বাসুদেব ভট্টাচার্যী খোয়াই ৪ঠা জানুয়ারি…… হিন্দু সন্মেলনের নামে রবিবার দুপুরে খোয়াই বিমান বন্দর মাঠে অনুষ্ঠিত হলো সংস্কৃতিক হিন্দু সন্মেলন ২০২৬ ! এই কথাটা অনেক পাঠকের কাছে হজম হবেনা। এই কথার প্রসঙ্গে আসছি।এই হিন্দু সম্প্রদায়ের সন্মেলনকে সামনে রেখে সন্মেলন কমিটির প্রচার ছিল ব্যাপক।এই সন্মেলনকে সার্থক করতে এই সন্মেলনের মঞ্চে উত্তর প্রদেশ থেকে আনা হয় সনাতন ধর্মের এক সাধককে।এই সন্মেলনে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন এই সন্মেলনের প্রধান বক্তা তথা রাষ্ট্রীয় মহাকাল সেনা রাষ্ট্রীয় অধ্যক্ষ মহন্ত শ্রী যোগি রোহতাস নাথজী, শ্রী অসিমানন্দ জী মহারাজ,বিদ্যাভারতি প্রান্ত সংগঠন মন্ত্রী নীলমণি চক্রবর্তী, হিন্দু সন্মেলন কমিটির সাধারণ সম্পাদক অলক চৌধুরী সহ অন্যান্যরা।
যে উদ্দেশ্যে রবিবার দুপুরে এই সন্মেলনের ডাক দেওয়া হয়েছিল এবং ব্যাপক ভাবে প্রচার করেছিল সেই সংঘটনের পক্ষ থেকে সেটা অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে লোক সমাগমের নমুনা এবং কালচারাল অনুষ্ঠানের জন্য। সাধারণ দর্শক বা স্রোতরা বুঝেই উঠতে পারেনি এটা আদৌ কি হিন্দু সন্মেলন নাকি সাংস্কৃতিক সন্মেলন। মঞ্চের অতিথিরা প্রায় দুপুর বারোটায় মন্চে বসেন।তারপর চলে সংবর্ধনা পাশাপাশি নাচ গান ছোট করে কয়েক জনের ভাষন। কিন্তু খুবই পরিতাপের বলতে হচ্ছে যে খোয়াই বিমান বন্দর মাঠে স্রোতারা এসেছিল হিন্দু দের নিয়ে মহন্ত শ্রী যোগি রোহতাস নাথজী হিন্দু দের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিশদ ভাবে আলোচনা করবেন হিন্দুদের কি করা উচিত।কিন্তু এই সন্মেলন মঞ্চে স্থানীয় শিল্পীরা একের পর এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করার ফলে একসময় মনে হয়েছিল ওটা হিন্দু সম্প্রদায়ের কোন অনুষ্ঠান নয় এটি হচ্ছে সাংস্কৃতিক সন্মেলন। এত পরিমাণে নাচ গান হবার ফলে সবাই মূল অনুষ্ঠানের মাহিত্য ও ধারাবাহিকতাকে হারিয়ে ফেলে। শেষে বলে, কয়ে, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের কিছু লাগাম টানা হয়।আর এই সব দেখে মঞ্চের অতিথিরা বিব্রত বোধ করতে দেখা যায়। প্রায় দুই ঘণ্টা প্রধান বক্তাকে মঞ্চে বসিয়ে রাখা হয়। শেষে বেলা দুই ঘটিকায় প্রধান অতিথিকে বক্তব্য রাখতে অনুরোধ করা হয়। তিনিও এই সুন্দর অনুষ্ঠানের তার লয় হারিয়ে ফেলেন। এবং বক্তব্য রাখতে গিয়ে মাত্র এগার মিনিট বক্তব্য রাখেন মূল বিষয় নিয়ে। অন্যদিকে যে ভাবে গত কিছুদিন ধরে এই সন্মেলনের প্রচার চলছিল সেই অনুযায়ী খোয়াই বিমান বন্দর মাঠে লোক সমাগমের নমুনা ছিল খুবই খারাপ। সারা মাঠ জুড়ে হিন্দুদের সমাগমের সংক্ষা ছিল দেড় থেকে দুই হাজার লোকের।তার থেকেই বুঝাযায় যে বর্তমান সময়ে আমরা হিন্দুরা নিজেদের সনাতন ধর্ম নিয়ে একেবারে সজাগ না। এতবড় খোয়াই মহকুমা আর বেশিরভাগ লোক হিন্দু সম্প্রদায়ের।এর পরও হিন্দু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে বিমান বন্দর মাঠে এই ধরনের উপস্থিত গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এই দৃশ্য দেখে একটাই উপলব্ধি হল যে আমরা সনাতন ধর্মাবলম্বীরা নিজেদের ধর্ম নিয়ে একেবারেই যে সচেতন নয় আজ তা প্রমানিত হল। অথচ হিন্দুদের উপর বিশেষ করে মুসলিমরা যে ধরনের অত্যাচার করে চলেছে সেই যায়গায় দাঁড়িয়ে যদি হিন্দুরা একত্রিত না হয় তাহলে হিন্দু দের ভবিষ্যৎ করূন রুপ ধারণ করবে। সত্যি বলতে আমরা হিন্দুরা কিন্তু আজও একত্রিত হতে পারেনি। যার ফলে এই ধর্মের লোকেরা প্রতিনিয়ত অত্যাচারিত শুধু একত্রিত হয়ে না থাকার কারণে।তার পর দেখা গেলো প্রসাদ গ্রহণের জন্য বিশাল লম্বা লাইন।এই সন্মেলনে প্রচুর পরিমাণে লোক সমাগম হবে ভেবে কমিটির লোকেরা প্রায় আট হাজার লোকের প্রসাদ গ্রহণের ব্যবস্থা করেন। কিন্তু সন্মেলনের মাঠে লোক সমাগমের নমুনা খারাপ হলেও প্রসাদ গ্রহণের জায়গায় ভীর দেখা যায়।এরপর প্রধান বক্তা বর্তমান পরিস্থিতিতে দাড়িয়ে হিন্দু বর্তমান অবস্থার কথা উল্লেখ করেন তিনি।একটি কথাই বারবার বলেন যে হিন্দুরা যদি একত্রিত হতে না পারে আগামী দিন খুবই ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি উৎপন্ন হবে বলে জানান। এবং এই বিষয়ে বিস্তারিত ভাবে বলেন এই হিন্দু সন্মেলন থেকে।



