Monday, February 16, 2026
বাড়িখবরশীর্ষ সংবাদচূড়ান্ত অব্যবস্থাপনার মধ্যে দিয়ে শুরু হয় খোয়াই সিঙ্গিছড়ার ৭৭তম শিব চতুর্দশী মেলার।

চূড়ান্ত অব্যবস্থাপনার মধ্যে দিয়ে শুরু হয় খোয়াই সিঙ্গিছড়ার ৭৭তম শিব চতুর্দশী মেলার।

বাসুদেব ভট্টাচার্যী খোয়াই ১৫ই ফেব্রুয়ারি…..খোয়াই মহকুমার ঐতিহ্যবাহী ৭৭ তম শিব চতুর্দশী মেলা এবার শুরু হল চরম অব্যবস্থাপনা ও অভিযোগের মধ্য দিয়ে রবিবার সন্ধ্যা রাতে। একটা সময় ছিল রাজ্যের সাংস্কৃতিক ক্যালেন্ডারে জগতে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে থাকা এই মেলা ক্রমশ তার জৌলুস হারাচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয় এলাকাবাসীর।


পাঁচ দিনব্যাপী এই মেলাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্যবসায়ীরা অংশগ্রহণ করেন। স্টল ভাড়া, আলো ও অন্যান্য পরিষেবা বাবদ মেলা কমিটির উল্লেখযোগ্য আয় করে এই শিব চতুর্দশী মেলাকে কেন্দ্র করে। পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি দপ্তরও আর্থিক সহায়তা প্রদান করে থাকে মেলা কমিটিকে। তবে এবছর মেলা পরিচালনার ক্ষেত্রে চরম বিশৃঙ্খলার দৃশ্য চোখে পড়ে । তাতে করে অভিযোগ উঠেছে, খোয়াই আর ডি ব্লকের উদ্যোগে আয়োজিত হলেও মেলা পরিচালনায় স্থানীয় গ্রাম বাসিদের অংশগ্রহণ ছিল একেবারেই নগণ্য। অর্থাৎ সুষ্ঠ ভাবে মেলা পরিচালনার জন্য ভলেন্টিয়ার এর প্রয়োজন হয়। কিন্তু মেলা পরিচালন কমিটি এলাকার কোন যুবককে ভলেন্টিয়ার হিসেবে নিয়োগ করেনি এমনকি এই বিষয়ে এলাকার কারোর সাথে কোনধরনের শলাপরামর্শ করা প্রয়োজন বোধ করেনি কেউ।মেলার আহ্বায়ক প্রণব বিশ্বাসের একক সিদ্ধান্তেই সমস্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে সাধারণ মানুষের একাংশের এই দাবি। ফলে সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় ঘাটতি প্রকট হয়েছে বলে মনে করছেন অনেকেই। তাছাড়া স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিও সেরকম চোখে পড়ে নি। শুধুমাত্র পুর এলাকার কয়েকজন কাউন্সিলর এর উপস্থিতি ছিল। বিকেল চারটায় উদ্বোধনের সময় নির্ধারিত থাকলেও সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত উদ্বোধন অনুষ্ঠান শুরু হয়নি। তাতে মানুষের অস্বস্তি চরমে আকার ধারণ করে।রাজ্যের এক মন্ত্রীর উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও তিনি অনুপস্থিত ছিলেন। আমন্ত্রিত অতিথি জিলা পরিষদের সভাধিপতি অপর্ণা সিংহ রায় দত্ত ও সমাজসেবী বিনয় দেববর্মা সহ বেশ কয়েকজন দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর শেষ অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন। সাধারণ দর্শনার্থীদের মধ্যেও হতাশা দেখা যায়। অনেকেই খালি চেয়ার ফেলে বাড়ির পথে হাটতে দেখা গেছে । মেলা প্রাঙ্গণে স্বেচ্ছাসেবকদের উপস্থিতিও চোখে পড়েনি। স্থানীয় নেতৃত্বের অনেককেই এবছর মেলায় দেখা যায়নি। এছাড়া আরডি ব্লক ও অন্যান্য দপ্তরের প্রদর্শনীও ছিল সীমিত পরিসরে। আরও একটি বিতর্কের বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে ভাষা ব্যবহার। অভিযোগ, বিভিন্ন দপ্তরের স্টলে বাংলা ভাষার ব্যবহার ছিল অত্যন্ত সীমিত, অর্থাৎ বাংলাভাষকে এক প্রকার অপমানিত করা হয় খোয়াই পূর্ত দফতরের করেন!নির্দিষ্ট দুটি ভাষাকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকেই। বাংলা মাতৃভাষার এইভাবে অপমান খোয়াই পূর্ত দফতরের দ্বারা যা অনেকেই মনে নিতে পারেনি।
সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে সরকারি উদ্যোগে আয়োজিত এমন একটি ঐতিহ্যবাহী মেলার দায়ভার কে নেবে? মেলার জৌলুস ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে, তা এখন দেখার বিষয়।তবে এই মেলার আহ্বায়ক এর কারণেই মেলার এই অব্যাস্থ আপনার শৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

eleven − 7 =

- Advertisment -spot_img

জনপ্রিয় খবর

সাম্প্রতিক মন্তব্য