কুমারঘাট মহকুমায় ধারাবাহিক উন্নয়নের কর্মযজ্ঞে আজ আরেকটি পালক সংযোজন হল। রাজ্য সভার সাংসদ বিপ্লব কুমার দেবের হাত ধরে আজ উদ্বোধন হল দীর্ঘ প্রতিক্ষিত গীতাঞ্জলী অডিটোরিয়াম। অডিটোরিয়ামের উদ্বোধন করে সাংসদ বিপ্লব কুমার দেব বলেন, ২০১৮ সালে রাজ্যে নতুন সরকার প্রতিষ্ঠার পর সারা রাজ্যের সাথে কুমারঘাট মহকুমাকেও পরিকাঠামো থেকে শুরু করে সব দিক দিয়ে সাজিয়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উল্লেখযোগ্য উন্নয়নের মধ্যে কুমারঘাট মহকুমা আধুনিক রেল পরিষেবার সাথে যুক্ত হয়েছে। এর সুফল ভোগ করছেন এখন গোটা জেলার মানুষ। কুমারঘাট রেল স্টেশন থেকেই এখন বহিরাজ্যের সাথে যোগাযোগ করা যায়। নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের আশীর্বাদ না থাকলে তা কখনো সম্ভব হত না বলেও তিনি জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, শীততাপ নিয়ন্ত্রিত এই অডিটরিয়ামের আসন সংখ্যা হবে এক হাজার। নির্মাণের দায়িত্বে রয়েছে পূর্ত দপ্তর। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সাংসদ বিপ্লব কুমার দেব বলেন, বর্তমান সরকার প্রতিশ্রুতি মতো কাজ করে চলেছে। সামাজিক ভাতা প্রথম তিনশ টাকা থেকে বাড়িয়ে এক হাজার টাকা এবং পর্যায়ক্রমে আরও এক হাজার টাকা বাড়িয়ে দু’হাজার টাকা করা হয়েছে। জাতীয় সড়কের দারুন উন্নয়ন ঘটানো হয়েছে। এখন আগরতলা থেকে চুড়াইবাড়ি পর্যন্ত সড়ক পথে খুব অল্প সময়ে যাওয়া যায়। কৈলাসহরের নতুন বিমানবন্দর তৈরী করার জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, জল জীবন মিশনের মাধ্যমে সারা রাজ্যে ৬০ শতাংশ পরিবারে পাইপ লাইনের মাধ্যমে পানীয় জলের সংযোগ দেওয়া হয়েছে। ২০২৪ সালের মধ্যে সব বাড়িতে পানীয় জলের ব্যবস্থা করা হবে। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় প্রায় ৩ লক্ষ ৩৬ হাজার ঘরের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ২০১১ সালের তালিকা অনুযায়ী ঘর প্রাপকদের ঘর প্রদান করা হয়েছে। ঘর প্রদানের ক্ষেত্রে কোথাও বৈষম্য করা হয়নি। আগামী দিনে আরও ৬০ হাজার পরিবারকে ঘর প্রদান করা হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন। সাংসদ বিপ্লব কুমার দেব বলেন, আমাদের সরকারের উদ্দেশ্য সবার জন্য সরকার, সবার জন্য কাজ। এই নীতির ভিত্তিতেই রাজ্য সরকার কাজ করছে। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তপশিলি জাতি কল্যাণ, প্রাণী সম্পদ বিকাশ ও শ্রমমন্ত্রী ভগবান চন্দ্র দাস বলেন, গত প্রায় পাঁচ বছরে কুমারঘাট মহকুমায় একটার পর একটা উন্নয়ন হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন কুমারঘাটের উন্নয়নের জন্য সম্প্রতি এশিয়ান ডেভলাপমেন্ট ব্যাঙ্ক থেকে ৩৫ কোটি টাকার অনুমোদন এসেছে। পাবিয়াছড়া দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয় বিদ্যাজ্যোতি স্কুলে রূপান্তরিত হওয়ার পর এর পরিকাঠামো উন্নয়নে সাড়ে আট কোটি টাকার আর্থিক অনুমোদন পাওয়া গেছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে এই বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণে শিলান্যাস হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কুমারঘাট পুর পরিষদের চেয়ারপার্সন বিশ্বজিৎ দাস। স্বাগত ভাষণ রাখেন পুর পরিষদের ডেপুটি সিইও সৌরভ আল আমেন। উপস্থিত ছিলেন পূর্ত দপ্তরের সুপারিনডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার রতিরঞ্জন দাস।



