Tuesday, March 17, 2026
বাড়িখবররাজ্যরাজ্যপালের ভাষণে রাজ্য সরকারের জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির রূপরেখা ফুটে উঠেছে: পরিষদীয় মন্ত্রী

রাজ্যপালের ভাষণে রাজ্য সরকারের জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির রূপরেখা ফুটে উঠেছে: পরিষদীয় মন্ত্রী

বিধানসভায় রাজ্যপালের ভাষণের উপর আনা ধন্যবাদসূচক প্রস্তাবের উপর আলোচনা আজ শুরু হয়েছে। বিধানসভার অধিবেশনের দ্বিতীয়ার্ধে পরিষদীয় মন্ত্রী রতনলাল নাথ ধন্যবাদসূচক প্রস্তাবের উপরে আলোচনার সূচনা করেন। আজ আলোচনায় অংশ নেন বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী, বিধায়ক বীরজিৎ সিনহা, বিধায়ক নির্মল বিশ্বাস এবং বিধায়ক তফাজ্জল হোসেন।

রাজ্যপালের ভাষণের উপর ধন্যবাদসূচক প্রস্তাবের উপর আলোচনার সূচনা করে পরিষদীয় মন্ত্রী রতনলাল নাথ রাজ্যপালকে অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, রাজ্যপাল তাঁর বক্তব্যের মাধ্যমে রাজ্য সরকারের জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির রূপরেখা তুলে ধরেছেন।

রাজ্যের অগ্রযাত্রায় এবং জনকল্যাণে সরকারের সদূর প্রসারী দৃষ্টিভঙ্গী রাজ্যপালের বক্তব্যে উঠে এসেছে। রাজ্যপাল তাঁর বক্তব্যের মাধ্যমে সব অংশের মানুষের জন্য রাজ্য সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মসূচির কথাই তুলে ধরেছেন। কিভাবে বিকশিত ত্রিপুরা গঠিত হবে তার সুর তিনি বেঁধে দিয়েছেন। পরিষদীয় মন্ত্রী বলেন, এক ত্রিপুরা শ্রেষ্ঠ ত্রিপুরা এবং বিকশিত ত্রিপুরা গড়ার লক্ষ্যকে সামনে রেখে রাজ্য ধারাবাহিকভাবে অগ্রগতির পথে এগিয়ে চলেছে। এই অগ্রযাত্রায় দক্ষতা উন্নয়ন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রসার এবং যুব সমাজকে স্বনির্ভর করে তোলার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে তিনি আয়ুষ্মান ভারত, পিএম-কিষাণ, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, স্বচ্ছ ভারত মিশন প্রভৃতি প্রকল্পগুলির সাফল্যের কথা তুলে ধরেন। পরিষদীয় মন্ত্রী সহায়ক মূল্যে ধান ক্রয়, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও নানাক্ষেত্রে সরকারের উদ্যোগ ও অগ্রগতির দিকগুলো উল্লেখ করেন। তিনি ক্রীড়া, সংগীত, নৃত্য, ভাষ্কর্য, চিত্রশিল্প প্রভৃতি ক্ষেত্রে রাজ্যের ছেলেমেয়েদের সাফল্যের তথ্যও তুলে ধরেন। তিনি রাজ্যের ক্রীড়াক্ষেত্রের উল্লেখযোগ্য সাফল্যের কথা বিশেষভাবে তুলে ধরেন। তিনি জানান, রাজ্যের ক্রীড়াবিদরা বিভিন্ন জাতীয় প্রতিযোগিতায় অসাধারণ কৃতিত্ব প্রদর্শন করে ৬৮টি স্বর্ণ, ৬৯টি রৌপ্য এবং ৬২টি ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করেছেন। এই সাফল্য নিঃসন্দেহে রাজ্যের জন্য এক গৌরবজনক এবং ক্রীড়াক্ষেত্রে অগ্রগতির এক উজ্জল দৃষ্টান্ত।

তিনি তার বক্তব্যে রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নয়ন, কৃষি পরিকাঠামোর সম্প্রসারণ এবং কৃষকদের মধ্যে আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি বিতরণের বিষয়গুলো বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি পর্যটন শিল্পের বিকাশে কথাও তুলে ধরে তিনি জানান, এই শিল্পে রাজ্য ক্রমশ এগিয়ে চলছে। তিনি আরও বলেন, রাজ্যে সোলার এনার্জির ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

কৃষিক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। রাজ্যের উৎপাদিত কৃষি পণ্য এখন বিদেশেও রপ্তানি করা হচ্ছে, যা অতীতে কখনো ঘটেনি। তাছাড়াও কৃষি পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী করতে রাজ্যের কৃষি মহকুমা ও কৃষি সেক্টর অফিসের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে। তিনি বিরোধী দলের সদস্যদের আনা ১৪৭টি সংশোধনী প্রস্তাবের বিরোধীতা করেন এবং বিকশিত ত্রিপুরা গড়তে সবার প্রতি আহ্বান জানান।

আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী বলেন, রাজ্যপালের ভাষণে রাজ্যের প্রকৃত চিত্র ফুটে উঠেনি। রাজ্য সরকারের বিভিন্ন কাজের তিনি সমালোচনা করেন। আজ আলোচনায় অংশ নেন বিধায়ক বীরজিৎ সিনহা, বিধায়ক নির্মল বিশ্বাস এবং বিধায়ক তফাজ্জল হোসেন।

RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

five × 2 =

- Advertisment -spot_img

জনপ্রিয় খবর

সাম্প্রতিক মন্তব্য