শহরের প্রকৃত উন্নয়ন কেবল রাস্তা, ভবন বা আলোকসজ্জায় সীমাবদ্ধ নয়। বরং পরিবেশ সংরক্ষণ, জলসম্পদ রক্ষা, প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা, নাগরিকদের জন্য স্বাস্থ্যকর ও নান্দনিক জনপরিসর গড়ে তোলাই উন্নয়নের প্রকৃত মানদন্ড। প্রতাপগড় ঋষি কলোনির পুকুর পুনরুদ্ধার ও সাজিয়েতোলা বর্তমান সরকারের সেই বৃহত্তর দৃষ্টিভঙ্গীরই প্রতিফলন। আজ আগরতলা পুরনিগমের অন্তর্গত প্রতাপগড়ের ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডের ঋষি কলোনিতে অবস্থিত পুকুরের সংস্কার ও সৌন্দর্যাবর্ধন কাজের উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা একথা বলেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান রাজ্য সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার কেন্দ্রে রয়েছে টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নগরায়ণ। তিনি বলেন, বর্তমান রাজ্য সরকার আগরতলা শহর সহ রাজ্যের নগর এলাকাগুলির এবং প্রান্তিক এলাকাগুলির সমন্বিত উন্নয়নের লক্ষ্যে পরিকল্পিতভাবে কাজ করে চলছে। রাস্তা, পয়প্রণালী ব্যবস্থা, বিশুদ্ধ পানীয় জল সরবরাহ, পার্ক তৈরী, আবাসন প্রকল্প সব ক্ষেত্রেই কাজ চলছে। একসময় বৃহত্তর আগরতলা সহ রাজ্যের বিভিন্ন জায়গার জলাশয়গুলি সংস্কারের অভাবে অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় ছিল। সেগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণ করা সরকারের দায়িত্ব। এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী অমৃত সরোবর প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা তুলে ধরেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ঋষি কলোনীর পুকুরের সৌন্দর্যায়ণ প্রকল্প অতি অল্প সময়ে রূপায়ণ করা হয়েছে। এতে প্রমাণিত হয় বর্তমান সরকার শুধু কথায় নয় কাজের মাধ্যমেই নিজেকে প্রমাণ করতে জানে। বর্তমানে ত্রিপুরায় প্রায় ১৩০০ কোটি টাকার বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ চলছে। মুখ্যমন্ত্রী রাজ্য সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের সাফল্যের চিত্র তুলে ধরেন। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গত ১৮ নভেম্বর আমুত ২.০ স্কীমে আগরতলা পুরনিগম এলাকায় নগর উন্নয়ন দপ্তরের অধীনে প্রায় ১১২ কোটি টাকা ব্যয়ে ত্রিপুরা জল বোর্ডের বিভিন্ন প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়েছে। গত ৩০ ডিসেম্বর আগরতলা শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ড এলাকায় পানীয় জল প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। টুডা-এর মাধ্যমে একাধিক টাউনশিপ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। আর্থিকভাবে দুর্বল অংশের মানুষের জন্য লাইট হাউজ প্রকল্প নির্মাণের কাজ চলছে। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা (আরবান) ২.০ প্রকল্পে রাজ্য ৮১,০৪২টি বাড়ি নির্মাণের অনুমোদন পেয়েছিল। এর মধ্যে ৭৪ হাজার ৮৮০টি বাড়ির কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে। এডিবির সহায়তায়ও বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কাজ চলছে। রাজ্যের ২০টি শহর এলাকায় জিআইএস মাস্টার প্ল্যান তৈরি করার কাজ চলছে। এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী আগরতলা রিং রোড, ইউনিটি মল, গুর্খাবস্তিতে জি+১৪ অফিস বিল্ডিং, শহরের জল নিষ্কাশন প্রণালী ইত্যাদি প্রকল্প রূপায়ণের কথা তুলে ধরেন।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বিগত দিনে ঋষি কলোনীর অবস্থা স্থানীয় মানুষ দেখেছেন। বর্তমানের পরিবর্তনও মানুষ পরখ করতে পারছে। রাজ্যের মানুষ সরকারের উন্নয়নের চিত্র আজ উপলব্ধি করতে পারছেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই সরকার জনদরদী সরকার। বর্তমান সরকার ভোট পাবার আশায় কাজ করে না। মানুষের উন্নয়নই সরকারের মূল লক্ষ্য। বর্তমান সরকার মহিলাদের আত্মনির্ভর করতে বিভিন্ন প্রকল্প রূপায়ণ করছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মার্গ দর্শনে দেশ নুতন ভারত গড়ার দিকে এগিয়ে চলছে। বর্তমানে বিভিন্ন উন্নয়মূলক প্রকল্প বাস্তবায়ণের মধ্য দিয়ে নতুন ত্রিপুরা গড়ার কাজ চলছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারের এই উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলি রক্ষায় স্থানীয় মানুষদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প রূপায়ণে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অনুষ্ঠানে আগরতলা পুরনিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার বলেন, বর্তমান সরকার শহরের নাগরিক স্বাচ্ছন্দ, সুস্থ পরিবেশ জনগণকে দেওয়ার উদ্দেশ্যে উপেক্ষিত জলাশয় তথা পুকুরগুলির সাজিয়ে তোলার চেষ্টা চালাচ্ছে। এই প্রকল্পটি রূপায়ণে প্রায় ৩ কোটি ২৪ লক্ষ টাকা ব্যয় হয়েছে। বর্তমান সরকার রাজ্যের শহর এলাকার উন্নয়নের পাশাপাশি প্রান্তিক জনপদের উন্নয়নেও কাজ করে চলছে। রাজ্যের মানুষ বর্তমান সরকারের উন্নয়নমূলক চিত্র প্রত্যক্ষ করতে পারছেন। রাজ্য সরকারের জনকল্যাণমুখী প্রকল্পগুলির রক্ষণাবেক্ষণে এলাকাবাসীকে এগিয়ে আসতে মেয়র শ্রী মজুমদার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে ধন্যবাদসূচক বক্তব্য রাখেন পুরনিগমের ডেপুটি মেয়র মনিকা দাস দত্ত। স্বাগত বক্তব্য রাখেন আগরতলা পুরনিগমের ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মিহির কান্তি গোপ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কর্পোরেটর অভিজিৎ মল্লিক, সমাজসেবী স্বপ্না দাস, অসীম ভট্ট াচার্য্য, নগরোন্নয়ন দপ্তরের সচিব মিলিন্দ রামটেকে, নগরোন্নয়ন দপ্তরের অধিকর্তা মেঘা জৈন প্রমুখ।



