বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স বা ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ভারত সরকারের একটি সীমান্ত প্রহরী সংস্থা।১৯৬৫ সালের ১ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠিত এই সংস্থা ভারতের আধাসামরিক বাহিনীর একটি অংশ এবং এর প্রাথমিক দায়িত্ব হল শান্তির সময় ভারতের আন্তর্জাতিক সীমান্ত পাহারা দেওয়া ও আন্তর্দেশীয় অপরাধ প্রতিহত করা। ভারতের অধিকাংশ আধাসামরিক বাহিনীর মতো বিএসএফ-ও ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণাধীন। এই বাহিনী দেশের অন্যতম আইন রক্ষাকারী সংস্থা হিসেবেও পরিচিত।বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ-এর ১৮৬টি ব্যাটেলিয়নে মোট ২৪০,০০০ জওয়ান কর্মরতর য়েছেনন বলে যানা যায়।এর মধ্যে মহিলা ব্যাটেলিয়নও বিদ্যমান। এদিকে গোটা রাজ্যজুড়ে বিএসএফের ভূমিকা নিয়ে অধিকাংশ জায়গায় অভিযোগ বরাবরই উঠে আসছে। আবারো বিএসএফের ভূমিকা নিয়ে একটি ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটলো কলমচৌড়া থানা দিন সাওরাতলি এলাকায়। জানা যায় সাওরাতলি এলাকায় এক কৃষক ধানের চারা রোপন করেন। রবিবার রাত সাড়ে ৮ ঘটিকার সময় ওই ধানের চারায় জল দেওয়ার জন্য জমিতে জান। তখন বক্সনগর বিওপির ১৫০ নম্বর ব্যাটেলিয়ান বিএসএফ এর জোওয়ানরা তাকে প্রচন্ড মারধর করেন। তার চিৎকার চেঁচামেচি শুনে এলাকাবাসীরা ছুটে আসেন। ছুটে এসে বিএসএফ জোয়ানদের অনুরোধ করতে থাকে তাকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য। তখন বিএসএফ জোওয়ানরা একপ্রকার ক্ষিপ্ত হয়ে এলাকাবাসীদের তাড়া করে। তখন তারা কোনোমতে ঘটনার স্থল থেকে দৌড়ে এসে যার যার ঘরে প্রবেশ করে। দরজা লাগিয়ে দেয়। অনেকেই ভয়ে ঘরের সিলিং এ পর্যন্ত উঠে যায়। তখন ঘরে প্রবেশ করতে না পেরে বন্দুক দিয়ে প্রহার করে ঘরের দরজা জানালা ভেঙ্গে ফেলার অনেক চেষ্টা করে। এমন কি বিশ্রী ভাষায় গালমন্দ করতে থাকেন। তড়িঘড়ি খবর দেওয়া হয় কলমচৌড়া থানায় ,খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন কলমচৌড়া থানার পুলিশ,এবং বক্সনগর পিওপির কোম্পানি কমান্ডার। এদিকে এলাকাবাসীরা আরও দাবি করেন ১৫০ নং ব্যাটেলিয়ানের বক্সনগর বিওপির বাবু নামে এক জোয়ান প্রতিনিয়ত এলাকার মহিলাদের দিকে কুনজর এমনকি রাত হলে মহিলাদের ঘরে প্রবেশ করার চেষ্টা করেন। বিএসএফের কোম্পানি কমান্ডারের নজরে ও এই বিষয়টি এর আগেও আনা হয়েছিল। কিন্তু ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এর বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। প্রতিনিয়ত মদমত অবস্থায় এসে এলাকার মহিলাদের উত্তপ্ত করার চেষ্টা করেন বলে বারবার অভিযোগ তুলছেন এলাকার মহিলারা। তবে আজকের এই ঘটনা পরিদর্শন করেন বক্সনগর বিওপির কোম্পানি কমান্ডার। কোম্পানি কমান্ডারের নিকট এলাকার মহিলারা ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন। এখন দেখার বিষয় কোম্পানির কমান্ডার এর ব্যবস্থা গ্রহণ করে কিনা। সেদিকে তাকিয়ে আছে গোটা এলাকার সাধারণ মানুষ জন। তবে যাই হোক এই ঘটনায় গোটা এলাকায় রীতিমতো চাঞ্চল্য এবং আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।



