Tuesday, January 20, 2026
বাড়িখবরশীর্ষ সংবাদবিরোধী সিপি আই এম দলের বিরুদ্ধে কুৎসা রটাতে অতীতের সন্ত্রাসবাদী হামলার সম্পর্কে...

বিরোধী সিপি আই এম দলের বিরুদ্ধে কুৎসা রটাতে অতীতের সন্ত্রাসবাদী হামলার সম্পর্কে বিজেপি দলের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে ধিক্কার জানিয়ে খোয়াইতে সি পি আই এম এর সাংবাদিক সম্মেলন।

বাসুদেব ভট্টাচার্যী খোয়াই ১৬ই জানুয়ারি………সি পি আই এম দলকে কোণঠাসা করতে অতীতের সন্ত্রাসবাদী হামলার বিষয়কে কেন্দ্র করে সম্প্রতি খোয়াইয়ে বিজেপি দলের কুৎসা, মিথ্যাচার ও ভিত্তিহীন অপপ্রচারের বিরোধীতা করে শুক্রবার দুপুরে এক সাংবাদিক সম্মেলন করে সি পি আই এম এর খোয়াই জেলা কমিটি।এই দিন পার্টির জেলা কার্য্যালয়ে অনুষ্ঠিত সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন পার্টির খোয়াই জেলা কমিটির সম্পাদক পদ্ম কুমার দেববর্মা ও খোয়াই মহকুমা কমিটির সম্পাদক নির্মল বিশ্বাস।সাংবাদিক সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পার্টির রাজ্য কমিটির সদস্য পলাশ ভৌমিক ও জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য আলয় রায়।সাংবাদিক সম্মেলনে পার্টির জেলা সম্পাদক পদ্ম কুমার দেববর্মা বলেন, অতীত দিনে রাজ্যে সংগঠিত বিভিন্ন সন্ত্রাসবাদী হামলা আক্রমণের ঘটনা নিয়ে শাসক দল বিজেপি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে সি পি আই এম দলকে জড়িত করে বিভিন্ন ভাবে অপপ্রচার করছে।অতীতের ইতিহাসকে মুছে ফেলার জন্যই শাসকদল এরকম অপপ্রচার করছে।বিজেপি পরিচালিত রাজ্যের বর্তমান সরকার সবদিক দিয়েই ব্যর্থ।উন্নয়ন কাজ মুখ থুবড়ে পড়েছে।মানুষের জীবন জীবিকা আক্রান্ত ও গণতন্ত্র বিপন্ন।তাই বিরোধী দলের কন্ঠরোধ করা হচ্ছে।গরীব মানুষের রুজি রোজগার বিপন্ন আজ।এই সীমাহীন ব্যর্থতাকে আড়াল করে মানুষের দৃষ্টিকে ঘুড়িয়ে দেওয়ার জন্য ও সরকারের ব্যর্থতায় জনমনে সৃষ্টি হওয়া সীমাহীন ক্ষোভকে প্রশমিত করতেই শাসকদলের এসব অপপ্রচার ও কুৎসা।বামফ্রন্ট সরকারকে ভাঙার জন্য ও তৎকালীন সরকারের জনমুখী উন্নয়নের কাজকে ব্যহত করার জন্য বামফ্রন্ট বিরোধীরাই রাজনৈতিক মদত দিয়ে সন্ত্রাসবাদীদের দিয়ে সারা রাজ্যে অপহরণসহ বিভিন্ন হত্যার ঘটনা সংগঠিত করেছে।এখন সেসব বিষয়ের মোড় ঘুরিয়ে ঘোলা জলে মাছ শিকার করতে চায় বিজেপি।এজন্যই তাদের কুৎসা।মানুষ অতীতের বামফ্রন্ট সরকার ও বর্তমান সরকারের ফারাক উপলব্ধি করছেন।সরকার দুর্নীতির পঙ্কিল আবর্তে নিমজ্জিত।এসব বিষয় ধামাচাপা দেওয়ার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে শাসকদল।ওরা ঐতিহ্যকে কলঙ্কিত করতে চায়।অতীতের সব ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার দায় চাপিয়ে দিচ্ছে সি পি আই এম এর ওপর।ওরা ঐক্য সম্প্রীতিকে ধ্বংস করতে চায়।সাংবাদিক সম্মেলনে সি পি আই এম এর খোয়াই মহকুমা কমিটির সম্পাদক নির্মল বিশ্বাস বলেন,রাজ্যে অতীত দিনে সন্ত্রাসবাদীরা যেসব ঘটনা ঘটিয়েছে তাতে তাদের মূল টার্গেট ছিল সি পি আই এম সহ বামপন্থীরা।আমাদের অনেক নেতা কর্মীদের রক্তে হোলি খেলেছে সন্ত্রাসবাদীরা।আমাদের অসংখ্য নেতা কর্মী শহীদ হয়েছেন ঐক্য ও সম্প্রীতির শত্রুদের হাতে।শহীদের নাম বলে শেষ করা যাবে না।উপেন্দ্র দেববর্মা, প্রেমসিং ওরাং, ক্ষীরোদ দেববর্মা, চন্দ্রমোহন দেববর্মা, সীতেশ দেববর্মা, সঞ্জিত দাস পুরকায়স্থরা সন্ত্রাসবাদীদের আক্রমণে নিজেদের জীবন বিসর্জন দিয়েছেন।আজকে বিজেপি যা বলে বেড়াচ্ছে তা পুরোপুরি পূর্ব পরিকল্পিত।সন্ত্রাসবাদীদের হামলা আক্রমণে যদি সি পি আই এম জড়িত থাকে তাহলে ওরা সাক্ষ্য প্রমাণ নিয়ে আইন আদালতে যাচ্ছেন না কেন!