Saturday, August 30, 2025
বাড়িখবররাজ্যত্রিপুরা শিল্প উন্নয়ন নিগম গত অর্থবছরে ৯ কোটি ৮৭ লক্ষ টাকা মুনাফা...

ত্রিপুরা শিল্প উন্নয়ন নিগম গত অর্থবছরে ৯ কোটি ৮৭ লক্ষ টাকা মুনাফা অর্জন করেছে: চেয়ারম্যান

ত্রিপুরা শিল্প উন্নয়ন নিগম লিমিটেডকে একটি লাভজনক সংস্থায় পরিণত করার জন্য রাজ্য সরকার বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। এই নিগম গত ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৪ কোটি ২ লক্ষ টাকা মুনাফা অর্জন করেছে। এছাড়া ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে ৭ কোটি ৩৩ লক্ষ টাকা এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৯ কোটি ৮৭ লক্ষ টাকা মুনাফা অর্জন করেছে। ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে ১৩ কোটি টাকা মুনাফা অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। আজ খেজুরবাগানস্থিত ত্রিপুরা শিল্প উন্নয়ন নিগম লিমিটেডের কনফারেন্স হলে ত্রিপুরা শিল্প উন্নয়ন নিগম লিমিটেডের চেয়ারম্যান নবাদল বণিক এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই সংবাদ জানান। তিনি বলেন, ত্রিপুরা শিল্প উন্নয়ন নিগম রাজ্যের গ্রাম পাহাড় ও শহরাঞ্চলের বেকার যুবক যুবতীদের স্বনির্ভর করার প্রয়াস নিয়েছে। এলক্ষ্যে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। যুব ত্রিপুরা, নতুন ত্রিপুরা, আত্মনির্ভর ত্রিপুরা প্রকল্পটি আজ রাজ্যের যুবক যুবতীদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহাও চান রাজ্যের ছেলেমেয়েরা আত্মনির্ভর হয়ে উঠুক। কারণ যুব সমাজ আত্মনির্ভর হয়ে উঠলেই দেশ তথা রাজ্য স্বয়ম্ভর হয়ে উঠবে।

তিনি বলেন, শিল্প উন্নয়ন নিগম শিল্প উন্নয়নের লক্ষ্যে নতুন উদ্যোগ গ্রহণ, নিগমের পরিচালনায় দক্ষতা বৃদ্ধি, শিল্প বান্ধব নীতি, বিনিয়োগ বান্ধব নীতি প্রণয়ন, বন্ধ হয়ে যাওয়া ইউনিটগুলোর পুনরুজ্জীবন, অচল ইউনিটগুলোর অধিগ্রহণ ও নতুন উদ্যোক্তাদের মাঝে তা বরাদ্দ করা, ভাড়া আদায় বৃদ্ধি, মুনাফা অর্জন ইত্যাদি ক্ষেত্রগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমানে নিগম রাজ্যের ১৩টি শিল্প এলাকা (ইন্ডাস্ট্রিয়াল এস্টেট)-তে শিল্প স্থাপনের জন্য জমি ব্যবস্থাপনা ও বরাদ্দের কাজ পরিচালনা করছে। এর পাশাপাশি রাজ্যের বিভিন্ন অংশে আরও ৭টি নতুন শিল্প এলাকার উন্নয়নের জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্ক বোধজংনগর, আরকে নগর, ডুকলি, নাগিছড়া, কুমারঘাট, ধর্মনগর, দেওয়ানপাসা, ধুজনগর ও সাড়াসীমা এই ৯টি শিল্প এলাকায় আধুনিক মানের শিল্প পরিকাঠামো গড়ে তোলার জন্য ৯৭৫.২৬ কোটি টাকার ঋণ অনুমোদন করেছে। ইতিমধ্যে এই কাজ শুরু হয়ে গেছে। এছাড়াও আরও ৪টি শিল্প এলাকা যথাক্রমে জলেফা (সাব্রুম), শান্তিরবাজার, লালছড়ি (আমবাসা) এবং ফটিকরায় এর পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য ভারত সরকারের এম এস এম ই মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

