বাসুদেব ভট্টাচার্যী খোয়াই ১২ই আগষ্ট…… অবশেষে খবরের জেরে ঘুম ভাঙলো জাতীয় সড়ক নির্মাণ সংস্থার উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের। ২০৮ নং জাতীয় সড়ক পরিদর্শনে আসলেন নির্মাণ সংস্থার এমডি কিশন কুমার। কিন্তু সড়কের বেহাল দশা পরিদর্শন করার পর নির্মাণ সংস্থা এম ডি কিশন কুমার আই এ এস সাংবাদিকদের কিছু না বলে এই বিষয়ে দায়িত্ব দিয়ে যান রাজ্য পূর্ত দপ্তরের সেক্রেটারি ইঞ্জিনিয়ার কিরণ গীত্বের উপর। তাতেই বোঝা গিয়েছিল নির্মাণ সংস্থার আধিকারিকরা শাক দিয়ে মাছ ঢাকতে রাজ্য পূর্ত দফতরের বাস্তুকার কে এগিয়ে দিলেন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হতে। যেখানে জাতীয় সড়কের বিষয়ে পূর্ত দপ্তরের কোন হাতে নেই বা বলার অধিকার নেই। কারণ সম্পূর্ণ কাজটি করেছে যাতিয় সড়ক নির্মাণ সংস্থা। এবং তাদের ভুল ত্রুটি গুলো তুলে ধরার কথা ছিল সংস্থার এমডির সংবাদ মাধ্যমের কাছে। কিন্তু তা তিনি করেননি কেন সেটাই প্রশ্ন । দেখা গেছে খোয়াই থেকে কমলপুর এবং কুমার ঘাট পর্যন্ত ২০৮ নং জাতীয় সড়ক গত দেড় বছর আগে নির্মাণের কাজ সমাপ্ত হওয়ার পর এই রাস্তা ধরে বিভিন্ন যানবাহনের যাতায়াত শুরু হয়েছে। তাতে করে গত দেড় বছরেই এই ২০৮ নং জাতীয় সড়কটিতে নিম্নমানের কাজের ফলে খোয়াই থেকে কমলপুর পর্যন্ত সম্পূর্ণ রাস্তা ভেঙ্গে কর্দমাক্ত অবস্থা পরিণত হয়েছে। আর এই ২০৮ নং জাতীয় সড়কের বেহাল দশা ও করুণ দৃশ্য বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে শুরু করে বৈদ্যতিক চ্যানেল গুলিতে গত ৮/ ৯ মাস ধরে লাগাতর খবর প্রকাশিত হচ্ছে নিম্নমানের কাজের বিষয়ে। তাতে এই সড়ক ধরে চলাচল কারি বিভিন্ন যানবাহন থেকে শুরু করে যাত্রীদেরও ব্যাপক হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। এই সড়ক তৈরীর ক্ষেত্রে নিম্নমানের কাজের খবর প্রতিনিয়ত বিভিন্ন সংবাদপত্রে ফলাও করে প্রকাশিত হয়েছে এমনকি এখনো হচ্ছে।এরই প্রেক্ষিতে সোমবার বিকেল তিনটা নাগাদ খোয়াই থেকে কমলপুর হয়ে কুমার ঘাট পর্যন্ত এই রাস্তার পর্যবেক্ষণ করতে কেন্দ্র থেকে জাতীয় সড়ক নির্মাতা সংস্থার এম ডি ডক্টর কিষন কুমার আই এ এস ত্রিপুরা রাজ্যে আসেন এবং সোমবার খোয়াই ২০৮ নং জাতীয় সড়ক পরিদর্শন করেন। উনার সাথে ছিলেন জাতীয় সড়ক নির্মাণ সংস্থার বিভিন্ন ইঞ্জিনিয়ার থেকে শুরু করে বিভিন্ন দপ্তরের আধিকারিক, রাজ্য পূর্ত দপ্তরের সেক্রেটারি কিরণ গিত্তে, খোয়াই জেলা শাসক রজত পন্থ সহ অন্যান্য আধিকারিকরা। নির্মাণ সংস্থার আধিকারিকরা সোমবার সকালের দিকে আসার কথা ছিল । সেই হিসেবে মহকুমার সাংবাদিকরা খোয়াই মহাদেব টিল স্থিত চৌহমুনিতে দুপুর বারোটা থেকে তিনটা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে থাকে। অবশেষে জাতীয় সড়ক নির্মাণ সংস্থার এমডি ডক্টর কিশন কুমার সহ অন্যান্য আধিকারিকরা খোয়াই