Wednesday, January 21, 2026
বাড়িখবরশীর্ষ সংবাদখোয়াই শহরের নেশা কারবারিদের রাড় বাড়ন্ত কমিয়ে দিচ্ছে সাদা পোশাকের পুলিশ। খুশি...

খোয়াই শহরের নেশা কারবারিদের রাড় বাড়ন্ত কমিয়ে দিচ্ছে সাদা পোশাকের পুলিশ। খুশি সাধারণ জনগণ থেকে বুদ্ধিজীবী মহল পর্যন্ত।

বাসুদেব ভট্টাচার্যী খোয়াই ৫ই ডিসেম্বর…..সাংস্কৃতিক শহর হিসেবে পরিচিত ছিল খোয়াই শহর। কিন্তু ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর থেকে সারা রাজ্যের সাথে খোয়াই শহরের কিছু জামা পাল্টানো নেশা কারবারের মাফিয়া দের কারণে সাংস্কৃতিক শহরের পিঠস্থান হিসেবে পরিচিত খোয়াই শহরের এই তকমাটাকে কালিমা লিপ্ত করে দিয়েছিল তারা।খোয়াই শহরের সেই সংস্কৃতি তকমাটাকে পুনরায় উজ্জীবিত করার লক্ষ্যে বর্তমান সময়ে খোয়াইতে সাদা পোশাক পরিহিত পুলিশের ভূমিকা অপরিসীম যা বলা বাহুল্য। খোয়াই শহরটি হল সংস্কৃতির শহর ।এই খোয়াই শহর শুধু রাজ্যের মধ্যে পরিচিত শহর নয় গোটা উত্তর পূর্বাঞ্চল সহ সারা ভারতের মধ্যে এই শহরের নামের খ্যাতি ছড়িয়ে রয়েছে । কিন্তু গত প্রায় এক দশক ধরে সংস্কৃতি শহরের তকমা অবৈধ নেশার কবলে অনেকটাই ভস্মিভূত হওয়ার উপক্রম। হারিয়ে যেতে বসেছে খোয়াই শহরের সুনাম ও সংস্কৃতির তকমা। যদিও পুলিশ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল অবৈধ নেশার বাড়বাড়ন্তকে রোধ করতে। প্রকৃত অর্থে সঠিকভাবে লাগাম টানাও সম্ভব হচ্ছিল না। তাতে খোয়াই শহর এবং তার শহরতলীর অভিভাবক মন্ডলীরা একটা সময় দুশ্চিন্তায় দিনযাপন করছিল।যে ছেলেমেয়েদের বাড়ি থেকে বের হওয়া ছিল অভিভাবকদের কাছে ব্যাপক দুশ্চিন্তার কারণ। অবৈধ মরণ নেশা ড্রাগসের কারবারীরা সমস্ত খোয়াই জুড়ে অবৈধ ব্যবসার জাল বিছিয়ে ফেলেছিল। যদিও পুলিশ ছোট ছোট নেশা কারবারিদের আটক করতে সক্ষম হলেও অবৈধ নেশার মাফিয়াদের জালে তুলতে সক্ষম হচ্ছিল না। ঠিক তখনই প্রায় ছয় মাস আগে খোয়াই জেলা পুলিশ সুপারের দায়িত্বে আসেন রানাদীত্ত দাস। ওনার এবং উনার দপ্তরের পক্ষ থেকে গোটা খোয়াই জুড়ে সাদা পোশাক পরিহিত কিছু পুলিশ কর্মীকে নিয়োগ করা হয়েছিল। এই সাদা পোশাক পরিহিত পুলিশরা গত ছয় মাস ধরে খোয়াই শহর এবং শহরতলী এলাকাতে অবৈধ নেশা কারবারি থেকে শুরু করে অবৈধ নেশা সেবনকারীদের সনাক্ত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসে। যার ফলে চুনোপুটি থেকে শুরু করে রাঘব বোয়ালরাও পুলিশের জালে ধরা পড়তে শুরু করে। আর ওইসব নেশা কারবারীদের কাছ থেকে যে সকল বুদ্ধিজীবী লোকেরা প্রতিমাসে উপঢৌকান পেয়ে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়েছে আজ তাদের মাথায় হাত। কারণ সাদা পোশাক পরিহিত পুলিশের কারণে নেশা বাণিজ্যের বড় বড় মাফিয়াদের জালে তুলতে সক্ষম হচ্ছে এই পুলিশের দল। আর তাদের উপঢৌকন বাণিজ্যে ব্যাঘাত ঘটার ফলে একশ্রেণির বুদ্ধিজীবী মহল সেই সাদা পোশাক পরিহিত পুলিশদেরকে কলঙ্কিত ও বদনাম করতে উঠে পড়ে লেগেছে।নেশা বিরোধী অভিযানে নেমে সাদা পোশাকে পুলিশরা খোয়াই শহরের নেশার জঞ্জালকে মুক্ত করতে কি ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে বা তাদের সাফল্য কতটুকু এই বিষয়ে জানতে চাইলে গোটা বিষয়টি নিয়ে খোয়াইয়ের বুদ্ধিজীবী মহল খুবই উৎফুল্লিত। সাদা পোষাক পরিহিত পুলিশ এবং নেশা বিরোধীদের বিরুদ্ধে যে জিহাদ সাদা পুলিশের কর্মীরা করেছে বা করে যাচ্ছে সে বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে খোয়াই শহরের বিশিষ্ট আইনজীবী গৌতম ঘোষ, খোয়াই জেলা হাসপাতালের মেডিকেল সুপার সরদিন্দু রিয়াং, খোয়াই সুভাষ পার্ক কোহিনূর কমপ্লেক্স মার্কেটের বাজার কমিটির সভাপতি সুব্রত বণিক এই বিষয়ে তাদের প্রতিক্রিয়াগুলি জানতে গেলে তারা জানান বর্তমান সময়ের সেই সাদা পোশাকের পুলিশের কারণে খোয়াই শহরে বর্তমান সময়ে নেশা কারবাড়িদের বার বাড়ন্ত অনেকটাই কমে গেছে। যদিও তৃণমূলে স্তরে শেষ করা সম্ভব হয়নি তবুও তাদের কাজ তারা চালিয়ে যাচ্ছে । আগামী দিন তৃণমূল স্তরে সমস্ত নেশা কারবারীদের উৎখাত করতে সক্ষম হব বলে আশাবাদী খোয়াই শহরের বিভিন্ন বুদ্ধিজীবী মহল। এবং একটা সময় আসবে খোয়ার শহরটি সেই আগের সুনামের সাথে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে বলে তারা জানান। তবে সর্বশেষে তাদের বক্তব্যে একটা কথাই স্পষ্ট সাদা পোশাক পরিহিত পুলিশের ভূমিকা নিয়ে কোন দ্বন্দ্ব নেই। এবং তারা যা করছে সমাজের স্বার্থে করছে। তাদের এই কাজের জন্য খোয়াই শহরের বিভিন্ন বুদ্ধিজীবী মহলের লোকেরা তাদেরকে সাধুবাদ জানাতে কৃপণতা বোধ করছে না।

RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

17 + twelve =

- Advertisment -spot_img

জনপ্রিয় খবর

সাম্প্রতিক মন্তব্য