রাজ্যে দুধের উৎপাদন ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। দুগ্ধ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের জন্য রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আজ রাজ্য বিধানসভায় বিধায়ক নির্মল বিশ্বাস এবং বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মনের এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে প্রাণীসম্পদ বিকাশ মন্ত্রী সুধাংশু দাস এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, ২০২২-২৩ সালে রাজ্যে দুধ উৎপাদিত হয়েছে ২,৩০, ১১৫ মেট্রিকটন। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা বেড়ে হয়েছে ২,৪৭,৩০৫ মেট্রিকটন। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দুধের উৎপাদন আরও বেড়ে হয়েছে ২,৬৩,৬৯০ মেট্রিকটন। এই মুহূর্তে রাজ্যে দুধের চাহিদা রয়েছে ৩,০৩,৪৮০ মেট্রিকটন।
প্রাণীসম্পদ বিকাশমন্ত্রী জানান, রাজ্যে দুগ্ধ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের জন্য দপ্তর বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কৃত্রিম প্রজনন কর্মসূচি, পশু খাদ্য ও পুষ্টি উন্নয়ন কর্মসূচি, কৃত্রিম প্রজননের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের প্রশিক্ষণ, গোকুল গ্রাম স্থাপন, সংকর প্রজাতির প্রজননক্ষম দামরি বাছুর বিতরণ, অধিক দুগ্ধ উৎপাদনে উৎসাহ প্রদান ইত্যাদি। তিনি জানান, কৃত্রিম প্রজনন কর্মসূচিতে মুখ্যমন্ত্রী উন্নত গোধন প্রকল্পের মাধ্যমে লিঙ্গ নির্ধারিত বীজ ব্যবহার করে অধিক দামরি বাছুর উৎপাদন এবং দুধ উৎপাদন বৃদ্ধি নিশ্চিত করা হয়। উন্নতজাতের বীজ ব্যবহারের মাধ্যমে গবাদি পশুর জিনগত উন্নয়ন করা হয়। যার ফলে দুধের উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। পশু খাদ্য ও পুষ্টি উন্নয়ন কর্মসূচির অন্তর্গত মুখ্যমন্ত্রী প্রাণীসম্পদ বিকাশ যোজনার অধীনে বাছুরের সুষম খাদ্য ব্যবস্থাপনা করা হয়। চলতি অর্থবছরে মোট ৮ হাজারটি বাছুরকে সুষম খাদ্য ব্যবস্থাপনার আওতায় আনা হয়েছে। সবুজ ঘাস উৎপাদন ও পুষ্টি সংক্রান্ত পরামর্শ প্রদানের মাধ্যমে পশুর দুধ উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি করা হয়। এছাড়া কৃত্রিম প্রজননের সঙ্গে যুক্ত বেকার যুবক যুবতীদের এ.আই. সেবা প্রদান ও বাছুর জন্মের জন্য ইনসেনটিভদেওয়া হয়। তাদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন সময়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। এছাড়াও নতুন বেকার যুবক যুবতীদের কৃত্রিম প্রজনন বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।
প্রাণীসম্পদ বিকাশ মন্ত্রী জানান, দেশীয় জাতের উন্নয়ন এবং প্রাণীপালনকারীদের জন্য উন্নত প্রজাতির প্রজননক্ষম গাভি প্রতিপালনের উদ্দেশ্যে গোকুল গ্রাম স্থাপন করা হচ্ছে। এছাড়া প্রাণীপালনকারীদের প্রাকৃতিক প্রজননের জন্য উন্নত প্রজাতির প্রজননক্ষম সংকর দামরি বাছুর বিতরণ করা হয়। তিনি জানান, অধিক দুগ্ধ উৎপাদনকারী গোপালকদের উৎসাহিত করার জন্য কাফ র্যালি এবং দুগ্ধ উৎপাদন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয় ও বিজয়ীদের পুরস্কার প্রদান করা হয়।