মহাদেব টিলা এলাকায় আসেন। অন্যদিকে তিন ঘন্টা ধরে অপেক্ষমান সাংবাদিকরা যখন নির্মাণ সংস্থার আধিকারিকদের ছবি এবং ফুটেজ তুলছিলেন যখন তারা ওই রাস্তা গুলি পরিদর্শন করছিলেন তখন বারবার সাংবাদিকদের বাধা দান করেছেন যাতে সড়ক নির্মাণ সংস্থার এমডি থেকে শুরু করে ওনার আপ্ত সহায়ক ও অন্যান্য আধিকারিকরা। জাতীয় সড়ক নির্মাণ সংস্থার আধিকারিকরা খোয়াই এলাকার ২০৮ রাস্তার বেহাল দশা গুলি পরিদর্শন করছিলেন ওই সমস্ত ফুটেজ এবং ছবি সাংবাদিকদের জন্য খুবই জরুরীছিল তাদের পেশাগত দায়িত্বের জন্য। কিন্তু দেখা গেছে সংস্থার এমডি বারবার সাংবাদিকদের কাজে বাধা দিয়ে বলছেন কোন ধরনের ছবি যাতে না তোলা হয় তিনি পড়ে সংবাদ মাধ্যমকে সব কিছু বলবেন। শুধু তাই না সংবাদ মাধ্যমকে এড়িয়ে যাওয়ার জন্য যখনই তিনি বিভিন্ন আধিকারিকদের সাথে কথা বলছিলেন তখন সেই কথা বলার ফুটিজ বা ছবি যাতে সাংবাদিকরা নিতে না পারে তার জন্য ক্যামেরা ধরার সাথে সাথে বারবার তিনি পিছন ঘুরে দাঁড়িয়েছেন সাংবাদিকদের ক্যামেরার দিকে। অথচ সাংবাদিকদের সাথে কোন ধরনের কথা বলা বা ইন্টার্ভিও দেবেন কিনা সেই বিষয়ে সংস্থার এমডি কিষন কুমার কোন কথা না বলে এড়িয়ে যান সাংবাদিকদের। এবং শেষে নাছোড়বান্দা সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার জন্য এগিয়ে দিলেন রাজ্য পূর্ত দপ্তরের বাস্তুকার কিরন গিত্বকে । এখানেই প্রশ্ন কেন কিরন গিত্বে? কিরন গিত্বে বা ওনার দপ্তর কি ২০৮ নং জাতীয় সড়কের কাজ করেছেন না। তাহলে জাতীয় সরকারের বিষয়ে তিনি কেন বলবেন যাতিয় সড়কের কাজের ক্ষেত্রে কি কি ধরনের নিয়ম কানুন এবং কেনইবা এই রাস্তা খারাপ হলো এত অল্প সময়ে সেই বিষয়ে ভালো মন্দ বলার কথা ছিল নির্মাণ সংস্থার এমডি কিষান কুমারের। কিন্তু না রাস্তার হাল হকিকত দেখে এমডি কিশন কুমার ঠিক বুঝে গেছেন ২০৮ নং জাতীয় সড়ক তৈরির ক্ষেত্রে কি ধরনের ঘাপলা বাজি করেছে নির্মাণ সংস্থার ইঞ্জিনিয়ার থেকে শুরু করে সমস্ত আধিকারিকরা। আর রাস্তার এই দৃশ্য দেখেই তিনি ওটা বুঝে গেছেন কিভাবে টাকা পয়সার নয় ছয় করা হয়েছে। তাই এই রাস্তার বিষয়ে সঠিক তথ্য তিনি দিতে পারবেন না বলেই বা নিজের সংস্থার কর্মকর্তাদের বাঁচাতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হননি সংস্থার এমডি। খোয়াই তে আসার পর উনার ভাব ভঙ্গিমা দেখে মনে হয়েছিল ২০৮ নং জাতীয় সড়কের হাল হকিকত দেখতে প্রধানমন্ত্রী পরিদর্শনে আসেন এমনটাই ভাব ছিল উনার। নির্মাণ সংস্থার এমডি কিশন কুমার এর কাছে কোন সাংবাদিকদের কে যেতে দেওয়া হয়নি! কারণ তিনি ভালো করে জানেন ২০৮ নং জাতীয় সড়ক নিয়ে যেভাবে খবর প্রকাশিত হয়েছে তার তথ্য প্রমাণ সাংবাদিকরা যদি ওনার কাছে জানতে চান তাহলে তার সঠিক উত্তর তিনি দিতে পারবেন না। আর যদি দিতেন তাহলে শাক দিয়ে মাছ ঢাকার মতন অবস্থা হতো এবং তাই হয়েছে। এমডির মুখের কথা