আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া অপরাধ। তা জানা সত্ত্বেও কখনো কখনো দেখা যায় একাংশ মানুষ বিভিন্ন অভিযোগ এনে আইন নিজের হাতে তুলে নিতে। আর তখনই ঘটে বিপত্তি। যদিও এসব ঘটনায় পুলিশ অনেকটাই যেন নিরব দর্শক। যারা আইন নিজের হাতে তুলে নেয় তাদের বিরুদ্ধে নেই কোন প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা। যার ফলে রাজ্যে প্রতিনিয়ত ঘটছে এধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। এবার এমনই ঘটনায় মৃত্যু হল এক ব্যক্তির। চুরির অভিযোগ এনে স্থানীয়রা গণধোলাই দিলে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে নন্দু সরকার নামে এই ব্যক্তি। মৃত ব্যক্তির বয়স ৪০ বছর। ঘটনা বৃহস্পতিবার বোধজংনগর থানাধীন বলদা খাল ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায়। অভিযোগ পেশায় দিনমজুর নন্দু এদিন সকালে গরু চুরি করতে গেলে তাকে আটক করে গণধোলাই দেয় স্থানীয় কিছু লোক। আর এতে গুরুতর আহত হয়ে পড়ে সে। পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় নন্দুকে তুলে দেয় বোধজংনগর থানার পুলিশের হাতে। পুলিশ স্থানীয়দের হাত থেকে তাকে উদ্ধার করে রানির বাজার হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় জিবি হাসপাতালে হস্তান্তর করে। পরে পুলিশ তাকে জিবি হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক নন্দুকে মৃত বলে ঘোষণা করে। চোর সন্দেহে গণধোলাইয়ে নন্দুর মৃত্যুতে গোটা এলাকায় চাঞ্চল্য দেখা দেয়। দক্ষিণ চন্দ্রপুর তার বাড়ি হলেও বলদা খালেই স্ত্রীকে নিয়ে ভাড়া বাড়িতে থাকতেন নন্দু। ঘটনার সময় তার স্ত্রী ছিলেন বাবার বাড়িতে। স্বামীর মৃত্যুর খবর পেয়ে সোনালী দেব সরকার জিবি হাসপাতালে ছুটে গিয়ে স্বামীর মৃতদেহ দেখতে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। নন্দুর পরিবারের লোকদের দাবি তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তাই তার হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা। এখন দেখার বিষয় পুলিশ গণধোলাইকারীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে কিনা।



