Tuesday, January 20, 2026
বাড়িখবরশীর্ষ সংবাদ২০২৮ সালে খোয়াই বিধান সভা কেন্দ্র থেকে সি পি এম কে মুছে...

২০২৮ সালে খোয়াই বিধান সভা কেন্দ্র থেকে সি পি এম কে মুছে ফেলা হবে বলে ডাক দিলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শহীদ সমাবেশের মঞ্চ থেকে।

বাসুদেব ভট্টাচার্যী খোয়াই ১৮ই জানুয়ারি..….. আগামী ২০২৮ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ২৫ খোয়াই বিধানসভা আসন থেকে সিপিআইএম দলকে চিরতরে মুছে ফেলা হবে বলে ডাক দিলেন বিজেপি দলের রাজ্য সভাপতি রাজীব ভট্টাচার্য। খোয়াই সিঙ্গিছড়া শরৎচন্দ্র দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয়ের মাঠে আয়োজিত শহীদ সমাবেশের অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে। রবিবার বিকালে খোয়াই মন্ডলের উদ্যোগে সিঙ্গিছড়া এলাকার শরৎচন্দ্র দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয়ের মাঠে অনুষ্ঠিত হলো ২০০২ সালে মকর সংক্রান্তির দিন সন্ধ্যায় খোয়াই শিঙিছড়া ২ নং বাজারে উগ্রবাদীদের তপ্ত বুলেটে ১৭ জন নিরীহ এলাকাবাসীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল। সেই শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে রবিবার বিকালে অনুষ্ঠিত হয় শহীদ স্মরন সমাবেশ অনুষ্ঠানটি। এই শহীদ সমাবেশ অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য বিজেপি দলের সভাপতি তথা সংসদ রাজীব ভট্টাচার্যী। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক পিনাকী দাস চৌধুরী, খোয়াই জিলা পরিষদের সভাধিপতি শ্রীমতি অপর্ণা সিংহ রায়, মন্ডল সভাপতি অনুকূল দাস, বিজেপি খোয়াই জেলা সভাপতি বিনয় দেববর্মা, জেলার সাধারণ সম্পাদক সমীর কুমার দাস, খোয়াই পুর পরিষদের চেয়ারম্যান দেবাশীষ নাথ শর্মা সহ অন্যান্যরা। রবিবার বিকালের জনসমাবেশে প্রথমেই শহীদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয় এবং শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এছাড়া একে একে বিভিন্ন বক্তারা বক্তব্য রাখেন। সর্বশেষে এই শহীদ স্মরণের জনসমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিজেবি রাজ্য সভাপতি রাজিব ভট্টাচার্য । শ্রী ভট্টাচার্য সিপি আই এম সরকারের শাসনকালের সময়ের কথা নিয়ে এবং বর্তমান সিপিএম দলের ব্যাপক সমালোচনা করেন। রাজিব ভট্টাচার্য পরিষ্কারভাবে বলেন উগ্রপন্থীদের দ্বারা নিহত গ্রামবাসীদের মৃত্যুর দায় নিতে হবে তৎকালীন শাসক দল সিপিআইএম কেই ।