বলতে দাঁড় করিয়ে দিলেন পূর্ত দপ্তরের বাস্তুকার কিরন গিত্বকে। তাছাড়া ২০৮ নং জাতীয় সড়ক তৈরির ক্ষেত্রে বা কিভাবে তৈরি হয়েছে সেটা তো রাজ্য পুর্ত দপ্তরের জানার কথা না বা ওটা তাদের কাজও না সম্পূর্ণ বিষয়টি দেখসুন করছেন জাতীয় সড়কের নির্মাণ সংস্থার কর্মকর্তারা। তাই যদি হয় রাজ্য পুর্ত দপ্তরের আধিকারিক খোয়াই এসেছেন অথচ খোয়াই এর পূর্ত দপ্তরের কোন ইঞ্জিনিয়ার বা আধিকারিক সেখানে ছিল না কেন। খোয়াই উপর দিয়ে ২০৮ নং জাতীয় সড়ক তৈরির ক্ষেত্রে জাতীয় সড়ক পরিদর্শন করে জাতীয় সড়ক নির্মাণ সংস্থা এম ডি ডক্টর কিশন কুমার এই সড়ক নির্মাণ সংস্থার বিভিন্ন ইঞ্জিনিয়ারদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিয়েছেন এই ধরনের নিম্নমানের কাজের জন্য সে বিষয়ে সাংবাদিকদের কাছে তুলে সমস্ত বিষয়টি তুলে ধরেন রাজ্য পূর্ত দফতরের সেক্রেটারি কিরন গীত্তে। সবচেয়ে বড় বিষয় হল কিরন গিত্বে বলেন আগামী অক্টোবর এবং নভেম্বরের মধ্যে এই ২০৮ নং জাতীয় সড়ক মেরামতের উদ্যোগ গ্রহণ করবে জাতীয় সড়ক নির্মাণ এজেন্সি গুলি। আর যদি যথাসময়ে এই রাস্তা মেরামতের উদ্যোগ গ্রহণ না করেন পরবর্তীতে জাতীয় সড়ক নির্মাণ এজেন্সি গুলির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে তিনি সংবাদ মাধ্যমের কাছে জানিয়েছেন। তবে সবচেয়ে বড় বিষয় ২০৮ নং জাতীয় সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে সাধারণ জনগণ থেকে শুরু করে যানবাহন চালকদের অনেকেই অসুবিধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।। এখন দেখার বিষয় যেহেতু রাজ্য সরকারের উচ্চপদস্থ আধিকারিক এবং কেন্দ্রীয় সরকারের উচ্চপদস্থ আধিকারিক ২০৮ নং জাতীয় সড়ক এর বেহাল অবস্থার চিত্র পরিদর্শন করে গেছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আগামী দিনে কি ভূমিকা গ্রহণ করেন সেটাই দেখার বিষয়। শুধু তাই না এই ২০৮ জাতীয় সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে সিধাই মোহনপুরের জাতীয় সড়কের সাথে খোয়াই ২০৮ নং জাতীয় সড়কের তুলনা নিয়ে প্রশ্ন করতেই পূর্ত দপ্তরের বাস্তব কিরণ গিত্বে সাংবাদিকদের জানান ওটা জাতীয় সড়ক নির্মাণ সংস্থার বিষয় এই বিষয়ে তিনি কিছু বলতে পারবেন না এই বলেই ধন্যবাদ জানিয়ে সাংবাদিকদের পাশ কাটিয়ে চলে গেলেন। এর থেকে স্পষ্ট বোঝা গেল নির্মাণ সংস্থার সমস্ত আধিকারিকরাই শাক দিয়ে মাছ ঢাকতে নামকাওয়াস্তে ২০৮ নং জাতীয় সড়কটি পরিদর্শন করলেন। তাইতো এমডি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হননি কারণ সাংবাদিকদের অনেক প্রশ্নের উত্তর তিনি দিতে পারবেন না জেনেই রাজ্য পূর্ত দপ্তরকে বলে পাঠা বানানো হলো। তাই জাতীয় সড়ক নির্মাণ সংস্থা এমডি প্রথম থেকেই সাংবাদিকদের এভোয়েড করে চলেছেন যাতে সাংবাদিকরা কেঁচো খুঁড়তে তে সাপ না বের করে ফেলে সেই ভয়ে।