সড়ক দুর্ঘটনার শিকার ব্যক্তিদের তাৎক্ষনিক চিকিৎসা পরিষেবা যাতে বাধাপ্রাপ্ত না হয় তারজন্য শুরু করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রী রাহত (PM-RAHT) প্রকল্প। কেন্দ্রীয় সড়ক, যোগাযোগ এবং মহাসড়ক মন্ত্রকের অধীনে এই প্রকল্প পরিচালিত হবে। এই প্রকল্পে দুর্ঘটনার শিকার ব্যক্তিদের হাসপাতালে সর্বোচ্চ ৭দিনের চিকিৎসা করানোর জন্য সর্বাধিক ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা সহায়তা করা হবে। যদিও এর অতিরিক্ত অর্থ চিকিৎসা পরিষেবা গ্রহণকারী ব্যক্তিদের পরিবারকেই বহন করতে হবে। আজ সচিবালয়ের প্রেস কনফারেন্স হলে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে এই প্রকল্প সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে একথা বলেন পরিবহন মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী। তিনি বলেন, পরিবহন, আরক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তর যৌথভাবে এই প্রকল্প বাস্তবায়নে সহযোগিতা করবে।
সাংবাদিক সম্মেলনে পরিবহনমন্ত্রী জানান, সড়ক দূর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা পরিষেবা পেতে যাতে কোন সমস্যা না হয়, তারজন্য এই প্রকল্প শুরু করা হয়েছে। এই সম্পর্কিত ভার্চুয়াল মিটিং গতকাল কেন্দ্রীয় সড়ক, যোগাযোগ এবং মহাসড়ক মন্ত্রী নীতিন গড়করি এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। সাংবাদিক সম্মেলনে পরিবহন মন্ত্রী আরও বলেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে যাতে কেউ টাকার অভাবে চিকিৎসা পরিষেবা থেকে বঞ্চিত না হন সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। রাজ্যে ৭টি বেসরকারি হাসপাতাল সহ মোট ১৪১টি ছোট বড় এবং রাজ্যস্তরীয় হাসপাতাল এই প্রকল্পের আওতায় নথিভুক্ত করা হয়েছে। যেখানে দুর্ঘটনার শিকার ব্যক্তিদের নিয়ে গেলে কোন ধরণের দেরি কিংবা প্রশাসনিক কারণ দেখিয়ে পরিষেবা শুরু করার কাজ দেরি করা যাবে না। পরিবহন মন্ত্রী আরও জানান, ইতিমধ্যে রাজ্যে রাহ-বীর স্কিম চালু রয়েছে। যার মাধ্যমে দুর্ঘটনা হওয়ার প্রথম ১ ঘন্টার মধ্যে যদি কেউ দুর্ঘটনার শিকার ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে যান তাহলে সরকারের পক্ষ থেকে ২৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। এই প্রকল্পে এখন পর্যন্ত রাজ্যে ৯ জনকে এবং জাতীয়স্তরে ১ জন ডিএসপি’কে সম্মানিত করা হয়েছে। সাংবাদিক সম্মেলনে পরিবহন মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী আশা প্রকাশ করেন এই প্রকল্পের ফলে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর হার অনেকাংশ হ্রাস করার সম্ভব হবে। এছাড়া দুর্ঘটনার শিকার পরিবারের সদস্যদের আর্থিক ব্যয়ভার অনেকটা লাঘব করা যাবে। তিনি বলেন, রাজ্যে এই প্রকল্প চালু করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনা ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়ে গেছে।
সাংবাদিক সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পরিবহন দপ্তরের সচিব ইউ কে চাকমা, আই জি (আইনশৃঙ্খলা) মনচাক ইপ্পার, রাজ্যে আয়ুষ-এর সিইও শরদ নায়ার এবং পরিবহন দপ্তরের অতিরিক্ত সচিব সুব্রত চৌধুরী।



