বর্তমান সময়ে আবহাওয়ার পরিবর্তিত পরিস্থিতির কারণে সামগ্রিক কৃষি ব্যবস্থা একটা জটিল পরিস্থিতির সম্মুখীন। বারবার কৃষি বিজ্ঞানী থেকে শুরু করে সমাজচিন্তকরা অভিমত ব্যক্ত করতে গিয়ে জানাচ্ছেন কৃষিতে অত্যধিক ফলন করতে গিয়ে মাত্রাতিরিক্ত রসায়নিক সার এবং কীটনাশকের ব্যবহারের ফলে পরিবেশ নিত্যনৈমিত্তিকভাবে তার ভারসাম্য হারাচ্ছে। এই জায়গায় দাঁড়িয়ে পরিবেশের সার্বিক পরিস্থিতিকে অনুকূল রাখার প্রয়োজনে জৈবিক পদ্ধতি অনুসরণ করে কৃষি কাজকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। এই বিশেষ বিষয়কে লক্ষ্য রেখে সরকার তথা কৃষি দপ্তর বিভিন্নভাবে সচেতনতামূলক প্রয়াস জানিয়েছেন তার পরেও আমাদের সমাজের মধ্যে জৈবিক পদ্ধতি অনুসরণ করে বা জৈব সারের প্রয়োগের মধ্য দিয়ে কৃষিকাজ প্রায় দেখা যায় না বললেই চলে। এই জায়গায় দাঁড়িয়ে কল্যানপুর আর ডি ব্লকের অন্তর্গত দক্ষিণ ঘিলাতলী গ্রামের উদ্যোগী এবং অনুপ্রেরণাকারী কৃষক অজিত দাস সমাজকে আলো দেখাচ্ছেন। এই সময়ের মধ্যে অজিত দাস কিভাবে জৈবিক পদ্ধতি অনুসরণ করে মিশ্র কৃষিকে ভর করে স্বনির্ভর হওয়া যায় তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছেন এবং শুধুমাত্র নিজে জৈবিক সারের প্রতি আসক্ত হয়েছেন এমনটা না, অজিত বাবু চাইছেন আগামী দিনে যাতে করে ওনার গোটা এলাকার কৃষকরা উনাকে দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে পরিবেশের প্রয়োজনে, নিজেদের প্রয়োজনে জৈবিক পদ্ধতিতে চাষবাসে মনোযোগী হন। খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে দেখা গেছে সম্পূর্ণ জৈবিক পদ্ধতিতে মোট ছয় কানি জমির উপরে মিশ্র চাষের অনবদ্ধ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন অজিত বাবু। ঋতুকালীন সবজি চাষ থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রজাতির হাঁস, মোরগ, কবুতর, মাছ চাষ, ড্রাগন ফলের চাষ, কাঁকরল , পটল সহ বিভিন্ন প্রকারের সবজি চাষ লেবু চাষ, মধুপোকা পালন সহ মোটামুটি সবমিলিয়ে বলা চলে পরিকল্পিতভাবে কিভাবে ফটো ফ্রেমের মত কৃষিকে উপস্থাপিত করা যায় তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত দক্ষিণ ঘিলাতলীর অজিত দাস। শুনছিলেন আপনারা দীর্ঘক্ষণ এই বার্তার মধ্য দিয়ে অজিত বাবু বারবার বলতে চাইছিলেন জৈব চাষে চাষবাস করাটা একদিকে যেমন লাভজনক বিষয়ক, অন্যদিকে পরিবেশের পক্ষে ইতিবাচক। পাশাপাশি জৈব সার নিয়ে কেন এতটা আত্মবিশ্বাসী হয়েছেন সেটা বলতে গিয়ে অজিত বাবু খোলাখুলি জানিয়েছেন উনি চোখের সামনে দেখেছেন উনার বাবা কিভাবে দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্তিত হয়েছিলেন, সেই ক্ষেত্রে উনি সিদ্ধান্ত করেছেন আগামী দিনে যাতে মানুষ অন্তত কৃষির কু প্রভাবের দ্বারা প্রভাব গ্রস্ত হয়ে বিভিন্ন রোগে রোগাক্রান্ত না হয় তার জন্য জৈবচাষকে আঁকড়ে ধরেছেন। এই সময়ের মধ্যে গোটা রাজ্যের যে কয়েকজন কৃষক বিপরীত না ভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করে সমাজের বাকি কৃষকদের কৃষিকে পথ দেখাচ্ছেন তাদের মধ্যে একজন তেলিয়াপাড়া মহকুমার এই উদ্যমী কৃষক অজিত দাস। ইতিমধ্যে বিভিন্নভাবে নিজের সচেতন হওয়ার পাশাপাশি অন্যদেরকে সচেতন হওয়ার প্রশ্নে কৃষি দপ্তরের পাশাপাশি অজিত দাস ও প্রশংসার নজির স্থাপন করেছে। আজকের এই প্রতিবেদনের মধ্যে দাঁড়িয়েও সমাজের অন্যান্য কৃষকদের উদ্দেশ্যে বার্তা দিতে গিয়ে অজিত দাসের স্পষ্ট বক্তব্য হচ্ছে সবাই যাতে অকুতোভয় চিত্তে জৈব সার প্রয়োগ করে কৃষি কাজে এগিয়ে আসেন। তিনি যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী জৈব সার ব্যবহারের মধ্য দিয়ে কৃষিকাজ করলে আগামী দিনে ফলন যেমন বৃদ্ধি পাবে, এর পাশাপাশি পরিবেশও সুরক্ষিত থাকবে।যেখানে কৃষি দপ্তর কারি কারি টাকা খরচ করেও বলা চলে জৈব সার ব্যবহারের মধ্য দিয়ে কৃষিতে সাধারণ মানুষকে উৎসাহিত করতে পারছেন না, সেখানটায় অজিত দাসের মত পরিবেশ দরদী কৃষকরা দৃষ্টান্ত হয়ে উঠুক এটাই এই প্রতিবেদনের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়।



