Friday, January 23, 2026
বাড়িখবরশীর্ষ সংবাদচেসরিমাই উচ্চমাধ্যমিক স্কুল প্রাঙ্গণে বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের সাথে মতবিনিময়ে মুখ্যমন্ত্রী বললেন কৃষকদের...

চেসরিমাই উচ্চমাধ্যমিক স্কুল প্রাঙ্গণে বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের সাথে মতবিনিময়ে মুখ্যমন্ত্রী বললেন কৃষকদের আর্থসামাজিক মান উন্নয়নে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর

কৃষকদের উন্নতি হলেই দেশের উন্নতি সম্ভব । বর্তমান রাজ্য সরকার কৃষকদের আয় দ্বিগুণ করতে ও তাদের আর্থসামাজিক মান উন্নয়নে বদ্ধপরিকর । কৃষকদের আয় দ্বিগুণ করতেই প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মাননিধি প্রকল্প রাজ্যে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে । আজ সিপাহীজলার চেসরিমাই উচ্চমাধ্যমিক স্কুল প্রাঙ্গণে আয়োজিত প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মাননিধি ও প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা গ্রামীণ প্রকল্পে সুবিধাভোগীদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ( ডা 🙂 মানিক সাহা একথা বলেন । মতবিনিময় অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন , আমাদের প্রধানমন্ত্রী আজ মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দিচ্ছেন । মানুষ আজ স্বপ্ন দেখছেন । প্রত্যেকটি মানুষ আজ নিজের অধিকার ফিরে পাচ্ছেন । সমাজের উচ্চ শ্রেণী থেকে শুরু করে প্রান্তিক স্তরের মানুষও সরকারের জনকল্যাণমুখী প্রকল্পের সুবিধা নিতে পারছেন । মানুষ আজ সরকারের উন্নয়নের অগ্রগতি স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করতে পারছেন । তিনি বলেন , চড়িলাম অঞ্চলে একসময় উন্নতি লক্ষ্য করা যেতো না । রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে বিদ্যুৎ , শিক্ষা , পরিকাঠামো সর্ব ক্ষেত্রে এখন উন্নতি পরিলক্ষিত হচ্ছে । তিনি বলেন , প্রধানমন্ত্রী আজ উত্তর পূর্বাঞ্চলের উন্নতিতে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করছেন । এক সময় উত্তর পূর্বাঞ্চল এবং ত্রিপুরার উন্নয়ন থমকে ছিল । কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দরদি এবং দূরদর্শী প্রশাসনের ফলে রাজ্যের মানুষ আজ প্রত্যেকটি স্তরেই উন্নয়ন দেখতে পাচ্ছেন । মুখ্যমন্ত্রী বলেন , রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেবের নেতৃত্বে যেসব উন্নয়নমুখী কাজ ত্রিপুরাতে চলছিল আগামীতেও রাজ্য সরকার সেই দিশাতেই কাজ করে যাবে । তিনি সিপাহীজলা জেলার অন্তর্গত প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মাননিধি প্রকল্প সম্বন্ধে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন , এই জেলাতে পি এম কিষাণ প্রকল্পে ২৯ হাজার ১৩৩ জন সুবিধাভোগী উপকৃত হয়েছেন । তাদের মোট ৩৯ কোটি ১৫ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছে । তিনি বলেন , এই সরকার স্বচ্ছতার প্রতীক । এখন কৃষকদের অর্থ সরাসরি তাদের ব্যাঙ্ক খাতায় চলে যাচ্ছে । এটা একমাত্র কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকারের স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গির ফলেই সম্ভব হচ্ছে । তিনি বলেন , ২০১৬ সালে ১ এপ্রিল কেন্দ্রীয় সরকার প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা গ্রামীণ প্রকল্পের সূচনা করেছিল । যার মুখ্য উদ্দেশ্য হল ২০২২ সালের মধ্যে দেশের যে সমস্ত মানুষের পাকা আবাস নেই তাদেরকে পাকা আবাসের সুবিধা প্রদান করা । পার্বত্য রাজ্যের ক্ষেত্রে আবাস নির্মাণে আর্থিক সহায়তা ৭০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা করা হয়েছে । ২০১৯-২০ অর্থবছরে এই সিপাহীজলা জেলায় ৪ হাজারের উপর সুবিধাভোগী পাকা আবাস পেয়েছেন । ২ – এর পাতায় ২০২১-২২ অর্থবছরে সারা রাজ্যের জন্য ১ লক্ষ ৫৯ হাজার ঘরের মঞ্জুরি দিয়েছেন । এরমধ্যে শুধুমাত্র সিপাহীজলা জেলায় ২২ হাজার ৮৯০ জন প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা গ্রামীণ – এর সুবিধাভোগী রয়েছে । মুখ্যমন্ত্রী ডা : সাহা মুখ্যমন্ত্রী চা শ্রমিক কল্যাণ প্রকল্প বিষয়ে জানান , বর্তমান সরকার চা শ্রমিক , চা শ্রমিক পরিবার এবং রাজ্যের চা বাগানগুলির উন্নতিতেও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিচ্ছে । নতুন সরকার আসার পরে রাজ্যের চা বাগানগুলিতে প্রাণের সঞ্চার হয়েছে । তিনি বলেন , ত্রিপুরাতে চা বাগান রয়েছে ৫৪ টি । ২ হাজার ৫০০ – এর উপরে ক্ষুদ্র চা উৎপাদনকারি রয়েছে । ত্রিপুরায় প্রতি বছর ৯ মিলিয়ন কেজি চা উৎপাদিত হচ্ছে । তিনি বলেন , বর্তমান রাজ্য সরকার ত্রিপুরার চা শিল্পের সঙ্গে জড়িত শ্রমিকদের আর্থ সামাজিক মান উন্নতিতেও গুরুত্ব সহ কাজ করে চলছে । তাদের স্বাস্থ্য , শিক্ষা , মজুরি এবং কেন্দ্রীয় সরকারের জনকল্যাণমুখী প্রকল্পগুলির যাতে সুবিধা ভোগ করতে পারে সেই বিষয়েও উদ্যোগী ভূমিকা গ্রহণ করে চলছে । মুখ্যমন্ত্রী সিপাহীজলা জেলার অধীনে মুখ্যমন্ত্রী চা শ্রমিক প্রকল্পের অগ্রগতি এবং সিপাহীজলা জেলার অন্তর্গত বিভিন্ন চা বাগানগুলির বিস্তারিত তথ্য এবং চা বাগানগুলির সঙ্গে জড়িত শ্রমিকদের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন । মতবিনিময় সভায় উপমুখ্যমন্ত্রী যীষ্ণু দেববর্মা বলেন , বর্তমান সরকার জনগণের সরকার এবং এই সরকারের মূল মন্ত্রই হচ্ছে মানুষ যাতে সুখে থাকে এবং এই ভাবধারা নিয়েই রাজ্য সরকার কাজ করে চলছে । তিনি বলেন , বর্তমান সরকারের এই অল্প সময়ে ১ লক্ষ ৫৯ হাজার আবাস তৈরি করার মঞ্জুরি পাওয়া গেছে । তিনি বলেন , এক সময় এই অঞ্চলে উন্নতির কোনও চিত্র লক্ষ্য করা যেতো না । আজ রাস্তা , পরিকাঠামো , শিক্ষা , স্বাস্থ্য সব ক্ষেত্রেই উন্নয়নের প্রতিফলন লক্ষ্য করা যাচ্ছে । আগে সারা রাজ্যে মাত্র ৪ হাজার স্বসহায়ক দল ছিল । বর্তমান সরকারের সময়ে এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৪ হাজার । সামাজিক ভাতা ১ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার টাকা করা হয়েছে । যা দুর্গা পূজার আগেই মানুষ পেয়ে যাবেন । তিনি বলেন , অতিমারীর সময় কোনও প্রকার রাজনৈতিক রং বিচার না করে ৭ লক্ষ পরিবারকে কিষাণ সম্মান নিধি প্রকল্পের মাধ্যমে সাহায্য করা হয়েছে । বিদ্যুৎ পরিষেবা প্রদান , প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় ঘর নির্মাণ , ব্যাঙ্কের মাধ্যমে কৃষকদের ঋণ প্রদান ইত্যাদি সব ক্ষেত্রে সরকার কর্মসূচি রূপায়িত করে চলছে । তিনি বলেন , এই সরকার জনগণের সরকার জনগণের সার্বিক সহযোগিতায় রাজ্যকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যাবে । অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে এছাড়াও বক্তব্য রাখেন রাজ্য খাদি ও গ্রামোদ্যোগ পর্ষদের চেয়ারম্যান রাজীব ভট্টাচার্য । স্বাগত বক্তব্য রাখেন সিপাহীজলা জেলার জেলাশাসক ও সমাহর্তা বিশ্বশ্রী বি । ধন্যবাদসূচক বক্তব্য রাখেন সিপাহীজলা জিলা পরিষদের সভাধিপতি সুপ্রিয়া দাস । উল্লেখ্য , অনুষ্ঠানের প্রথমেই প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন ।

RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

4 × one =

- Advertisment -spot_img

জনপ্রিয় খবর

সাম্প্রতিক মন্তব্য