তিনি বলেন, শান্তিরবাজার (নতুন রাবার পার্ক) ও ফটিকরায়ে নতুন শিল্পাঞ্চল স্থাপনের জন্য রাজ্য সরকার জমি হস্তান্তর করেছে এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য জরিপের কাজ শুরু হয়েছে। ২৪টি বন্ধ শিল্প ইউনিটের প্রায় ২৮ একর জমি পুনরুদ্ধার করে তা ব্যবহারযোগ্য করে নতুন উদ্যোক্তাদের বরাদ্দ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া ৪টি বন্ধ ইউনিট পুনরুজ্জীবিত করে সচল করা হয়েছে। বাধারঘাট ও এডিনগর শিল্প এলাকার ‘লিজ রেন্ট’ পর্যালোচনা করে প্রতি বর্গফুট ৫ টাকা থেকে হ্রাস করে শুধু ৪৫ পয়সা করা হয়েছে। এর ফলে উক্ত শিল্প এলাকায় অবস্থিত প্রায় ৬০টি শিল্প ইউনিট উপকৃত হবে। তিনি বলেন, সিঙ্গেল উইন্ডো সার্ভিস দ্বারা সকল অনুমতি, লাইসেন্স, ছাড়পত্র, অনুমোদন ইত্যাদি একটি মাত্র ওয়েব পোর্টালের মাধ্যমে প্রদান করা হচ্ছে। বোধজংনগর ও আরকে নগর শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নৈশকালীন পুলিশি টহলদারির মাধ্যমে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। সকল শিল্পাঞ্চলে ২৪ ঘন্টা বিদ্যুৎ-এর ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি বলেন, রাজ্য সরকার এই নিগমকে ‘স্পেশাল আরবান প্ল্যানিং এন্ড ডেভেলপমেন্ট অথরিটি’ হিসেবে ঘোষণা করে সংশ্লিষ্ট শিল্পাঞ্চলগুলোতে প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রদান করেছে।

তিনি বলেন, নিগমের উদ্যোগে বর্তমানে আরকেনগর ও দেওয়ানপাসায় রাবার ভিত্তিক দুটি প্লাইউড কারখানা চলছে। আরও ৭ ইউনিট বাস্তবায়ণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বেকাররা ব্যাঙ্ক থেকে ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত যাতে ঋণ নিতে পারে (গ্যারান্টি ছাড়া) তার জন্য নিগম উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি বলেন, ২০২৩-২৪ এবং ২০২৪-২৫ এই দুই অর্থবছরে ৬৭টি ইউনিটকে জমি/শেড প্রদান করা হয়েছে। তিনি বলেন, রাজ্যে শিল্পের উন্নয়নে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্ক ৭৪০.৩৩ কোটি (২০২৫-এর ২৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত) টাকা ঋণ মঞ্জুর করেছে। তিনি বলেন, বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান থেকে এই নিগম ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৭২ লক্ষ টাকা, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৮৮ লক্ষ টাকা এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১ কোটি ৯৭ লক্ষ টাকা ঋণ পুনরুদ্ধার করেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য ৩ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান থেকে ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৫.২০ কোটি টাকা লিজ রেন্ট রিকোভারি হয়েছে। ২০২৩-২৪ এ হয়েছে ৬.৩২ কোটি টাকা এবং ২০২৪-২৫ এ হয়েছে ৬.৫১ কোটি টাকা। ২০২৫-২৬ এর লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ৮ কোটি টাকা।

সাংবাদিক সম্মেলনে নিগমের এমডি ডা. শৈলেশ কুমার যাদব জানান, শিল্প কারখানায় দক্ষ শ্রমিকের জন্য এখন পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রী দক্ষতা উন্নয়ন প্রকল্পে ১০ হাজার জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। নতুন শিল্পাঞ্চলের জন্য রাজ্য সরকার থেকে ৬০০ একর জমি চাওয়া হয়েছে। এছাড়া আলোচনায় অংশ নেন নিগমের বোর্ড অব ডিরেক্টর মিহির সরকার ও মেঘনাথ সাহা।

RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

two × 1 =

- Advertisment -spot_img

জনপ্রিয় খবর

সাম্প্রতিক মন্তব্য