বাসুদেব ভট্টাচার্যী খোয়াই ১২ এপ্রিল…রবিবার দিনটি ছিল এ ডি সি নির্বাচনের ভোটদান পর্ব।এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রবিবার সকাল থেকেই ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দানের জন্য লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। বিশেষ করে ৯ নং আসন আশারাম বাড়ি এবং ১২ নং আসন রামচন্দ্র ঘাট এলাকার বিভিন্ন ভোট কেন্দ্র ভোটাররা শান্তিপূর্ণ ভাবে ভোট দিতে দেখা গেছে। দুপুর ১২ টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত ঐ এলাকার কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।তবে ৯ নং আসনের ৪ নং ভোটকেন্দ্র অর্থাৎ আশারাম বাড়ি স্কুলে সকাল প্রায় নয়টার থেকে দেড় ঘন্টা ভোট গ্রহন বন্ধ থাকে বলে জানান ভোটাররা। জানা যায় ই ভি এম মেসিনে বেলট ইসু হচ্ছে না বলে জানান প্রিসাইডিং অফিসার। সবদিক দিয়ে আশারাম বাড়ি এলাকার ভোট গ্রহণ চলছে সান্তি পূর্ণ ভাব দুপুর ২টা পর্যন্ত।এরই মধ্যে ঘটে যায় এক ঘটনা নির্বাচনে ভোট চলাকালীন সময়ে দুপুর বারোটা নাগাদ ১১ নং আসন মহারানীপুর এলাকার ৫ নং বুথ অর্থাৎ তুলাশিখর নন্দকুমার পাড়ায় বিজেপি কর্মীদের উপর তিপরা মথা দলের কর্মীরা রোড এবং লাঠি নিয়ে বেধড়ক বিজেপি কর্মীদের উপর হামলা চালায় তাতে ওই এলাকার তিনজন বিজেপি কর্মী গুরুতর ভাবে আহত হয় । তারা হলো বীরেন্দ্র দেববর্মা, জেনসন দেববর্মা ও শঙ্কর দেববর্মা। প্রথমে তাদেরকে তুলাশিখর প্রাথমিক হাসপাতালে নিয়ে আসা হয় এরপর তাদেরকে সেখান থেকে খোয়াই জেলা হাসপাতালে রেফার করে দেওয়া হয়। তার মধ্যে বীরেন্দ্র দেববর্মা ও জেনসন দেববর্মার অবস্থা গুরু তোরে দেখে তাদেরকে জিবি হাসপাতালে রেফার করা হয়। এই ঘটনা নিন্দা জানান খোয়াই জেলার বিজেপি দলের সম্পাদক সমীর কুমার দাস। তিনি এও বলেন ভোটকেন্দ্রের ২০০ মিটার বাইরে বিজেপি দলের কর্মীরা ভোটারদের সাহায্য করছিল ভোটার স্লিপ দিয়ে। সেই সময় তিপরা মথা দলের কর্মীরা এসে তাদেরকে প্রথমে হুমকি দেয় এখান থেকে চলে যাওয়ার জন্য । এই জায়গায় বিজেপি দলের কর্মীদের থাকার অধিকার নেই এরপরই শুরু হয় মারপিট। সমির দাসের বক্তব্য হল গণতন্ত্রের উৎসবে সবাই এক জায়গায় দাঁড়িয়ে কাজ করার অধিকার রয়েছে। কিন্তু তিপরা মথা দলের কর্মীরা সেখানে বিভিন্ন ধরনের অসামাজিক কাজ করে চলেছে এবং তাদের এলাকাতে বিজেপিকে ঢুকতে দেবে না বলে গুন্ডামি করছে। যদিও এই বিষয়ে চম্পাহওয়ার থানায় একটি মামলা করেন বলে তিনি জানান। অন্যদিকে ১২ রামচন্দ্র ঘাট এলাকায় কেমন ভোটদান পর্ব চলছে তার পরিদর্শন করতে এলাকায় আসলেন এলাকার বিধায়ক রনজিৎ দেববর্মা।এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান এমনিতে সান্তি পূর্ণ ভাবে ভোটদান চলছে কিন্তু মাতা মহারানি স্কুল ১২ নং আসন এর ১০ নং ভোটকেন্দ্র বিজেপি দলের কর্মীরা নাকি গন্ডগোল করতে চাইছিল আর সেখানে নাকি পর্যাপ্ত পরিমাণে নিরাপত্তা কর্মীদের অভাব ছিল । শেষে সমস্ত বিষয়টি রিটার্নিং অফিসারকে জানান এবং নিরাপত্তা কর্মীদের নিয়োগ করা হয়। এছাড়াও নাকি বিজেপি দলের কর্মীরা অনেক জায়গায় গন্ডগোল করতে চাইছিল।তাতে উনার দলের কর্মীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং তিনি তাদেরকে বুঝিয়ে সান্ত করেন এবং আইন নিজের হাতে তুলে নিতে বারন করেন। তিনি চান সবকিছুই আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেবেন তিনি। জয়ী হবার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন ২৮ শে ২৮ পাব তা বলবনা কিন্তু গত নির্বাচনে ১৮টি আসন পেয়েছেন উনার দল।তবে এবার ১৮ থেকে ২২টি আসন পাবেন বলে জানান সাংবাদিকদের। অন্যদিকে ১২ রামচন্দ্র ঘাট আসনে কিধরনের ভোট প্রক্রিয়া চলছে এবং কোন ধরনের অপ্রিতিকর ঘটনা ঘটেছে কিনা সেই বিষয়টিকে খতিয়ে দেখতে খোয়াই জেলার রিটার্নিং অফিসার তথা জেলা শাসক রজত পন্থ রামচন্দ্র ঘাট এলাকার বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র গুলি পরিদর্শন করেন এবং ভোটারদের সাথে কথাও বলেন কেমন ভোট চলছে সেই বিষয়ে কথা বলেন বলে জানান জেলা শাসক রজত পন্থ। উনার সাথে ছিলেন অতিরিক্ত জেলাশাসক অভেদানন্দ বৈদ্য বিভিন্ন সেক্টর অফিসার সহ অন্যান্যরা।এর পর বাইজাল বাড়ি এলাকায় একটি মডেল ভোটকেন্দ্রটি পরিদর্শন করেন।তবে এই ধরনের মডেল ভোটকেন্দ্র একটি মাত্র চোখে পড়ে এই এলাকায়। তবে সময়ের মধ্যে শেষ হয়েছে ভোটদান পর্ব।তবে এক দুইটি ভোট কেন্দ্র বিকেল চারটায় পরেও ভোট দান চলে। বিজেপি দলের কর্মীদের উপর হামলা ছাড়া আর কোন অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। এই দিকে সন্ধের পর থেকে একে উভয় কেন্দ্রর ই ভি এম মেশিন খোয়াই মহকুমা শাসকের স্ট্রং রুমে চলে যায়।এই নির্বাচনে ৯ নং আসন আশারাম বাড়ি ও হালাহালি কেন্দ্রে গনদেবতারা ভোট প্রদান করেন ৮০.৫৭ শতাংশ অন্যদিকে ১২ রামচন্দ্র আসনে ভোট পড়ে ৮৪. ২০ শতাংশ বলে জানান আর ও নির্মল কুমার।



