কৃষকদের উন্নতি হলেই দেশের উন্নতি সম্ভব । বর্তমান রাজ্য সরকার কৃষকদের আয় দ্বিগুণ করতে ও তাদের আর্থসামাজিক মান উন্নয়নে বদ্ধপরিকর । কৃষকদের আয় দ্বিগুণ করতেই প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মাননিধি প্রকল্প রাজ্যে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে । আজ সিপাহীজলার চেসরিমাই উচ্চমাধ্যমিক স্কুল প্রাঙ্গণে আয়োজিত প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মাননিধি ও প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা গ্রামীণ প্রকল্পে সুবিধাভোগীদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ( ডা 🙂 মানিক সাহা একথা বলেন । মতবিনিময় অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন , আমাদের প্রধানমন্ত্রী আজ মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দিচ্ছেন । মানুষ আজ স্বপ্ন দেখছেন । প্রত্যেকটি মানুষ আজ নিজের অধিকার ফিরে পাচ্ছেন । সমাজের উচ্চ শ্রেণী থেকে শুরু করে প্রান্তিক স্তরের মানুষও সরকারের জনকল্যাণমুখী প্রকল্পের সুবিধা নিতে পারছেন । মানুষ আজ সরকারের উন্নয়নের অগ্রগতি স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করতে পারছেন । তিনি বলেন , চড়িলাম অঞ্চলে একসময় উন্নতি লক্ষ্য করা যেতো না । রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে বিদ্যুৎ , শিক্ষা , পরিকাঠামো সর্ব ক্ষেত্রে এখন উন্নতি পরিলক্ষিত হচ্ছে । তিনি বলেন , প্রধানমন্ত্রী আজ উত্তর পূর্বাঞ্চলের উন্নতিতে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করছেন । এক সময় উত্তর পূর্বাঞ্চল এবং ত্রিপুরার উন্নয়ন থমকে ছিল । কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দরদি এবং দূরদর্শী প্রশাসনের ফলে রাজ্যের মানুষ আজ প্রত্যেকটি স্তরেই উন্নয়ন দেখতে পাচ্ছেন । মুখ্যমন্ত্রী বলেন , রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেবের নেতৃত্বে যেসব উন্নয়নমুখী কাজ ত্রিপুরাতে চলছিল আগামীতেও রাজ্য সরকার সেই দিশাতেই কাজ করে যাবে । তিনি সিপাহীজলা জেলার অন্তর্গত প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মাননিধি প্রকল্প সম্বন্ধে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন , এই জেলাতে পি এম কিষাণ প্রকল্পে ২৯ হাজার ১৩৩ জন সুবিধাভোগী উপকৃত হয়েছেন । তাদের মোট ৩৯ কোটি ১৫ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছে । তিনি বলেন , এই সরকার স্বচ্ছতার প্রতীক । এখন কৃষকদের অর্থ সরাসরি তাদের ব্যাঙ্ক খাতায় চলে যাচ্ছে । এটা একমাত্র কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকারের স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গির ফলেই সম্ভব হচ্ছে । তিনি বলেন , ২০১৬ সালে ১ এপ্রিল কেন্দ্রীয় সরকার প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা গ্রামীণ প্রকল্পের সূচনা করেছিল । যার মুখ্য উদ্দেশ্য হল ২০২২ সালের মধ্যে দেশের যে সমস্ত মানুষের পাকা আবাস নেই তাদেরকে পাকা আবাসের সুবিধা প্রদান করা । পার্বত্য রাজ্যের ক্ষেত্রে আবাস নির্মাণে আর্থিক সহায়তা ৭০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা করা হয়েছে । ২০১৯-২০ অর্থবছরে এই সিপাহীজলা জেলায় ৪ হাজারের উপর সুবিধাভোগী পাকা আবাস