বাসুদেব ভট্টাচার্যী খোয়াই ১৮ই মার্চ…. পুলিশের নাকা চেকিং থেকে পালিয়ে যাওয়া গাড়িটি পুলিশের ধাওয়া খেয়ে ফেলে যাওয়ার পর তল্লাসিতে সেই গাড়ি থেকে পুলিশ উদ্ধার করল ২০ লক্ষ টাকার গাজা।ঘটনার বিবরণ দিয়ে খোয়াই থানার ওসি কৃষ্ণ ধন সরকার জানান, খোয়াই মহকুমা এলাকার চেবরির দিক থেকে আসা একটি মাল বাহি খালি গাড়ি কে পুলিশ খোয়াই মহাদেব টিলা এলাকাতে দাঁড়ানোর জন্য সিগন্যাল দিলে গাড়িটি দ্রুতগতিতে পালিয়ে যায়। এই বিষয়টি দেখতে পেয়ে পুলিশের সন্দেহ হওয়াতে গাড়িটিকে পেছন থেকে ধাওয়া করতে থাকে।এর পর যথারীতি গাড়িটি ২০৮ নং জাতীয় সড়ক ধরে দ্রুতগতিতে পালাতে থাকে। পরবর্তীতে চেরমা পশু হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় রাস্তার পাশের ড্রেইনে গাড়িটিকে ফেলে গাড়িতে থাকা গাজা পাচারকারীরা পালিয়ে যায়। পাচার কাজে ব্যবহৃত গাড়িটির নাম্বার টি আর ০১ এ পি ১৯০৭। যদিও পুলিশ জানিয়েছেন এই নাম্বারটি ফেইক ও হতে পারে। পুলিশে গাড়িটি তল্লাশি চালিয়ে ৪৭ পেকেটে ৯৬ কেজি ৫০০ গ্রাম শুকনো গাজা আটক করেন।সব থেকে আশ্চর্যের বিষয় গাড়িটিতে যেভাবে গোপন চেম্বার বানিয়ে গাঁজা পাচার করছিল সাধারণভাবে গাড়িটিকে দেখলে বুঝার কোন উপক্রম নেই যে এই গাড়িটি দিয়ে গাঁজা পাচার করা হচ্ছে। ঠিক একই রকম ভাবে মঙ্গলবার খোয়াই মহকুমা অন্তর্গত বেহালা বাড়ি এলাকাতে একটি বিলাসবহুল গাড়ি থেকে প্রচুর পরিমাণ শুকনো গাজা উদ্ধার করা হয়। যদিও গতকালের ঘটনায় গাঁজা উদ্ধার হয়েছে আসলে গত কালকের যে ঘটনা সেটা হল বিলাসবহুল গাড়ি দিয়ে গাঁজা পাচার করার সময় গাড়িটিতে আগুন লেগে যায়। শেষে দমকল দফতরের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলো।তাতে তখন সেই বিলাস বহুল গাড়ি থেকে প্রচুর পরিমান ধোয়া বের হচ্ছিল। এই বিষয়টি লক্ষ্য করে পুলিশের সন্দেহ হওয়াতে পুলিশ গাড়িটিকে আটক করে তল্লাশি করার সময় বিলাসবহুল গাড়ির গোপন চেম্বার থেকে প্রচুর পরিমাণ শুকনো গাজা উদ্ধার হয়। সব থেকে লক্ষণীয় বিষয় হলো নিত্যনতুন পন্থা অবলম্বন করে গাঁজা পাচারকারীরা গাঁজা পাচার বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন। পুলিশের ধর পাক জারি থাকলেও পাচার বাণিজ্য বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না। সর্বোপরি বুধবার যেই গাজা আটক করা হয় তার কালোবাজারি মূল্য প্রায় কুড়ি লক্ষ টাকা হতে পারে বলে খোয়াই থানার ওসি কৃষ্ণধন সরকার জানিয়েছেন। পুলিশ গাড়ি এবং শুকনো গাজা গুলি আটক করে এন ডি পি এস ধারায় একটি মামলা গ্রহণ করে গোটা ঘটনায় আর কারা কারা জড়িত পুলিশ তদন্ত করছেন বলে জানাযায়। তবে এই ঘটনায় একটা বিষয় পরিষ্কার পাচার বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত মাস্টারমাইনরা যে নিত্যনতুন পন্থা অবলম্বন করে পাচার বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন এতে করে পুলিশ প্রশাসন আরো সক্রিয় হওয়ার প্রয়োজন বলে মনে করছেন বুদ্ধিজীবী মহল।