ওরাই তো সরকারে রয়েছেন।আইনগত ব্যবস্থা নিলেই তো পারেন।বিজেপি কি বলতে পারবে যে, সন্ত্রাসবাদীদের হাতে ওদের দলের কেউ নিহত হয়েছে!বা শহীদ হয়েছে!ওরা একটি নাম বলুক।চ্যালেঞ্জ করে বলেন বিধায়ক নির্মল বিশ্বাস।নির্মল বিশ্বাস এও বলেন, কল্যানপুরে সি পি আই এম এর প্রাক্তন বিধায়ক মাখন চক্রবর্তীর পরিবারের ছয়জন লোক সন্ত্রাসবাদীদের হাতে মারা গেছেন।আর এখন বিজেপি বলছে সি পি আই এম নাকি সন্ত্রাসবাদীদের দিয়ে গণহত্যা করেছে।আসলে কি রাজ্যের কি কেন্দ্রের , ডাবল ইঞ্জিন সরকারের জনবিরোধী কাজ আড়াল করতে মরিয়া বিজেপি দল ।বামপন্থীদের অনেক লড়াই সংগ্রামের ফসল হলো একশো দিনের কাজ।এখন এই প্রকল্পকে বাতিল করে দিয়ে নতুন করে আইন তৈরি করে গরীব শ্রমজীবী মানুষের কাছ থেকে কাজের অধিকার কেড়ে নিচ্ছে বিজেপি।এই সব জনস্বার্থ বিরোধী কাজ সম্পর্কে মানুষের ক্ষোভের যাতে বিস্ফোরণ না হয় তার জন্য সি পি আই এম এর নামে বামফ্রন্টের নামে অপপ্রচার।তিনি এও বলেন, সিঙ্গিছড়ায় দুই নং বাজারে ২০০২ সালে মকর সংক্রান্তির আগের দিন সন্ধ্যায় এন এল এফ টি সন্ত্রাসবাদীরা গণহত্যা করেছে।এতে আমাদের অনেক কর্মী সমর্থক সাধারণ মানুষ খুন হয়েছেন।সি পি আই এম এর একজন প্রাক্তন পঞ্চায়েত প্রধান বিনোদ পাল ও তার স্ত্রী মালতী পাল নিহত হয়েছেন।বামফ্রন্ট সরকার নিহত পরিবারের মানুষজনদেরকে চাকুরি প্রদান করা সহ অন্যান্য সরকারী সুযোগ সুবিধা দিয়েছে।বামফ্রন্ট সরকার পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছে।সিঙ্গিছড়ার ঘটনার পর সাথে সাথেই সি পি আই এম এর নেতা কর্মীরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান।রক্তাক্ত মানুষকে দ্রুত হাসপাতালে এনে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছেন।এখন বিজেপি সিঙ্গিছড়ার গণহত্যার ঘটনা নিয়ে সি পি আই এম এর বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন মিথ্যাচার করছে।নির্মল বিশ্বাস বলেন, সম্প্রতি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী কল্যানপুরে এসে নাকি বলেছেন যে, কল্যানপুরের সন্ত্রাসবাদীদের গণহত্যার ঘটনার মামলা নাকি তিনি রি ওপেন করবেন।আমরা তো স্বাগত জানাই মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণাকে।দেরী করছেন কেন? দ্রুত রি ওপেন করুন।অপপ্রচার করে মানুষকে বিভ্রান্ত করার কী প্রয়োজন।ওরাই তো সরকারে রয়েছেন।ওরাই তো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন।সি পি আই এম বা বামফ্রন্ট যদি সন্ত্রাসবাদীদের পেছনে থেকে থাকে তাহলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করলেই তো পারেন।মঞ্চে দাঁড়িয়ে কষ্টকল্পিত কাহিনী প্রচার করে সময় নষ্ট করছেন কেন!
তিনি এও বলেন, রাজ্যের সাধারণ মানুষ বিজেপি দলের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভিত্তিহীন অপপ্রচারে বিভ্রান্ত হবেন না বলেই আমরা বিশ্বাস করি।কারণ রাজ্যবাসীর অভিজ্ঞতা রয়েছে।আমরা আশা করি যে রাজ্যের সর্বস্তরের মানুষ শাসকদলের কুৎসা, মিথ্যাচার ও ভিত্তিহীন অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে ঐক্যবদ্বভাবে প্রতিবাদ করবেন।সেই বার্তা দিতেই এই সাংবাদিক সম্মেলন যাতে করে সংবাদ মাধ্যমের দ্বারা এই কথাগুলো রাজ্য বাসি জানতে পারে যে কিভাবে বিজেপি দলের পক্ষ থেকে এই ধরনের মিথ্যা ও অপপ্রচার চালাচ্ছে। তাদের এই অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সি পি আই এম দল ধিক্কার জানায়।

RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

19 − 14 =

- Advertisment -spot_img

জনপ্রিয় খবর

সাম্প্রতিক মন্তব্য