সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে অর্গানিক পদ্ধতিতে উৎপাদিত কৃষি পণ্য তুলে দেওয়ার লক্ষ্যে এবার বিশেষ উদ্যোগ নিল নর্থ-ইস্টার্ন রিজিওনাল এগ্রিকালচারাল মার্কেটিং কর্পোরেশন। আগরতলার প্রাণকেন্দ্র সিটি সেন্টার এলাকায় নেরামেক অর্গানিক কৃষিজাত পণ্য’র খুচরো বিপণন কেন্দ্রের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয় ত্রিপুরা সরকারের কৃষি এবং কৃষক কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী রতনরান নাথের হাত ধরে। মন্ত্রী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন নেরামিক’র ম্যানেজিং ডিরেক্টর কমোডর রাজীব অশোক, ত্রিপুরা সরকারের কৃষি ও কৃষক কল্যাণ দপ্তরের সচিব অপূর্ব রায়, অধিকর্তা ড. শরদিন্দু দাস, উদ্যান ও মৃত্তিকা সংরক্ষণ বিভাগের অধিকর্তা ড. পি বি জমাতিয়া, সহধিকর্তা ড. রাজীব ঘোষ সহ অন্যান্যরা। এদিনের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কৃষি এবং কৃষক কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী রতন লাল নাথ বলেন, ত্রিপুরা সরকার রাজ্যে জৈব তথা অর্গানিক পদ্ধতিতে ফসল চাষের বিষয়ে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। ২০১৬-১৭ অর্থবছর থেকে ত্রিপুরা রাজ্য সরকারিক পদ্ধতিতে অর্গানিক ফসল চাষ শুরু হয়েছে। তখন রাজ্যে মাত্র দুই হাজার জমিতে অর্গানিক পদ্ধতিতে চাষবাস হত। রাজ্য সরকার অর্গানিক পদ্ধতিতে চাষবাসের দিকে নজর দেওয়ার পর গত সাড়ে পাঁচ বছরের তা ৯০০ গুন বেড়েছে। রাজ্যে ২০ হাজার হেক্টর জমিতে অর্গানিক পদ্ধতিতে চাষ হচ্ছে। আরো সাড়ে ৫ হাজার হেক্টর জমিতে অর্গানিক পদ্ধতিতে চাষবাস শুরু হবে বলে জানান তিনি। তাছাড়া সারা বিশ্বের মধ্যে ভারত বর্ষ অর্গানিক পদ্ধতিতে চতুর্থ স্থানে রয়েছে। তবে যেভাবে দেশে অর্গানিক চাষের বিষয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে খুব দ্রুত ভারত তৃতীয় স্থানে উঠে আসবে। সারা বিশ্বের মধ্যে অর্গানিক পদ্ধতিতে চাষবাসে প্রথম স্থানে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, দ্বিতীয় স্থানে আর্জেন্টিনা, তৃতীয় স্থানে স্পেন এবং চতুর্থ স্থানে ভারত রয়েছে। একইভাবে উত্তর-পূর্ব ভারতে অর্গানিক পদ্ধতিতে চাষের সিকিম প্রথম স্থানে রয়েছে, সে রাজ্যে ১০০ শতাংশ চাষ অর্গানিক পদ্ধতিতে হয়। রাজ্যের প্রায় কুড়ি হাজার চাষি অর্গানিক চাষের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।অর্গানিক পদ্ধতিতে চাষ করলে অধিক পরিমাণে লাভ পাওয়া যায় তাই কৃষি এবং কৃষক কল্যাণ দপ্তর চাষীদেরকে এই পদ্ধতিতে চাষের জন্য উৎসাহ দিচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী। এদিন বক্তব্য শেষে নিজে দাঁড়িয়ে গ্রাহকদের অর্গানিক পণ্য সামগ্রী বিক্রি করেন।