কারণ তাদের সরকার থাকা অবস্থাতেই এই ধরনের জঘন্যতম হত্তা গুলি ঘটেছে। তাছাড়াও ৮০ সালের জুনের দাঙ্গার জন্য তৎকালীন শাসক দল সিপি আই এম ই দায়ী ছিল। তিনি বক্তব্যের মাধ্যমে বলবার চেষ্টা করেন সিপিএমের ব্যর্থতার কারণে এত বড় ডাঙ্গা ঘটেছে। তখন মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন নৃপেন চক্রবর্তী। উপমুখ্যমন্ত্রী ছিলেন দশরথ দেব। দুদিনের জন্য মুখ্যমন্ত্রী নৃপেন চক্রবর্তী দিল্লিতে গিয়েছিলেন কোন এক মিটিং করতে। সেই দুদিনের জন্য দায়িত্বভার দিয়েছিলেন উপমুখ্যমন্ত্রী দশরথ দেবকে। আর সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দশ দেব জাতিরাঙ্গা করিয়েছিল মান্দাইয়ে। সেখানে হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল বলে তিনি উক্তি করেন। এই ধরনের যত গুলি প্রাণনাশ করা হয়েছে তার জন্য দায়ী সিপিআইএম। পাশাপাশি সিপিএম দলের মুখ্যমন্ত্রী নৃপেন চক্রবর্তীর বিষয়ের আলোচনা করেছেন তিনি। এই সিপিএম দল সম্বন্ধে সমলোচনা করতে গিয়ে তিনি বলেন তাদের দলের মুখ্যমন্ত্রী নৃপেন চক্রবর্তী কলকাতায় একটি প্রেস মিটে বলেছিলেন সিপিএম দলের মধ্যে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। সেই উক্তি করার পর একটা সময় নৃপেন চক্রবর্তীকে পাগল আখ্যায়িত করে দল থেকে বের করে দেন। শেষে সিপিএম দল রাজ্যবাসীর কাছে নিজেদের কলঙ্ক ঢাকতে মৃত্যুর কিছুদিন আগে অর্থাৎ যখন তিনি কোমায় ছিলেন তখন পুনরায় উনাকে পার্টিতে যোগদান করান। কিন্তু তিনি বুঝতে পারেননি ওনাকে পার্টিতে নেওয়া হয়েছে কিনা। যা ছিল এক লোক দেখানো নাটক সিপিএম দলের পক্ষ থেকে।তিনি পরিষ্কারভাবে বললেন সিপিএম দলের কাজ হল খুন সন্ত্রাস এছাড়া কোন কাজ নেই। তাছাড়া তিনি বক্তব্যের শেষের দিকে বলবার চেষ্টা করেন রাজ্যের সরকার সারাদেশের তথা সারা রাজ্যের মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। রাজ্য বিজেপি সরকার একটি স্লোগান কে বিশ্বাস করেন সেটা হল “সবকা সাথ সবকা বিশ্বাস”। এরপর প্রেক্ষিতে তিনি আরেকটি আওয়াজ তোলেন ২০২৮ সালে ২৫ খোয়াই বিধানসভা কেন্দ্রটিকে সিপিএম মুক্ত করা হবে। সিপিএম দলের বিরুদ্ধে এই ধরনের কলঙ্কজনক অধ্যায় সেই জনসভায় তুলে ধরেন এবং ব্যাপকভাবে তুলো ধুনা করেন রাজ্য বিজেপি দলের রাজ্য সভাপতি রাজীব ভট্টাচার্যী। শুধু তাই না এই বক্তব্যের পর তিনি বলেন ক্ষমতা থাকলে প্রেস মিট করে উনাকে দেখাতে যদি তিনি কোন ধরনের মিথ্যা কথা বলে থাকেন ।এর জন্য তিনি সিপিএম দলের অভিমুখে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে মারেন সাহস ও ক্ষমতা থাকলে প্রেস মিট করে দেখাতে এই বিষয় নিয়ে। এছাড়া এখানে সব থেকে লক্ষণীয় বিষয় ছিল শহীদ জনসমাবেশে প্রচুর সংখ্যক জনগণ উপস্থিত ছিল এবং সব থেকে লক্ষ্যণীয় বিষয় সমাবেশ শেষ পর্যন্ত মাঠে কর্মী সমর্থকদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। সমাবেশ শেষে সভা স্থলই খোয়াই মন্ডলের অন্তর্গত বিভিন্ন এলাকা থেকে বিরোধীদল সিপিআইএম এবং কংগ্রেস দল থেকে ১৫ পরিবারের ৪৫ জন ভোটার বিজেপি দলে যোগদান করেন রাজীব ভট্টাচার্যের হাত ধরে। এই বিষয়ে নেতৃত্বরা বলেন এই রকম যোগদান আগামী দিনেও জারি থাকবে।

RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

two × five =

- Advertisment -spot_img

জনপ্রিয় খবর

সাম্প্রতিক মন্তব্য