আজ মঙ্গলবার রথযাত্রা। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের আরেকটি পবিত্র উৎসব। দেশের প্রায় সর্বত্রই হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা এই পবিত্র উৎসবে জগন্নাথ দেবের আরাধনায় ব্রতী হন। করোনার প্রকোপ কাটিয়ে এবার মহা ধুমধামে রথযাত্রা পালিত হচ্ছে। রাজধানীর মঠচৌমুহনীস্থিত ইসকন মন্দিরের তরফ থেকেও মহাসমারোহে রথ যাত্রার আয়োজন করা হয়েছে। এই রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে সাতদিনব্যাপী চলবে অনুষ্ঠান। শুক্রবার রাজধানীর মঠ চৌমুহনীস্থিত ইসকন মন্দিরে পুজো দিয়ে এবারের রথ যাত্রার সূচনা করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডক্টর মানিক সাহা। এবারও আগরতলা ইসকন মন্দিরের তরফ থেকে তিনটি রথ বের করা হচ্ছে। রথগুলি শহর পরিক্রমা করে সেখান থেকে রামজী কনফারেন্স হলে মাসির বাড়ি অর্থাৎ ইন্দ্রদ্যুম্নের পত্নি গুন্ডিচার বাড়িতে যাবেন। সাতদিন থাকবেন সেখানে। উল্টো রথ অনুষ্ঠিত হবে ৯ই জুলাই।এদিন ইসকন মন্দিরের রথ যাত্রার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ডক্টর মানিক সাহা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী, টিংকু রায়, রামপদ জমাতিয়া সহ মন্দির পরিচালন কর্তৃপক্ষ। রথযাত্রা উপলক্ষে এদিন মুখ্যমন্ত্রী ডক্টর মানিক সাহা সমস্ত আনুষ্ঠানিকতায় নিজে অংশগ্রহণ করেছেন। বিধায়ক রামপদ জমাতিয়া, মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী ও টিংকু রায় কে সঙ্গে নিয়ে ঝাঁটা হাতে জগন্নাথ দেবের রথের রাস্তা পরিষ্কার করলেন তিনি। একসময় রথের দড়ি টেনে রথযাত্রার আনুষ্ঠানিকতায়ও তিনি অংশ নিলেন। এদিনের এই রথযাত্রা অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী নিজের বক্তব্যে বলেন, কবে রথযাত্রার দিনটি আসবে তার জন্য আমরা সারা বছর অপেক্ষা করি। আগরতলা রথযাত্রা বলতে আগে বোঝাত জগন্নাথ বাড়ির রথযাত্রাকে। তারও আগে মেলাঘরের রথযাত্রা ও মেলার প্রচার ছিল গোটা রাজ্যে। মেলাঘরের রথ যাত্রা ও মেলার ঐতিহ্য এখনো গোটা রাজ্যে সুবেদিত। আর ইসকনের রথযাত্রা বিশ্বের সবকটি দেশেই এখন অনুষ্ঠিত হয়। ভারতের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, এবং দেশের পরম্পরা এই রথ যাত্রার মাধ্যমে বিশ্বের সবকটি দেশে তুলে ধরছে ইসকন। এ জন্য তারা অবশ্যই ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আজকের দিনটিতে, ভগবান জগন্নাথ বলরাম এবং সুভদ্রা সাধারণ মানুষের মতই মাসির বাড়ি যান বেড়াতে। অর্থাৎ তারা সাধারণ মানুষের মাঝেই আছেন সেটাই এই ধর্মীয় ঐতিহ্যের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়। আর সাধারণ মানুষের সাথে এই চরিত্রগত মিলের কারণেই রথযাত্রার দিনটি মহা মিলন মেলায় পরিণত হয়। শুধু মানুষের মাঝে নেমে এই মিলন মেলায় অংশগ্রহণ করতেই রথ যাত্রার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেন মানুষজন। কারণ এদিনই ভগবানের সাথে রাস্তায় একসাথে চলা যায়। রথের দড়ি টেনে ভগবানকে এগিয়ে দেওয়া যায়। ভগবানের সাথে রাস্তায় এগিয়ে যাওয়া মানে নিজেও অভীষ্ট লক্ষ্যের দিকে একধাপ এগিয়ে যাওয়া। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, জগন্নাথ দেবের রথের মতই ভারতের প্রধানমন্ত্রী দেশের মানুষকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। রাজ্য সরকারও প্রধানমন্ত্রীর এই পথ অনুসরন করেছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রথযাত্রা মানেই শুভ লগ্ন, শুভক্ষণ, তাই এই দিনটিতে অনেকেই নিজের দোকান থেকে শুরু করে, গৃহপ্রবেশ এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শুরুয়াত করেন।এদিকে ত্রিপুরার উন্নয়নের যাত্রারও নতুন শুরুয়াত হয়ে গেল। আগামীদিনের এই উন্নয়নের যাত্রাকে আরো এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। সবাইকে সাথে নিয়েই রাজ্য সরকার আগামী দিনে উন্নয়নের পথে আরো এগিয়ে যাবে।



