি লক্ষাধিক...

গভীর রাতে খোয়াই অফিসটিলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড পুড়ে ছাই ৯টি দোকান ক্ষয়ক্ষতি লক্ষাধিক টাকা

বাসুদেব ভট্টাচার্যী খোয়াই ১৯শে ফেব্রুয়ারি…..বুধবার গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে স্তব্ধ হয়ে গেল খোয়াই অফিসটিলা এলাকার চম্পা হাওর চৌমুহনী স্থিত বর্ধনের দোকান সংলগ্ন এলাকায়। বুধবার রাত আনুমানিক বারোটা নাগাদ আগুনের লেলিহান শিখায় পুড়ে ছাই হয়ে যায় মোট ৯টি দোকান। আগুনে পুড়ে যাওয়া দোকানগুলির মধ্যে ছিল একাধিক মুদির দোকান। অটো রিক্সার স্পেয়ার পার্সের দোকান, বিউটি পার্লার, লন্ড্রি সহ অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। হঠাৎ আগুন দেখে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।


খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় খোয়াই অগ্নিনির্বাপক দপ্তর-এর তিনটি ইঞ্জিন। পাশাপাশি খোয়াই পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ‘বরুণ’ নামক একটি জলকামান এবং কল্যাণপুর থেকে একটি আগুন নেভানোর ইঞ্জিন এনে শেষে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজে লাগানো হয়। আগুনের তীব্রতা এতটাই ছিল যে চারটি ইঞ্জিনের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলে আগুন নেভানোর কাজ। অবশেষে অগ্নিনির্বাপক দপ্তর, পুলিশ প্রশাসন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সম্মিলিত চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। বড়সড় দুর্ঘটনা এড়িয়ে আশেপাশের বাড়িগুলিও রক্ষা পায়। খবর পেয়ে রাত আড়াইটা পর্যন্ত বহু স্থানীয় মানুষ রাস্তায় নেমে উদ্ধার ও আগুন নেভানোর কাজে সহযোগিতা করেন।


ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন খোয়াই মহকুমার পুলিশ আধিকারিক কুদ্রসু। উনার তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। তিনি নিজেও আগুন নেভানোর কাজে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে দেখা গেছে।প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে, এই অগ্নিকাণ্ডে কয়েক লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে সৌভাগ্যবশত, এই ঘটনায় কোনো প্রাণহানির খবর নেই। আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও জানা যায়নি বলে জানিয়েছেন পুলিশ আধিকারিক।তবে ধারণা করা হচ্ছে অটোমোবাইল পার্স এর দোকানে বিদ্যুৎ এর সর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে বলে ধারণা করছেন অনেকে।


এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় দোকান হারানো পরিবারগুলি ভেঙে পড়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা সরকারের কাছে আর্থিক সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।তবে একটা কথা বলতে হয় এই দৃশ্য দেখে যে বুধবার রাতের এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে স্তব্ধ হয়ে গেল গোটা খোয়াই শহর। এই অগ্নিকাণ্ড টি ঘটেছিল খোয়াই অফিস টিলা রোড স্থিত চম্পা হাওয়ার চৌমনী অর্থাৎ বর্ধনের দোকান এর নিকটবর্তী এলাকায়। সেখানকার নয়টি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এই লেলিহান আগুনের শিখায় যে সমস্ত দোকানের মালিকেদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এরা হলেন অঙ্কুশ আচার্জী ভুসিমালের দোকান, অমল আচার্জী ভুসি মালের দোকান, রুমা দাস একটি বিউটি পার্লার, রাজু দাস ভুষি মালের দোকান, মলয় রায় টেইলারের দোকান, স্বপন দে পানের দোকান, সুভাষ সূত্রধর উনার ও পানের দোকান, সুরজিৎ দেবনাথ অটোমোবাইলসের দোকান, ধনঞ্জয় মুখার্জি প্রিন্টিং প্রেস ও জেরক্স এর দোকান মোট এই ৯ জনের দোকানের প্রায় 50 লক্ষাধিক টাকার উপর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে। যদিও রাতে তহশীলদার সহ ডিসিএম প্রাথমিক ক্ষয় ক্ষতির হিসাব নিয়ে যান। তবে ধারণা করা হচ্ছে এই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কোটি টাকার উপর যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছে অনেকেই। বুধবার রাতের এই মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ড দেখতে বৃহস্পতিবার ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত প্রচুর সংখ্যক লোক এই ঘটনা দেখতে এলাকায় ভিড় করে। এই ঘটনার খবর পেয়ে খোয়াই জেলার অতিরিক্ত জেলাশাসক অভেদানন্দ বৈদ্য, খোয়াই মন্ডল সভাপতি অনুকুল দাস , জেলা সাধারণ সম্পাদক সমীর কুমার দাস, খোয়াই মন্ডলের সাধারণ সম্পাদক অনিমেষ নাগ, রঞ্জন দাস সহ মন্ডলের বিভিন্ন কার্যকর্তারা বৃহস্পতিবার সকালে সেখানে গিয়ে উপস্থিত হন । এবং ক্ষতিগ্রস্তদের আশ্বস্ত করা হয় সরকারি তরফ থেকে সাহায্য প্রদান করা হবে বলে। তবে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নয়টি পরিবার পথে বসে গেছেন বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন প্রত্যেকটি ব্যাবসায়ী। বুধবার রাতের এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার ভয়াবহতার রেশ এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার গুলি ।এই বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের সাথে কথা বলে জানা যায় তাদের ব্যাপক পরিমাণে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এই অগ্নিকাণ্ডের কারণে। এখন দেখার বিষয় এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত নয়টি পরিবারেরকে সাহায্য করতে খোয়াই জেলা প্রশাসন কতটুকু এগিয়ে আসে। তবে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নয়টি পরিবারের কোমর একেবারে ভেঙে দিয়েছে বলে জানা যায়। এত বড় ক্ষয়ক্ষতি থেকে তারা কবে পরিত্রাণ পাবে সেটা হয়তো ঈশ্বরই জানেন।

RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

12 + 15 =

- Advertisment -spot_img

জনপ্রিয় খবর

সাম্প্রতিক মন্তব্য