বাসুদেব ভট্টাচার্যী খোয়াই ১৯শে আগষ্ট……খোয়াই তথ্য সংস্কৃতি দপ্তরের উদ্যোগে এবং কালচারাল ছেলের সহযোগিতায় খোয়াই পুরাতন টাউনহলে মঙ্গলবার দুপুর বারোটায় অনুষ্ঠিত হলো মহারাজা বীর বিক্রম কিশোর দেব বর্মন বাহাদুরের ১১৭ তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে এক শ্রদ্ধাঞ্জলি অনুষ্ঠান। উক্ত অনুষ্ঠানের উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক পিনাকী দাস চৌধুরী, এছাড়া অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন খোয়াই জিলা পরিষদের সভাধিপতি শ্রীমতি অপর্ণা সিংহ রায়, খোয়াই তথ্য সংস্কৃতি দপ্তরের যুগ্ম অধিকর্তা দীলিপ কুমার দেববর্মা,খোয়াই পুর পরিষদের চেয়ারম্যান দেবাশীষ নাথ শর্মা, খোয়াই জিলা পরিষদের প্রাক্তন সভাধিপতি জয়দেব দেববর্মা, খোয়াই মন্ডল সভাপতি অনুকূল দাস , সমাজসেবী বীনয় দেববর্মা সহ বিভিন্ন স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা।এই দিন অনুষ্ঠানের উদ্বোধক পিনাকী দাস চৌধুরী সহ অন্যান্যরা প্রথমে প্রদীপ প্রজননের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন। এরপর মহারাজে বীর বিক্রম কিশোর মানিক্য বাহাদুরের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ নিবেদন করেন। মহারাজা বীর বিক্রম কিশোর মানিক্য বাহাদুরের ১১৭ তম জন্য জয়ন্তী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে উনার জীবনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা করেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত সমস্ত অতিথিরা। অবশেষে বক্তব্য রাখতে গিয়ে উৎভোদক পিনাকি দাশ চৌধুরী বলেন জীবনে তিনি অল্প আয়ু পেয়েছিলেন তাই তিনি ৩৯ বছরে ইহলোক ত্যাগ করে পড়লোকে চলে যান। কিন্তু ওনার এই ছোট্ট জীবনের যেসব কর্মকাণ্ড করে গেছেন রাজ্যের জন্য বা রাজ্যবাসীর জন্য তা ইতিহাসের পাতায় চিরস্মরণীয় হয়ে রয়েছে। উনার স্বল্প জীবনে এমন কিছু কাজ করে গেছেন যা রাজ্যের মানুষ আজও স্মরণ করে তার মধ্যে রয়েছে এম বি বি কলেজ, নীরমহল , লক্ষীনারায়ণ বাড়ি, বেনু বিহার, দুর্গা বাড়ি, সহ এই ধরনের অনেক কাজ করে গেছেন তিনি। পাশাপাশি তিনি যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য সড়ক পথের পাশাপাশি আকাশ পথে চলাফেরার জন্য নরসিংগরে বিমানবন্দর তৈরি করে ।যার বর্তমান নাম মহারাজা বীর বিক্রম কিশোর বিমানবন্দর । শুধু তাই না ত্রিপুরা রাজ্যকে গড়তে উনার দূরদর্শিতা ছিল প্রচণ্ড প্রখর। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তিনি একটি সামরিক বাহিনী তৈরি করেছিলেন যার নাম ছিল ষ্টেইট রাইফেল। এছাড়া তিনি আগরতলা শহরকেও সুন্দর ভাবে সাজিয়েছিলেন। যার নিদর্শন আজও পাওয়া যায়। মহারাজা বীর বিক্রম কিশোর মানিক্য বাহাদুরের এই ধরনের অনেক কর্মকাণ্ড নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন বিধায়ক পিনাকী দাস চৌধুরী। শেষে তিনি এও বলেন রাজনৈতিক স্বার্থে একশ্রেণীর রাজনৈতিক দল মহারাজের এবং মহারাজের পরিবারের বিভিন্ন কর্মকান্ড এবং জনগণের জন্য উপকৃত করা কাজকে মান্যতা দিতে চান না। উনার কাজকে কুক্ষিগত করে রাখতে কিছু রাজনৈতিক দল নিজেদের স্বার্থে মহারাজা বীর বিক্রম কিশোর মানিক্য বাহাদুর কে বা ওনার কাজের পরিধিকে সংকীর্ণ করতে কোনঠা বোধ করেনি। কিন্তু ২০১৮ সালে বিজেপি সরকার আসার পর উনার বিভিন্ন কাজের পরিধির ব্যাপতিকে ছরিয়ে দিতে রাজ্য সহ সারাদেশে তার প্রচার করা হয় এমনকি আজও চলছে জানান বিধায়ক পিনাকী দাস চৌধুরী। শুধু তাই না রাজ্যের সমস্ত অংশের মানুষের সুবিধার্থে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করে তা বাস্তবায়িত করতে নির্লস চেষ্টা চালিয়ে গেছেন যাতে করে রাজ্যের মানুষ সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা পায়। তাইতো ওনার দূরদর্শিতার কথা আজ সবার মুখে মুখে তাই তিনি ছিলেন এক বিচক্ষণ ব্যক্তি এবং রাজ্যের একজন সুশাসক।