পেয়েছেন । ২ – এর পাতায় ২০২১-২২ অর্থবছরে সারা রাজ্যের জন্য ১ লক্ষ ৫৯ হাজার ঘরের মঞ্জুরি দিয়েছেন । এরমধ্যে শুধুমাত্র সিপাহীজলা জেলায় ২২ হাজার ৮৯০ জন প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা গ্রামীণ – এর সুবিধাভোগী রয়েছে । মুখ্যমন্ত্রী ডা : সাহা মুখ্যমন্ত্রী চা শ্রমিক কল্যাণ প্রকল্প বিষয়ে জানান , বর্তমান সরকার চা শ্রমিক , চা শ্রমিক পরিবার এবং রাজ্যের চা বাগানগুলির উন্নতিতেও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিচ্ছে । নতুন সরকার আসার পরে রাজ্যের চা বাগানগুলিতে প্রাণের সঞ্চার হয়েছে । তিনি বলেন , ত্রিপুরাতে চা বাগান রয়েছে ৫৪ টি । ২ হাজার ৫০০ – এর উপরে ক্ষুদ্র চা উৎপাদনকারি রয়েছে । ত্রিপুরায় প্রতি বছর ৯ মিলিয়ন কেজি চা উৎপাদিত হচ্ছে । তিনি বলেন , বর্তমান রাজ্য সরকার ত্রিপুরার চা শিল্পের সঙ্গে জড়িত শ্রমিকদের আর্থ সামাজিক মান উন্নতিতেও গুরুত্ব সহ কাজ করে চলছে । তাদের স্বাস্থ্য , শিক্ষা , মজুরি এবং কেন্দ্রীয় সরকারের জনকল্যাণমুখী প্রকল্পগুলির যাতে সুবিধা ভোগ করতে পারে সেই বিষয়েও উদ্যোগী ভূমিকা গ্রহণ করে চলছে । মুখ্যমন্ত্রী সিপাহীজলা জেলার অধীনে মুখ্যমন্ত্রী চা শ্রমিক প্রকল্পের অগ্রগতি এবং সিপাহীজলা জেলার অন্তর্গত বিভিন্ন চা বাগানগুলির বিস্তারিত তথ্য এবং চা বাগানগুলির সঙ্গে জড়িত শ্রমিকদের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন । মতবিনিময় সভায় উপমুখ্যমন্ত্রী যীষ্ণু দেববর্মা বলেন , বর্তমান সরকার জনগণের সরকার এবং এই সরকারের মূল মন্ত্রই হচ্ছে মানুষ যাতে সুখে থাকে এবং এই ভাবধারা নিয়েই রাজ্য সরকার কাজ করে চলছে । তিনি বলেন , বর্তমান সরকারের এই অল্প সময়ে ১ লক্ষ ৫৯ হাজার আবাস তৈরি করার মঞ্জুরি পাওয়া গেছে । তিনি বলেন , এক সময় এই অঞ্চলে উন্নতির কোনও চিত্র লক্ষ্য করা যেতো না । আজ রাস্তা , পরিকাঠামো , শিক্ষা , স্বাস্থ্য সব ক্ষেত্রেই উন্নয়নের প্রতিফলন লক্ষ্য করা যাচ্ছে । আগে সারা রাজ্যে মাত্র ৪ হাজার স্বসহায়ক দল ছিল । বর্তমান সরকারের সময়ে এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৪ হাজার । সামাজিক ভাতা ১ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার টাকা করা হয়েছে । যা দুর্গা পূজার আগেই মানুষ পেয়ে যাবেন । তিনি বলেন , অতিমারীর সময় কোনও প্রকার রাজনৈতিক রং বিচার না করে ৭ লক্ষ পরিবারকে কিষাণ সম্মান নিধি প্রকল্পের মাধ্যমে সাহায্য করা হয়েছে । বিদ্যুৎ পরিষেবা প্রদান , প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় ঘর নির্মাণ , ব্যাঙ্কের মাধ্যমে কৃষকদের ঋণ প্রদান ইত্যাদি সব ক্ষেত্রে সরকার কর্মসূচি রূপায়িত করে চলছে । তিনি বলেন , এই সরকার জনগণের সরকার জনগণের সার্বিক সহযোগিতায় রাজ্যকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যাবে । অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে এছাড়াও বক্তব্য রাখেন রাজ্য খাদি ও গ্রামোদ্যোগ পর্ষদের চেয়ারম্যান রাজীব ভট্টাচার্য । স্বাগত বক্তব্য রাখেন সিপাহীজলা জেলার জেলাশাসক ও সমাহর্তা বিশ্বশ্রী বি । ধন্যবাদসূচক বক্তব্য রাখেন সিপাহীজলা জিলা পরিষদের সভাধিপতি সুপ্রিয়া দাস । উল্লেখ্য , অনুষ্ঠানের প্রথমেই প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন ।



