আগরতলা পুরনিগমের অধিকাংশ এলাকায় জল সরবরাহের জন্য উন্নতমানের ডাকটাইল আয়রন (ডি.আই) পাইপ ব্যবহার করা হয়। মূল পাইপলাইনগুলি সবই ডাকটাইল আয়রন পাইপ। গলিপথগুলিতে আগে পি.ভি.সি. পাইপ ব্যবহার করা হতো। বর্তমানে আরও উন্নত তথা হাইডেনসিটি পলিথাইলিন (এইচ.ডি.পি.ই.) পাইপ ব্যবহার করা হচ্ছে। আজ রাজ্য বিধানসভায় আগরতলা পুরনিগম এলাকায় জল সরবরাহ সম্পর্কিত বিধায়ক গোপাল চন্দ্র রায়ের এক প্রশ্নের উত্তরে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা এতথ্য জানান। তিনি জানান, অনেক এলাকাতেই পুরোনো পাইপ পরিবর্তন করে নতুন পাইপলাইন বসানোর কাজ চলছে। এরমধ্যে প্রায় ২৫ শতাংশ পুরোনো পাইপ পরিবর্তন করা হয়েছে। আরও কিছু পাইপলাইন পরিবর্তন করার কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে আগরতলা পুরনিগম এলাকায় ১৩টি সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এস.ডব্লিউ.টি.পি.) ও গ্রাউন্ড ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (জি.ডব্লিউ.টি.পি.)-এর মাধ্যমে জল সরবরাহ করা হয়ে থাকে। এছাড়াও ৩১টি মোডিফায়েড আয়রন রিম্যুভাল প্ল্যান্ট (এম.আই.আর.পি.) এবং ৬টি প্যাকেজড টাইট আয়রন রিম্যুভাল প্ল্যান্ট (পি.আই.আর.পি.) ও ৭৭টি গভীর নলকূপের মাধ্যমে পানীয়জল সরবরাহ করা হয়। তিনি বলেন, আগরতলা পুরনিগম এলাকায় যে পরিমাণ জল সরবরাহ করা হয় তার মধ্যে ২৫ শতাংশ সারফেস ওয়াটার এবং ৭৫ শতাংশ গ্রাউন্ড ওয়াটার। যে সমস্ত এলাকায় জলে আয়রনের পরিমাণ বেশি থাকে সেখানে দপ্তর জি.ডব্লিউ.টি.পি. এম.আই.আর.পি. পি.আই.আর.পি. তৈরি করে আয়রনের পরিমাণ নিয়ন্ত্রিত মাত্রায় এনে জল সরবরাহ করা হচ্ছে।
মখ্যমন্ত্রী বলেন, আগরতলা পুরনিগম এলাকায় ১৪০৭৫২টি পরিবার রয়েছে। এরমধ্যে ৯০২৬ ১টি পরিবারের ৩৬১০৫০ জনকে পানীয়জলের সংযোগ দেওয়া হয়েছে। প্রতিদিন ৭০ মিলিয়ন লিটার জল সরবরাহ করা হচ্ছে। যে সকল পরিবারকে জলের সংযোগ দেওয়া হয়নি তাদের মধ্যে অনেকেই রাস্তার পার্শ্ববর্তী হাইড্রেন্ট থেকে জল সংগ্রহ করে। অনেকের বাড়িতে নিজস্ব সোর্স হিসেবে স্যালু টিউব ওয়েল। স্মল বোর টিউব ওয়েল রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, জলের গুণগতমান পরীক্ষা করার জন্য প্রত্যেক ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টে জল পরীক্ষাগার আছে। প্রতিদিন সেখানে জলের গুণগতমান পরীক্ষা করা হয়। এছাড়াও প্রত্যেক ওয়ার্ডে স্বসহায়ক দলের সদস্যদের অমরুত মিত্র হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। তারা দপ্তর থেকে দেওয়া ফিল্ড টেস্ট কিট (এফ.টি.কে.)-এর মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি গিয়ে জলের গুণগতমান পরীক্ষা করে জল ব্যবহারকারী গ্রাহকদের জানিয়ে দেন।
গত বছর থেকে অমরুত মিত্রদের দিয়ে পুরনিগম এলাকার প্রতিটি ওয়ার্ডে ‘আপনার জলের ট্যাঙ্ক পরিষ্কার করুন’ কর্মসূচি করানো হয়েছে এবং বাড়িতে বাড়িতে লিফলেট দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেকেই যাতে ৬ মাসে একবার বাড়ির ট্যাঙ্ক পরিষ্কার করেন সেজন্য এই কর্মসূচিতে প্রচার চালানো হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মরিয়মনগর এবং সুভাষনগর এলাকায় দুটি এমআইআর.পি. বসানোর কাজ এগিয়ে চলেছে। চলতি বছরের জুলাই মাসের মধ্যে এর কাজ শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি জানান, নেতাজি আদর্শ শিক্ষামন্দিরে ৫.৫ মিলিয়ন লিটার পার ডে (এম.এল.ডি.) ক্ষমতা সম্পন্ন জি.ডব্লিউ.টি.পি. বসানোর জন্য বরাত দেওয়া হয়েছে। এর কাজ শুরু হয়েছে এবং এই প্রকল্পটি ২০২৬-এর ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি জানান, গভীর নলকূপের সঙ্গে এম.আই.আর.পি. যুক্ত করে বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে এবং দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। এই প্রকল্পগুলির কাজ শেষ হলে আগরতলা পুরনিগমে যে সমস্ত এলাকায় পানীয়জলের সমস্যা রয়েছে তা অনেকটা কমে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।



