আজ কৈলাসহর মহকুমার চন্ডীপুর ব্লকের সরোজনী পঞ্চায়েত কার্যালয় প্রাঙ্গণে নবচেতনা জাতীয় অভিযানের (৪.০) অঙ্গ হিসেবে একদিনের স্বাস্থ্য শিবির ও নারী সুরক্ষা আইন সচেতনতা বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এই অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করে সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা দপ্তরের মন্ত্রী টিংকু রায় বলেন, মহিলা ক্ষমতায়ণে রাজ্য সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। মেয়েরা আজ আর কোন ক্ষেত্রেই পিছিয়ে নেই। তাদের স্বনির্ভর করতে এই সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর টিআরএলএম প্রকল্পে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। তিনি আরও বলেন, বাল্য বিবাহ রোধে রাজ্য সরকার কাজ করছে। কোনও অন্ত্যোদয় পরিবার যদি তাদের মেয়ের বিয়ে ১৮ বছর পর্যন্ত হওয়ার পর দেয়, তবে সেই পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা সহায়তা করা হয়। এছাড়াও অন্ত্যোদয় পরিবারে যদি কোনো মেয়ে শিশু জন্ম গ্রহণ করে তাহলে সেই মেয়েটি ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার পর এককালীন ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা পাবে। তিনি বলেন, যে একজন মা নিজের শিশুর যত্ন নিচ্ছেন, সেই শিশুর শিক্ষার জন্য রাজ্য সরকার প্রতি মাসে ৪ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে। যা শিশুর ১৮ বছর পর্যন্ত চলবে। গত অর্থবছরে প্রায় ৫ হাজার পরিবার এই সুবিধা পেয়েছে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, আজকের মেয়েরা পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা ও অন্যান্য ক্ষেত্রে দেশের নাম উজ্জ্বল করছে। তাদের এই অগ্রযাত্রায় সমাজের প্রতিটি মানুষকে পাশে দাঁড়াতে হবে। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন চন্ডীপুর ব্লকের বিডিও দেবপ্রিয় দাস। তাছাড়া অনুষ্ঠানে চন্ডীপুর পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারম্যান সম্পা দাস পাল, কৈলাসহর মহকুমার মহকুমা শাসক বিপুল দাস বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চন্ডীপুর পঞ্চায়েত সমিতির ভাইস চেয়ারম্যান বিনয় সিংহ, ঊনকোটি জিলা পরিষদের সদস্য বিমল কর, সরোজিনী পঞ্চায়েতের প্রধান অনিতা কৈরি, সমাজ কল্যাণ ও সমাজ শিক্ষা দপ্তরের জেলা পরিদর্শক বিদ্যাসাগর দেববর্মা, সমাজ সেবী পিন্টু ঘোষ প্রমুখ। স্বাস্থ্য দপ্তর থেকে অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য শিবিরের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে চা বাগান এলাকার বিভিন্ন বিদ্যালয়ের ছাত্রী ও স্বসহায়ক দলের দিদিদের মধ্যে স্যানিটারি কিটও বিতরণ করা হয়।



