রাজ্যের পূর্ত দপ্তর কাজের গুণগতমান এবং সাধারণ নাগরিকদের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখেই সর্বদা কাজ করে থাকে। দপ্তরের ইঞ্জিনীয়ারগণ কাজের গুণগতমান বজায় রাখার জন্য সময় সময় নির্মাণ কার্য পরিদর্শন এবং পর্যবেক্ষণ করে থাকেন। কুমারঘাটের সোনাইমুড়ি থেকে তেলিয়াছড়া গ্রামে যাওয়ার জন্য মনু নদীর উপর নির্মিত সেতু ভেঙে যাওয়ার যে সংবাদ আজ রাজ্যের বিভিন্ন প্রভাতী দৈনিক এবং সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে সে সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে সচিবালয়ের প্রেস কনফারেন্স হলে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে পূর্ত দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্যে একথা বলেন।
সচিব কিরণ গিত্যে সাংবাদিক সম্মেলনে প্রকাশিত সংবাদের স্পষ্টিকরণ দিয়ে জানান, নির্মীয়মান এই সেতুর মোট দৈর্ঘ্য ১৪০ মিটার। এতে মোট ৪টি স্প্যান থাকবে। গত তিন বছর ধরে এই সেতুর নির্মাণ কাজ চলছে। ৪টি স্প্যানের মধ্যে ইতিমধ্যেই ৩টি স্প্যানের নির্মাণ (প্রত্যেকটি ৩৫ মিটার করে) কাজ শেষ। মাঝের একটি স্প্যান নির্মাণের কাজ বাকি। এরই প্রাথমিক পর্যায়ের সাটারিং ও সেন্টারিং সংশ্লিষ্ট কনস্ট্রাকশন এজেন্সির পক্ষ থেকে গত কিছুদিন পূর্বে শেষ করা হয়েছিল। তিনি বলেন, এই স্প্যান নির্মাণের কাজ আগামী ২-৩ মাসের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ইতিমধ্যেই ঐ এলাকায় কয়েকবার কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যায়। ফলে নদীতে জলস্রোত বৃদ্ধি পেয়ে যায় এবং স্প্যান নির্মাণের সাটারিং ও সেন্টারিং ক্ষতিগ্রস্ত হয় যা পরবর্তীতে ভেঙে পড়ে। এই ভেঙে যাওয়া সাটারিং ও সেন্টারিং-এর ছবিই বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে আজ প্রকাশিত হয়েছে। অর্থাৎ সংবাদে প্রকাশিত ব্রিজ ভেঙে যাওয়ার ঘটনা সম্পূর্ণ অসত্য। পূর্ত দপ্তরের সচিব আরও বলেন, বর্তমানে রাজ্যে বিভিন্ন রাস্তায় এবং রেল ট্র্যাকের উপর প্রায় ৫০টির বেশী ব্রিজ নির্মাণ করা হচ্ছে। তাই এই ধরণের সংবাদ রাজ্যের জনগণের মনের মধ্যে যাতে ভীতির সঞ্চার না করে তার জন্য তিনি সকলের প্রতি সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে আহ্বান রাখেন। সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পূর্ত দপ্তরের (সড়ক ও সেতু)-এর চিফ ইঞ্জিনীয়ার রাজীব মজুমদার সহ অন্যান্য আধিকারিকগণ।



