বড়মুড়া পাহাড়ের পাদদেশে গড়ে উঠা দীর্ঘ প্রায় হাজার বছর পুরনো ঐতিহ্যবাহী হলংসিকি মন্দিরের চলছে শিব চতুর্দশীর পূজার্চনা। রাজ্যের অন্যান্য হিন্দু ধর্মাবলম্বী জাতি উপজাতি সকল অংশের মানুষেরা ধর্মীয় নিয়ম নীতি অনুসারে শিব চতুর্দশী উপলক্ষে পূজোর্চনা সামিল হয় বিভিন্ন শিব মন্দির গুলিতে। রাজ্যের অন্যান্য স্থানের মতোই ধর্মীয় রীতিনীতি অনুসারে শিব চতুর্দশী উপলক্ষে সামিল হয় বড়মুড়া পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত তেলিয়ামুড়া এবং মান্দাই ব্লকের মধ্যস্থলে স্থিত হলংসিকি মন্দির তথা ধনেশ্বরী মন্দিরে। দীর্ঘ প্রায় হাজার বছর পূর্বে রুপিনী সম্প্রদায়ের উপজাতি গিরিবাসিরা জুম চাষ করার সময় বিশাল আকার পাথর রূপে হলংসিকি তথা ধনেশ্বরী মায়ের আবির্ভাব ঘটে। সে সময় থেকে জাঁকজমকভাবে শিবচতুর্দশী উপলক্ষে এই মন্দিরে পূজোর্চনা না হলেও ১৯৮১ সালে এলাকাবাসীদের যৌথ উদ্যোগে শুরু হয় চতুর্দশী উপলক্ষে ধনেশ্বরী দেবীর পূজার্চনা এবং দুই দিনব্যাপী মেলা। সেই সময় থেকে প্রায় ৪৩ বছর ধরে যথাযোগ্য মর্যাদায় শিবচতুর্দশী উপলক্ষে ধনেশ্বরী দেবীর পূজার্চনা এবং মেলার আয়োজন করে থাকে উদ্যোক্তারা। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তর থেকে জাতি-উপজাতি সকল অংশের মানুষজনেরা নিজেদের মনের বাসনা পূরণ করার কামনার্থে শিব চতুর্দশীর দিন পূজার্চনা না করে থাকে এই হলংসিকি মন্দিরে। জানা গেছে, এই ধনেশ্বরী মন্দিরে পূর্ব রীতিনীতি অনুসারে বলির প্রথাও চালু রয়েছে। তবে এই মন্দিরের প্রতি সরকারি ভাবে কোন উদ্যোগ না গ্রহণ করাতে মন্দিরটি ভগ্নদশা পরিণত হয়েছে। উদ্যোক্তাদের অভিযোগ, দুস্কি এলাকা থেকে হলংসিকি তথা ধনেশ্বরী মন্দিরে রাস্তাটি বেহাল দশায় পরিণত হয়ে রয়েছে। ফলে দূর দূরান্ত থেকে আগত পূর্ণ্যার্থীরা আসা-যাওয়া করতে খুবই অসুবিধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। বারবার প্রশাসনের কাছে রাস্তাতে সংস্কারের দাবি জানিয়ে থাকলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি।।



