রাত পোহালেই আলোর উৎসব দীপাবলী। আলোর রোসনার উৎসব দিপাবলীতে মেতে উঠবেন সাধারণ মানুষ।আর এই উৎসবকে সুন্দর, মনোরম করে গড়ে তোলার জন্য বিভিন্ন ক্লাব থেকে শুরু করে পাড়া এবং গ্রামের পুজো কর্তৃপক্ষ পথচারী থেকে শুরু করে সমস্ত জনগনের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করে পুজো সম্পন্ন করার চেষ্টা করে থাকেন। এর থেকে বাদ যায়নি বক্সনগরের লাড়ুর বাড়ী এলাকার কালী পুজো উদ্দ্যোক্তারাও।জানা যায়, রবিবার বেলা ৩টা বেজে ৫০মিনিট নাগাদ লাড়ুর বাড়ি চৌমুহনী এলাকার যুবকরা পথচারীদের কাছ থেকে পুজোর জন্য চাঁদা সংগ্রহ করছিল ঠিক ঐ সময়ে পথ ধরে বক্সনগর কলমচৌড়া থানার ওসি বিষ্নুপদ ভৌমিক তার নিজস্ব গাড়িতে করে কলমচৌড়া থানার উদ্দেশ্যে আসছিলেন। ঠিক তখনই লালুর বাড়ি চৌমুহনীতে আসার পর যুবকরা ওসি বাবুর কাছ থেকে পূঁজো করার জন্য কিছু চাঁদার দাবি রাখেন। আর তাতেই তেলে বেগুনে জ্বলে ওঠেন ওসি বিষ্ণু। তিনি চাঁদা সংগ্রহকারী যুবকদের চাঁদা না দিয়ে উল্টো তাদের সাথে মা-বাবা নিয়ে শুরু করে ব্যক্তিগত আক্রমণ করতেও ছাড়েন নি। এমনকি যুবদের গাড়ির চাকায় পিসে নেবারও হুমকি দেন।এরপর ক্ষুব্দ হয়ে চাঁদা সংগ্রহ কারী যুবক থেকে শুরু করে এলাকার জনগণ বক্সনগর টু বিশালগড় সড়ক অবরোধে বসেন। তাদের দাবি ও.সি. বিষ্ণুর দাদাগিরিতে থানা থেকে শুরু করে থানার অন্তর্গত জন সাধারণ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। আর থানা এলাকায় নিয়ন্ত্রণহীন ভাবে চুরি দুর্নীতি থেকে শুরু করে চুরা কারবারি এবং নেশার আঁতুড়ঘরে পরিণত হয়েছে পুরো বক্সনগর এলাকা। যার ফলে ওসি’র বরখাস্ত দাবি করেন স্থানীয়রা। তবে ওসির এমন অভব্য আচরনে সমগ্র এলাকায় ছিঃ ছিঃ রব পড়ে যায়। এমনকি তাদের দাবি ওসি বিষ্ণুকে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের কাছে করজোড়ে ক্ষমা চাইতে হবে। উল্লেখ্য,সম্প্রতি কলমচৌড়া থানা এলাকার একটি খুনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে রহিমপুরের স্থানীয় জনগনের পক্ষ থেকে ১৯৭ জনের স্বাক্ষরিত ওসি’র বিরুদ্ধে অভিযোগ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী থেকে শুরু করে ডিজিপি এবং এসপি’র নিকট জমা দেয়। তবে আজকেও ফের ওসি’কে নিয়ে এমন ঘটনা সংগঠিত।তবে এদিনের এই পথ অবরোধ কে কেন্দ্র করে বক্সনগর টু বিশালগড় সড়কে শত শত গাড়ি আটকে গিয়ে যাত্রীদের খুব বেশী ভোগান্তির স্বীকার হতে হয়েছে। এই অবরোধের কথা শুনে ত্রিপুরা রাজ্য ওয়াকফ চেয়ারম্যান শাহআলম মিয়া ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং অবরোধ প্রত্যাহারের অনুরোধ করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এলাকার প্রধান অনিল দাস স্থানীয়দের আশ্বাস দেন ঘটনা নিয়ে কালী পূঁজোর পরে আলোচনায় বসা হবে এবং দোষগুন বিচার করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে সন্ধ্যায় অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়।



